• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ রবিউস সানি ১৪৪১

রাবি অধ্যাপক শফিউল হত্যায় ৩ জনের মৃত্যুদন্ড

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, রাজশাহী

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৯

image

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলন হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার এ রায় দেন। এর পাশাপাশি মামলার বাকি ৮ আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তরা হলো আব্দুস সালাম পিন্টু, সবুজ ও আরিফুল ইসলাম মানিক। দাদের মধ্যে সবুজ পলাতক। বাকি দু’জন রায় ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিল। তারা যুবদলের নেতা।

২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অধ্যাপক শফিউলকে। পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মুহাম্মদ এন্তাজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে নগরীর মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন।

ওই সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিদের চোরাগোপ্তা হামলার মধ্যে অধ্যাপক শফিউল কুপিয়ে হত্যার পর সন্দেহের তীর ছিল ধর্মীয় উগ্রবাদীদের দিকেই। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ওই অধ্যাপককে হত্যার পর আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২ নামে খোলা ফেসবুক অ্যাকাউন্টে হত্যাকান্ডের দায় স্বীকারের বার্তাও এসেছিল। পুলিশের তদন্তও সেদিকে এগোচ্ছিল। পরে র‌্যাবের মাধ্যমে তদন্তের বাঁকবদল ঘটে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই বছরের ২৩ নভেম্বর প্রধান সন্দেহভাজন পিন্টুসহ ছয়জনকে আটক করে র‌্যাব। পরে তার স্ত্রী রেশমাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।

২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রেজাউস সাদিক জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে আসামির তালিকায় পিন্টুর স্ত্রী রেশমার নামও ছিল। তখন আটক হওয়ার পর রেশমা ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছিলেন। তবে রায়ে তিনি খালাস পেয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখায় কর্মরত সেকশন অফিসার নাসরিন আখতার রেশমার সঙ্গে শফিউল ইসলামের দ্বন্দ্বের জেরে তার স্বামী যুবদল নেতা পিন্টু লোকজন নিয়ে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।

র‌্যাব জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী অধ্যাপক শফিউল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হলে পিন্টু তাকে অনুসরণ করে এবং মোবাইল ফোনে তার গতিবিধি অন্যদের জানায়। সেদিন মোটরসাইকেলে এক সহকর্মীকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়েছিলেন শফিউল। ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিনোদপুরে সহকর্মীকে নামিয়ে দিয়ে চৌদ্দপাই এলাকায় বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি। মহাসড়ক থেকে ২০০ গজ দূরে বাড়িতে যেতে কাঁচারাস্তায় নামার পর তিনি হামলার মুখে পড়েন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম মুর্তুজা বলেন, কোন সাক্ষী হত্যাকা- সম্পর্কে আদালতে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। আদালত শুধু পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন ও রেশমার ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দির ওপর রায় দিয়েছেন। যে তিনজনের সাজা হয়েছে, তাদের ব্যাপারে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানান তিনি।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এনতাজুল হক বাবু জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রারের করা এই মামলায় গত ১৩ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এ মামলায় ৩৩ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত। রায় ঘোষণার পর আদালতের পর্যবেক্ষণ তুল ধরে রেশমার সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে রাবি শিক্ষক শফিউলকে খুন করা হয় বলে তিনি জানান।