• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ২২ জিলকদ ১৪৪১

নার্স ধর্ষণ-হত্যা

মূল আসামি নুরুজ্জামানের ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, কিশোরগঞ্জ

| ঢাকা , সোমবার, ১৩ মে ২০১৯

image

কিশোরগঞ্জে নার্স তানিয়াকে (২৪) বাসে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মূল আসামি বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু (৩৯) শনিবার সন্ধ্যায় অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল-মামুনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় বইছে।

সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান তানিয়ার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন গতকাল বিকেল পৌনে ৫টার দিকে পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদের কাছে হস্তান্তর করেছেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বিপিএম-পিপিএম গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ভিকটিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন ও এলাকাবাসীর বক্তব্য নিয়েছেন। বাজিতপুর থানায় গিয়ে মামলার কাগজপত্র দেখেছেন, রিমান্ডে থাকা আসামিদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

বিকেলে জেলা পুলিশ অফিসে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে প্রেস ব্রিফিংয় ডিআইজি বলেন, স্বর্ণলতা বাসের (ঢাকা-মেট্রো-ব-১৫-৪২৭৪) চালক, এ সংক্রান্ত মামলার প্রধান আসামি নূরুজ্জামান নূরু আদালতে স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করেছেন, কটিয়াদী থেকে ছেড়ে বাসটি পিরিজপুর যাবার আগে বাসের ভেতর নূরুজ্জামান ও হেল্পার লালন মিয়াসহ তিনজন মিলে তানিয়াকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আর দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি তানিয়াকে কটিয়াদী হাসপাতালে রেখে যাবার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তানিয়ার পরিবারকে ফোন করে জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত তানিয়া কটিয়াদী হাসপাতালে আছেন। খবর পেয়েই স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে তানিয়াকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে কটিয়াদী থানার পুলিশ জানতে পেরে রাতেই ৫ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন, আটক ৫ জন এবং এজাহারভুক্ত পলাতক আল আমিন ও আবদুল্লাহ আল মামুনের বাইরে অপর এক ব্যক্তি ধর্ষণে জড়িত রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে ডিআইজি তার নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যেন দ্রুত মামলাটি নিষ্পত্তি হয়, সে ব্যাপারেও তারা সচেষ্ট রয়েছেন। আর ঘটনার রাতেই পুলিশ সাফল্যের সঙ্গে মূল দুই আসামি নূরুজ্জামান ও লালনসহ সন্দেহভাজন রফিকুল ইসলাম, খোকন মিয়া ও বকুল মিয়াকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। তানিয়াকে কিভাবে খুন করা হয়েছে, প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আসামিরা বলছে তানিয়া বাস থেকে লাফ দিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়টিও যাচাই করে দেখা হচ্ছে। জিআইজি আরও বলেন, তানিয়ার দেহ এবং বাসের ভেতর থেকে সংগ্রহ করা আলমত ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামি বাসচালক নূরুজ্জামান আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়ার পর শনিবারই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর অন্য চারজন আটক ব্যক্তিকে বাজিতপুর থানায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের গত ৮ মে আদালত ১৫ মে পর্যন্ত রিমান্ডে দিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুড়ি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনেসিনা হাসপাতালের নার্স শাহীনূর আক্তার তানিয়া গত ৬ মে বিকাল ৩টার দিকে বিমানবন্দর এলাকা থেকে স্বর্ণলতা নামের বাসে উঠে বাড়ি যাচ্ছিলেন। বাসটি সর্বশেষ গন্তব্য পিরিজপুর স্টেশনের যাবার আগে তানিয়াকে বাসে একা পেয়ে দুর্বৃত্তরা তাকে গণধর্ষণ শেষে হত্যা করে। প্রেস ব্রিফিংকালে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান বিপিএম (বার), পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আনোয়ার প্রমুখ।

ধর্ষণে ব্যবহৃত বাসটির রুট পারমিট ছিল না : গতকাল ছিল জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা। সভায় বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুল আলম সরকার জানিয়েছেন, স্বর্ণলতা কোম্পানির যে বাসটিতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, সেটি নিবন্ধিত হলেও এর রুট পারমিট নেই। এর সঙ্গে আটক হওয়া আরও একটি স্বর্ণলতা বাসের রুট পারমিট নেই। এ সময় সভার সভাপতি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী বাসের মালিককেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে ঘোষণা দেন। সভায় কয়েকজন বক্তা তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলাটিকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর প্রস্তাব করলে জেলা প্রশাসক প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে তা কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত করেন।

সভায় সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান জানান, জেনারেল হাসপাতালে তিন সদস্যের টিম ময়নাতদন্তের সময় তানিয়ার ধর্ষিত হওয়ার সুস্পষ্ট আলামত পেয়েছে। তার মাথার পেছনের হার (অক্সিবিটাল বোন) আঘাতে ফেটে দুই ভাগ হয়ে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। কিছু নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। কমিটির অন্য বক্তা বাসে তদারকির জন্য সিসি ক্যামেরা বা অন্য কোন সহায়ক ডিভাইস সংযোজনের প্রস্তাব করেন।