• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৯, ৬ মাঘ ১৪২৫, ১২ জমাউল আওয়াল ১৪৪০

বিক্ষোভ অব্যাহত

রাজধানীসহ বিভিন্নস্থানে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

সংঘর্ষে আহত ২০ গ্রেফতার ৫

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রবিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৯

image

গতকাল সাভারে বিক্ষোভকালে গাড়ি ভাঙচুর করে পোশাক শ্রমিকরা -সংবাদ

বেতন কাঠামোতে বৈষম্য দূর করাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের আশ্বাসের পরও ষষ্ঠ দিনের মতো গতকালও রাজধানীসহ কয়েকটি জেলায় রাস্তায় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা। গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর, শেওড়াপাড়া, টোলারবাগসহ বিভিন্ন স্থানে পোশাক শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে। শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে গন্তব্যমুখী মানুষ। এদিকে গাজীপুর, সাভার আশুলিয়াতে গতকালও বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পথচারীসহ ২০ জন আহত হয়েছে। গাজীপুরে পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

এদিকে বেতন কাঠামো নির্ধারণে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের আশ্বাস দেয়ার পরও সড়ক অবরোধ করে শ্রমিক বিক্ষোভের নেপথ্যে তৃতীয় কোন পক্ষের উস্কানি রয়েছে বলে মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অস্থিতিশীলী পরিস্থিতি তৈরি করতে শ্রমিক আন্দোলনের নামে নাশকতার উস্কানি দেয়া হচ্ছে শ্রমিকদের।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গতকাল রাজধানীর মিরপুরে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন চলমান পাশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে ইন্ধন দিয়ে থাকে, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর ১৪ নম্বর সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা। এতে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়ে যাত্রীরা। মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের সামনে ও টোলারবাগে সকালে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। তারা রাস্তা অবরোধ করে বেশকিছু গাড়ি ভাঙচুর করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সরকারি বাঙলা কলেজের কাছে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে সড়ক বন্ধ হয়ে গেলে পুলিশের ছাত্রলীগের স্থানীয় একদল নেতাকর্মী মাঠে নামে। পরে ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা শ্রমিকদের সড়ক থেকে তুলে দিলে বেলা পৌনে ১টার দিকে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়। একই সময় এদিকে মিরপুরের শেওড়াপাড়াতেও বিক্ষোভ করছে শ্রমিকরা। একই সময় রাজধানীর গাবতলী, উত্তরা, বাড্ডা, ভাটারা, রামপুরা, উত্তরখান, দক্ষিণখানসহ রাজধানীজুড়ে যেসব এলাকায় পোশাক কারাখানা রয়েছে সবখানেই কারখানা বন্ধ করে দিয়ে রাস্তায় নেমে অবরোধ করে শ্রমিকরা। অধিকাংশ জায়গায় শ্রমিকরা রাস্তায় ভাঙচুর চালিয়েছে।

গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় পল্লীবিদুৎ বিশ^াসপাড়া এলাকায় স্টারলিং ডিজাইন্স লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করে এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ কারার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ লাঠি চার্চ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

সাভার প্রতিনিধি জানান : শিল্পাঞ্চল সাভারের আশুলিয়ায় ষষ্ঠ দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে তৈরি পোশাক শ্রমিকরা। সংশোধন এবং সমান হারে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সড়ক অবরোধ ও ২০টি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ৩০ জন পোশাক শ্রমিক। গত শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সাভারের আশুলিয়া বিভিন্ন স্থানে তৈরি পোশাক শ্রমিকরা আন্দোলনে যোগ দিয়ে অবরোধ,ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়। শ্রমিকরা জানায়, বেতন বৈষম্য ও সমহারে বেতন বৃদ্ধি না করায় আশুলিয়ার বেরন এলাকার ইয়াগী বাংলাদেশ লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে। পরে স্টারলিংক ক্রিয়েশন, উইন্ডি গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে। এসময় বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া ও বেরন এলাকায় শ্রমিকরা অবস্থান নিয়ে দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে উত্তজিত শ্রমিকরা সড়কের বিশটি যানবাহন ভাঙচুর চালায় ।

বেতন কাঠামোতে বৈষম্য দূর করাসহ বিভিন্ন দাবিতে ৬ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন করছে পোশাক শ্রমিকরা। শ্রমিক বিক্ষোভ নিরসনে গত ৮ জানুয়ারি শ্রমভবনে পোশাক শ্রমিক-মালিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, গত ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া পোশাক শ্রমিকদের বেতন কাঠামোতে কোন বৈষম্য বা অসঙ্গতি থেকে থাকলে চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই তা সংশোধন করা হবে। ফেব্রুয়ারিতে সংশোধিত গ্রেডিংয়েই বেতন পাবে শ্রমিকরা। বৈঠকে এ সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠনেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ কমিটিতে গার্মেন্টস মালিকদের পাঁচজন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের পাঁচজন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব থাকবেন। এই কমিটি চলতি মাসের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের জন্য সরকার ঘোষিত বেতন কাঠামোর কোন গ্রেডের মধ্যে অসঙ্গতি থাকলে তা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন জমা দেবে।

কারখানায় ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেফতার ৫ : গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় ৯টি পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের অভিযোগে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১)-এর সদস্যরা। গত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত টঙ্গী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাবের দাবি গ্রেফতার হওয়া পাঁচজন পোশাক কারখানায় কাজ করলেও তারা মূলত সন্ত্রাসী। র‌্যাব-১-এর সিও (কমান্ডিং অফিসার) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম জানান,গ্রেফতার ব্যক্তিরা কোন কিছু না বুঝেই ৯টি পোশাক কারখানা ভাঙচুরে নেতৃত্ব দিয়েছে।