• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ রবিউস সানি ১৪৪১

রেলওয়ে শিডিউল বিপর্যয়, বাস সংকট

চরম দুর্ভোগ ঈদ যাত্রায়

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , রোববার, ১১ আগস্ট ২০১৯

image

ঈদযাত্রা : গতকাল কমলাপুর রেলস্টেশনের চিত্র -সংবাদ

ঈদযাত্রায় রেলওয়ের শিডিউলে মহাবিপর্যয় নেমেছে। গতকাল প্রতিটি ট্রেন কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে গেছে ৮-১২ ঘণ্টা বিলম্বে। ভেঙে পড়েছে ট্রেনের সময়সূচি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রেলপথের যাত্রীরা। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের। রেলওয়ে অগ্রিম টিকিট ক্রয়ের সময় দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এবার যাত্রার সময় দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। সকালের ট্রেনে যাত্রা করতে হচ্ছে সন্ধ্যায়। রেলওয়ে প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণে এই বিপর্যয় তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। রেল কর্তৃপক্ষ বলছেন গত শুক্রবার টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপ্রান্তে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে ট্রেন বিলম্বি হয়েছে। তবে গত রোজার ঈদের সময়ও একই অবস্থা তৈরি হয়েছিল। প্রতিটি ট্রেন দেরিতে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে গেছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা। এদিকে পরিবহন সংকট, ভাড়া নৈরাজ্য ও যানজটে সড়ক পথেও যাত্রীরা ভোগান্তিতে।

গতকাল সরেজমিনে কমলাপুর স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, ট্রেনে আনন্দের ঈদযাত্রা দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। রেলের পশ্চিমাঞ্চলে ট্রেনের সময়সূচি ভেঙে গেছে। সব ট্রেন সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে স্টেশন ছেড়ে গেছে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত খুলনা, রাজশাহী, রংপুর বিভাগে ট্রেন সর্বোচ্চ সাড়ে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে ছেড়েছে। শুক্রবার পশ্চিমাঞ্চলগামী যমুনা সেতু পার হয়ে যেসব ট্রেন ঢাকা ছেড়ে গেছে। সে সব ট্রেন গতকাল বেলা ১১টা পর্যন্ত স্টেশনে পৌঁছায়নি। নীলসাগর এক্সপ্রেস শনিবার সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে আসার কথা, কিন্তু ট্রেনটি ঢাকায় আসে বিকেল ৪টার পরে। রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে আসার কথা থাকলেও তা আসে সন্ধ্যার পরে। লালমনি ঈদ স্পেশালও সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে আসার কথা থাকলেও তা আসে আরও পরে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে ক্লান্ত পড়তে দেখা গেছে যাত্রীদের। এতে অনেকের প্লাটফর্মে বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে। সকাল ৬টার ধূমকেতু এক্সপ্রেস ছেড়ে গেছে বেলা আড়াইটা। সকাল ৬টা ২০ মিনিটের সুন্দরবন এক্সপ্রেস দুপুর সাড়ে ১২টায়, সকাল ৮টার নীলসাগর এক্সপ্রেস বিকেল সাড়ে ৪টায় ছাড়ে গেছে। এছাড়া লালমনি ঈদ স্পেশাল (৫) ১৩ ঘণ্টা দেরিতে রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে গেছে। একই অবস্থা রংপুর এক্সপ্রেসের। সকাল ৯টার ট্রেনটি ১২ ঘণ্টা দেরিতে রাত ৯টায় গেছে। উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম দেরিতে ছেড়ে গেছে একতা এক্সপ্রেস। গতকাল সকাল ১০টার একতা এক্সপ্রেস বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছেড়ে গেছে। এই ট্রেনে রংপুর, গাইবান্ধা, দিনাজপুরগামী যাত্রীরা ঢাকা ছেড়েছেন। এছাড়া ঈশা খাঁ, জয়ন্তিকা, রাজশাহী এক্সপ্রেসসহ পশ্চিমাঞ্চলের সব ট্রেন ৮-১৩ ঘণ্টা দেরিতে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে গেছে বলে কমলাপুর স্টেশন সূত্র জানায়।

