• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

মোটিভ নিয়ে অন্ধকারে পুলিশ

আরও ৩ জন গ্রেফতার

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০১৯

image

আবরার হত্যা মামলায় আটক ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা ও রুমমেট মিজানুর রহমান-সংবাদ

বুয়েট ছাত্র আবরার আহমেদ রাব্বী হত্যার মোটিভ নিয়ে পড়েছে অন্ধকারে পুলিশ। ফেসবুক স্ট্যাটার্সকে কেন্দ্র করে আবরার আহমেদকে হত্যা নাকি অন্য কোন কারণ রয়েছে তা এখনও পরিষ্কার হতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ বলছে, আবরার হত্যায় গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন রকম তথ্য দিচ্ছে। এসব তথ্য যাচাই-বাচাই চলছে। এদিকে আবরার আহমেদ রাব্বি হত্যা মামলায় গতকাল আর ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। গ্রেফতারকৃতরা হলো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হোসেন মো. তোহা, ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা, মিজানুর রহমান। এ নিয়ে মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির মুখপাত্র অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, আবরার আহমেদ রাব্বিকে ঠিক কি কারণে হত্যা করা হয়েছে তা আমরা এখনও পরিষ্কার হতে পারিনি। বিষয়টি পরিষ্কার হতে এবং মোটিভ বের করতে আমাদের আরও সময় লাগবে। ইতোমধ্যে যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। এসব তথ্য যাচাই বাচাই করা হচ্ছে। এর পর আমরা বলতে পারব কি কারণে হত্যা করা হয়েছে। শিবির সন্দেহে মারধর করা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমিকভাবে শিবির সন্দেহে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ওইটাই একমাত্র কারণ কি না তদন্তের এই পর্যায়ে বলা যাচ্ছে না। কারণ এর বাইরে আরও কারণ থাকতে পারে, সেটি তদন্ত করা হচ্ছে ‘মনিরুল জানান, এ মামলায় গতকাল পর্যন্ত মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জনের নাম এজাহারে ছিল না। অমিত সাহা, মিজানুর রহমান এবং সামছুল আরেফিন রাফার নাম এজাহারে না থাকলেও গ্রেফতার হওয়া আসামি এবং বিভিন্ন তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আরবার আহমেদ নানা বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিতেন। এসব নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তির বিষয়ে একটি স্ট্যাটার্স দিলে এতে ক্ষিপ্ত হয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে তাকে মারপিট করার জন্য ডেকে আনা হয়। ছাত্রলীগের বড় ভাইরা বিষয়টি জানত। কিন্তু মারপিটে যে আবরার আহমেদ মারা যাবে এটি তারা বুঝতে পারেনি।

৪০ মিনিট ঘটনাস্থলে থেকে ফেরত আসে পুলিশ

আবরার আহমেদকে যখন মারা হয় তখন বাহিরে পুলিশ ছিল। কিন্তু কেন পুলিশ হলে যায় এ নিয়ে নানা সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে পুলিশ ফোন পেয়ে গেলেও তাদের ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছাত্রলীগ নেতারাও পুলিশকে ঢুকতে না দিয়ে বসিয়ে রাখে।

ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, আবরার আহমেদ মারা যান দুপুর সোয়া ১টার দিকে। ৩ ঘণ্টা পর হলের প্রভোস্ট এবং ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পরিচালক ঘটনাস্থলে আসার পর চিকিৎসকে আনা হয়। চিকিৎসক আসেন ৩ ঘণ্টা পর।

অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘কেউ একজন ফোন করে বলেছিল হলের ভেতরে গোলমাল হচ্ছে। ওই তথ্যে স্থানীয় থানা পুলিশের একটি টহল টিম সেখানে যায়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে গেলে পুলিশের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগে। ওই রাতে পুলিশ অনুমতি পায়নি যে কারণে ৪০ মিনিট পুলিশ থাকার পর চলে যায়। বাইরে থেকে ভেতরে এ ধরনের কোন ঘটনার লক্ষণও দেখতে পায়নি পুলিশ সদস্যরা। এই ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশের পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে কোন গাফিলতি আমরা পাইনি।’ ঘটনা জানাজানির পর পুলিশ কী ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেনি, জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ যদি আগেই বুঝত যে রাতে বুয়েটের হলে এমন একটি ঘটনা ঘটবে বা ঘটতে চলেছে তাহলে অবশ্যই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হতো। অতীতে ঘটনা ঘটার সঙ্গে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। আবরার হত্যার রাতে বুয়েটের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণক করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আবরার ফাহাদের লাশের কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন বুয়েট ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান, সহকারী প্রাধ্যক্ষ, গার্ড ও বুয়েটের চিকিৎসক। আবরার হত্যাকা-ের পর মরদেহ নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে সিসিটিভি ফুজেটে যাদের দেখা গেছে, তদন্তের স্বার্থে ও প্রয়োজনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

অমিত সাহাসহ আরো গ্রেফতার ৪ জন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হুসেইন মোহাম্মদ তোহাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল বেলা সোয়া তিনটার দিকে গাজীপুরের মাওনা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন মামলার তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা ডিবি দক্ষিণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার খন্দকার রবিউল আরাফাত লেলিন। এর আগে এ মামলায় এজাহারে নাম না থাকলেও ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা এবং আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান এবং সামছুল আরেফিন রাফা নামে আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। অমিত সাহাকে দুপুর ১১টায় বাসাবো সবুজবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। আর মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয় দুপুর ১২টায়।

ডিএমপির মুখপাত্র অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, অমিত সাহা ঘটনার সময় উপস্থিত না থাকলেও এ হত্যাকা-ের ঘটনায় তার ভূমিকা ছিল। আর সে কারণেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অমিত সাহার রুমেই আবরারকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আর মিজানুর রহমানকে গ্রেফথার করা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। হুসেই মোহাম্মদ তোহা আবরার হত্যায় সরাসরি সম্পৃক্ত। সে হত্যা মামলার ১১ নম্বর আসামি। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। এর মধ্যে ১৩ জনের নাম মামলার এজাহারে রয়েছে। বাকী ৩ জনের নাম এজাহারে না থাকলেও তারা নানাভাবে হত্যাকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

কয়েকজন দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি

আবরার হত্যায় গ্রেফতার হওয়া ১৬ জনের মধ্যে ১৩ জন রিমান্ড হেফাজতে রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন নিজেদের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছে। তারা ডিবির কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। সেখানে কার কী ভূমিকা ছিল সেগুলো বিস্তারিত বলেছে গ্রেফতারকৃতরা। ডিবি তাদের তথ্য যাচাই-বাচাই করছে।

উল্লেখ গত সোমবার বুয়েট ছাত্র আবরার আহমেদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে পিটিয়ে মারা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করে। ময়নাতদন্তে নির্যাতনে আবরারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করার পর ১৯ জনকে আসামি করে আবরারের বাবা হত্যা মামলা করে। পুলিশ হত্যাকা-ের পর পরই ১০ জনকে গ্রেফতার করে। পরে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তরের পর ডিবি আরও ৬ জনকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে ১৩ জনকে ডিবিতে রিমান্ড হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।