• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবন ১৪২৫, ১৮ জিলকদ ১৪৪০

বিশেষজ্ঞ অভিমত

রোহিঙ্গাদের সহায়তার তথ্য প্রকাশ করা উচিত

কত অংশ এনজিও ও জাতিসংঘ সংস্থাগুলো পরিচালনায় ব্যয় হচ্ছে তা জানা প্রয়োজন

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ০২ ডিসেম্বর ২০১৮

রোহিঙ্গা ত্রাণ সহায়তার অর্থনৈতিক বিবরণ জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল কোস্ট ট্রাস্ট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তারা এই মন্তব্য করেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবিলায় প্রাপ্ত সহায়তার কত অংশ রোহিঙ্গাদের জন্য এবং কত অংশ আন্তর্জাতিক এনজিও ও জাতিসংঘ অঙ্গসংস্থাগুলোর পরিচালনা করতে ব্যয় হয়েছে সেই তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন। কারণ ত্রাণের ২৫% স্থানীয় অধিবাসীদের কল্যাণে ব্যবহার করার কথা থাকলেও তার বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ইন্টিগ্রেশন অফ গ্রান্ড বারগেন কমিটমেন্টস অ্যান্ড লোকালাইজেশন : এইড ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড সলিডারিটি এপ্রোচ’ শীর্ষক আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মুখ্য সচিব এবং পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কেএম আবদুস সালাম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ উইংয়ের মহাপরিচালক নাহিদা সোবহান, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সাপো, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর বাংলাদেশ প্রধান জর্জ জিওগারি, ইউএনএইচসিআর-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি পাপা কাইসমা সিলা, অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি এবং গ্লোবাল লোকালাইজেশন ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য অনিতা কাট্টাখুজি, কক্সবাজার সিএসও অ্যান্ড এনজিও ফোরাম কো-চেয়ার আবু মুর্শেদ চৌধুরী, এডাবের পরিচালক জসিম উদ্দীন, ডিজাস্টার ফোরামের গওহর নঈম ওয়ারা এবং কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর একেএম মুসা। কোস্ট ট্রাস্টের রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন একই সংস্থার মো. মজিবুল হক মনির।

অক্সফার্ম ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই সভায় রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় গৃহীতব্য জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) ২০১৯-এ কক্সাবজারের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি এবং পরিবেশের উন্নয়নে মানবিক এবং উন্নয়ন কর্মসূচির পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। আলোচনা সভায় বাংলাদেশে স্থানীয়করণের ওপর একটি সমীক্ষার ফলাফলও তুলে ধরা হয়।

মুজিবুল হক মনির বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘ অঙ্গসংস্থাগুলো এই পর্যন্ত যে ৬৮২ মিলিয়ন ডলার তহবিল পেয়েছে, তাতে প্রতিটি রোহিঙ্গার জন্য মাথাপিছু করে প্রায় ৫৭ হাজার টাকা এসেছে। এই তহবিলের কত অংশ রোহিঙ্গাদের জন্য আর কত অংশ সংস্থাাগুলোর প্রধান কার্যালয় বা মাঠপর্যায়ে তাদের পরিচালন ব্যয় বাবদ কত খরচ হয়েছে এই বিষয়েও তথ্য প্রকাশ করা উচিত।

নাহিদা সোবহান বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য টেকসই, নিরাপদ এবং স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন। এই মানবিক সংকটে বৃহত্তর সমন্বয় খুব প্রয়োজন। স্থানীয় এনজিওদের এই সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করতে হবে।

মিয়া সাপ্পো বলেন, রোহিঙ্গাদের মায়ানমার তাড়িয়ে দিয়েছে, তাদের ফিরিয়ে নেয়ার দায়িত্ব মায়ানমারের। রোহিঙ্গা সমস্যায় সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ পুরো পৃথিবীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা একসঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করছে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে স্থানীয় এনজিওগুলোর সমন্বয় প্রয়োজন। কারণ, অংশীদারিত্বই আমাদের প্রয়াসে সাফল্য আনতে পারে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মান জানাতে হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমে আমাদের আরও বেশি বিনয়ী এবং সহযোগিতার মনোভাব সম্পন্ন হতে হবে এবং উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে আমাদের আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

পাপা কাইসমা সিলা বলেন, কক্সবাজারের জনগণের উপর থেকে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা কমিয়ে আনা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। নিরাপদ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনই এক্ষেত্রে সবচেযে কার্যকরী সমাধান। মায়ানমার সরকারের সঙ্গেও আমাদের কাজ করতে হবে, যাতে এই রোহিঙ্গারা নিরাপদে ফিরে যেতে পারে।

আবু মুর্শেদ চৌধুরী রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দের মোট ২৫% স্থাানীয় অধিবাসীদের জন্য বরাদ্দ করার জাতিসংঘের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জাতিসংঘের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) ২০১৯ এ স্থাানীয় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সুপারিশ করে।

কে এম আব্দুস সালাম বলেন, প্রত্যাবাসন বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কাজ করা উচিৎ নয়। এনজিওদের কাজ মানবিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।

বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সঙ্গে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি জড়িত। কাজেই তাদের নিরাপদ প্রত্যাবসনের আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের অধিকার এবং মর্যাদা রক্ষায় আমাদেরকে সচেষ্ট থাকতে হবে। আমাদেরকে শুধু উন্নয়ন সহায়তার স্বচ্ছতা নয়, উন্নয়ন সহায়তার কার্যকারিতা নিয়েও ভাবতে হবে। কক্সবাজার জেলায় পরিবেশ, শিক্ষা ও অর্থনীতির ক্ষতি মোকাবেলায় সরকার , আইএনজিও এবং জাতিসংঘ মিলে একটি মানবিক ও উন্নয়ন বিষয়ক সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে বলেও তারা জানান। বড় দাতা সংস্থা গুলোর উপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা বলেন, উন্নয়ন সহায়তার স্থাানীয়করণের ব্যাপারে সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কিন্তু মূল চালিকাশক্তি বড় দাতা সংস্থাাগুলো, জাতিসংঘ বা আইএনজিও নয়। আমরা কিভাবে তাদের সম্পৃক্ত করতে পারি সেটা নিয়ে আলোচনা করতে হবে।