এ বিষয়ে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার মো. আমিনুল হক বলেন, শুক্রবার টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্তে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়া ও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপই ট্রেন বিলম্বিত হওয়ার কারণ। এ কারণে দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় সব ট্রেনের ওপর এর প্রভাব পড়েছে। যে কারণে ট্রেনের শিডিউল ঠিক নেই। বিলম্বের কারণে কোন যাত্রী যদি ট্রেনে ঈদযাত্রা বাতিল করতে চান, তাহলে কমলাপুর স্টেশনে ১-৫ নম্বর কাউন্টারে গিয়ে টিকিট ফেরত দিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে টিকিটের মূল্যের পুরোটাই ফেরত দেয়া হবে।

আবু কাসেম নামের এক যাত্রী বলেন, সকাল ৮টায় নারায়ণগঞ্জ থেকে কমলাপুর এসেছি। রংপুর সকাল ৯টা ২৭ ছাড়ার কথা ছিল। ওই ট্রেন ১২ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়বে। একতা এক্সপ্রেসেই যাত্রা করার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু ট্রেনের ভেতরে অতিরিক্ত যাত্রীদের চাপ ও গরমে বের হয়ে যাই। তাই এখন রংপুর এক্সপ্রেসের ট্রেনের অপেক্ষা করতে হবে বলে জানান তিনি।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন ৭৩টি আন্তঃনগর ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যায়। গত শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৮টি ট্রেন দেরিতে ঢাকা ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে লালমনিরহাট স্পেশাল ৯ ঘণ্টা ২৫ মিনিট দেরি হয়। রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন সাত ঘণ্টা দেরিতে ছেড়ে গেছে। বাকি সব ট্রেনই পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা করে দেরিতে স্টেশন ছেড়ে গেছে। ২৪টি ট্রেন ঢাকা থেকে সময়মতো ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ট্রেন পথে আটকা পড়ে কয়েক ঘণ্টা দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছায়। তবে গতকাল সব ট্রেন ঠিক সময় স্টেশনে পৌঁছতে পারেনি। তাই সঠিক সময় ঢাকা থেকে ছাড়া সম্ভব্য হয়নি।

এদিকে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীদের চাপের কারণে স্টেশনে কোথাও কোন বসার জায়গা ফাঁকা নেই। ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের কেউ কেউ দীর্ঘক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে নারী, পুরুষ, শিশু-সবাইকে প্লাটফর্মের মেঝেতে শুয়ে-বসে সময় কাটাতে দেখা গেছে। অনেককে প্লাটফর্মেই ঘুমাতে দেখা গেছে। অনেকে ছোট শিশুদের প্লাটফর্মেই খাওয়া-দাওয়া করতে দেখা গেছে। মো. আলম নামের দিনাপুরের এক যাত্রী বলেন, ‘ভোর ৬টা থেকে বসে আছি। তাছাড়া উপায় নাই। বিকাল ৪টার পরে পাওয়া গেলেও তো ভোর রাইতে, নইলে পরের দিন সকালে বাড়ি যাওয়া যাইব। বাসে গেলে জ্যামে বসি থাকা লাগবি। কওন যায় না, ৩ দিনও লাগবার পারে।’

সড়কপথেও দুর্ভোগ

ঈদুল আজহা উপলক্ষে শেষ সময়ে সড়কপথে রাজধানী ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। তবে যাত্রাপথে পরিবহন সংকট, ভাড়া নৈরাজ্য ও সড়ক পথে থেমে থেমে যানজটসহ নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ফেরিঘাটে। ফেরি পারাপারে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হয়েছে আন্তঃজেলা যানবাহনকে। তবু ইট-পাথর আর কংক্রিটের শহর ছেড়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে রাজধানীবাসী। ঈদের আনন্দ প্রিয়জনের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে গিয়ে পড়তে হয়েছে নানা বিড়ম্বনায়। টিকিটপ্রাপ্তি থেকে শুরু করে বাড়ি পৌঁছান পর্যন্ত নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ঘরেফেরা মানুষদের। শিডিউল বিপর্যয়, যাত্রীর অতিরিক্ত চাপ, আসন না পাওয়ার ভোগান্তি মেনে নিয়েই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শেকড়ের টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। তবে সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইলের সড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণবঙ্গের বাসের সিডিউলে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটেছে। প্রতিটি বাস ৮-১০ ঘণ্টা করে দেরিতে বাস টার্মিনাল ছেড়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে অনেকে শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে যাত্রীরা জানান।

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, ঈদযাত্রায় উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বাসেও শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। আর তাতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সময়মতো বাসগুলো ফিরে আসতে না পারায় ঢাকা থেকে সেগুলো ছাড়া যাচ্ছে না। গতকাল রাজধানীর গাবতলী ও কল্যাণপুর বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি। গাবতলী ও কল্যাণপুরের বাস কাউন্টারগুলোয় তিল ধারণের জায়গা নেই। কাউন্টারের সামনে ফুটপাত আর সড়কে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে যাত্রীদের। বেশি ভোগান্তির শিকার হয়েছে নারী ও শিশুরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের অপেক্ষায় থেকে কষ্ট পেলেও আপনজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারার তীব্র আগ্রহে সব কষ্ট ম্লান হয়ে যায় বলে যাত্রীরা জানান।

গত শুক্রবার রাত ১২টার বাস গতকাল সকাল ১১টায় নাটোরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। গ্রামীণ পরিবহনের এই বাসের এক যাত্রী বলেন, গত রাত পৌনে ১২টায় গাড়িটি ছাড়ার সময় নির্ধারিত ছিল। পরিবারের চার সদস্যকে নিয়ে নাটোর যাচ্ছেন। ছোট দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। অবর্ণনীয় কষ্ট পেলেও বাড়ি পৌঁছতে পারলে সব কষ্ট লাঘব হয়ে যাবে বলে জানালেন তিনি। হানিফ পরিবহনের যাত্রী বলেন, ‘সকাল আটটায় বাস ছাড়ার কথা। কিন্তু তখনও বাস আসেনি কাউন্টারের সামনে। কখন আসবে তাও জানা নেই। টিকিট আগে কাটা, তাই ফেরত দেয়ার উপায়ও নেই। আবার ফেরত দিলে অন্য গাড়ি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই অপেক্ষা করা ছাড়া উপায়ও নেই।’ গাড়ি ছাড়তে দেরি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে সাকুরা পরিবহনের ব্যবস্থাপক রাজু বলেন, ‘আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে ফেরি ঠিকমতো চলাচল করতে পারছে না। নদীর প্রচ- ¯্রােতের কারণে ফেরি বন্ধ ছিল। আরিচার ওপারে আট থেকে নয় কিলোমিটার যানজট তৈরি হয়েছে। এ কারণে ওদিক থেকে গাড়ি আসতে সময় লাগছে।’ সাইদুল ইসলাম নামে গাইবান্ধার এক যাত্রী বলেন, ‘আল হামরা পরিবহনে সকাল ১০টা টিকিট নিয়েছি। কাউন্টারের লোকজন জানিয়েছেন, ওই বাস সকাল ১০টায় গাইবান্ধা থেকে ছেড়েছে। সেটি ঢাকা আসার পর গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।’ ওই পরিবহনের ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তায় যানজটের কারণে গাড়ি আসতে পারছে না। যথাসময়ে ছাড়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় যারা টিকিট ফেরত দিতে চাইছেন, তাদের টিকিটের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।’

নয়ন নামের এক যাত্রী বলেন, বাসের টিকিট কিনেছি সকাল সাড়ে ছয়টার। বাসের দেরি হওয়ার তথ্য পেয়ে ফেরত নেন টিকিটের টাকা। দুপুর ১২টার দিকে একটি বাস ছেড়ে যাওয়ার সময় বাসের সহকারীকে অনুরোধ করে অতিরিক্ত আসনে উঠে পড়লেন। এই বাসে উঠে অন্তত ছয় থেকে সাত ঘণ্টা এগিয়ে গেলাম। কারণ, আমরা যে বাসে টিকিট করেছিলাম, সেটা ছয় থেকে সাত ঘণ্টার আগে আসার সম্ভাবনা নেই। এখন রাস্তায় কত সময় লাগে সেটার অপেক্ষা। রাস্তায় কী ভোগান্তি হয় সেটার অপেক্ষা করা ছাড়া উপায়ও নেই। তারপরও বাড়ির পথে রওনা হওয়াতেই আনন্দ।’

এদিকে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ গত শুক্রবার থেকে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে। গতকাল শনিবারেও যাত্রী ও যানবাহনের চাপ রয়েছে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে। বর্তমানে এ নৌরুটে ছোট-বড় ১৭টি ফেরি রয়েছে যানবাহন ও যাত্রী পারাপারের জন্য। পাশাপাশি যাত্রী পারাপারের জন্য রয়েছে ৮৮টি লঞ্চ, সাড়ে ৪শ স্পিডবোট ও ট্রলার। গতকাল শনিবার ভোর থেকে শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক (মাওয়া) শাহাদাত হোসেন বলেন, গত কয়েকদিন বৈরী আবহাওয়ার কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় শুক্রবার থেকে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। তবে যাত্রী ও যানবাহন নির্বিঘেœ পারাপারে আমাদের সার্বাধিক ব্যবস্থা সচল রয়েছে। কোন প্রকার দুর্ভোগ নেই।

অপরদিকে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীদের ভিড়, সড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। গতকাল পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে যানবাহনের বাড়তি চাপে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরমুখো হাজারও মানুষ। ফেরিঘাট থেকে টেপড়া বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। এ এলাকায় যানবাহনগুলো এলোমেলোভাবে চলাচল করায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সকাল থেকেই পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি ও লঞ্চে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। যানজটের কারণে প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকা পায়ে হেঁটে ঘাটে পৌঁছতে দেখা গেছে অনেক যাত্রীদের। যানজট ও ভোগান্তির জন্য ঘাট ব্যবস্থপনাকে দায়ী করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, ঘাটে বর্তমানে শৃঙ্খলা বলে কিছু নেই।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবালয় সার্কেল) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অনেক গাড়ি পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট ব্যবহার করছে। এ কারণেই যানবাহনের বাড়তি চাপ রয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি যানবাহন রাস্তায় বিকল হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তবে যাত্রী পারাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। দুপুরের পর থেকে যানবাহন ও ঘরেফেরা মানুষের চাপ কমতে পারে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

বঙ্গবন্ধু সেতুর টাঙ্গাইল অংশে তীব্র যানজট : গতকাল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বঙ্গবন্ধু সেতুর টাঙ্গাইল অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে করটিয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সেতু পার হওয়ার পর উত্তরবঙ্গের দিকে গাড়ি এগোতে না পারায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। টাঙ্গাইলের কালিহাতীর এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খানাখন্দ আর বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমে সিরাজগঞ্জে ওই এলাকার গাড়ির চাপ বেশি থাকায় এ জট দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানায়। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ঈদে ঘরমুখী মানুষ।

চাপ থাকলেও যানজট নেই ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে : ঘরে ফেরা মানুষের চাপ থাকলেও এখন পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কোথাও তীব্র যানজট দেখা যায়নি। গতকাল সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা উড়ালসড়ক খুলে দেয়া হয়। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতায় এ উড়ালসড়ক খুলে দেয়ার পর থেকে সড়কের ওপর যানবাহনের তেমন চাপ দেখা যায়নি। ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গাড়িগুলো যানজট ছাড়াই ভুলতা অংশ পার হতে পারছে।