• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১

মায়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের দন্ড বহাল

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , শনিবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৯

image

মায়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো নিপীড়নের তথ্য সংগ্রহের সময় গ্রেফতার হওয়া রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের সাত বছরের কারাদন্ডের আদেশ বহাল রেখেছেন দেশটির হাইকোর্ট। রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে দোষীসাব্যস্ত করে গতবছর সেপ্টেম্বরে ৩২ বছর বয়সী সাংবাদিক ওয়া লোন এবং ২৮ বছরের কিয়াও সো ওরকে ওই সাজা দেন এক জেলা জজ। দন্ডিত এ দুই সাংবাদিকের আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়ে গত শুক্রবার রায়ে বিচারপতি বলেন, নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে পারেনি বিবাদী পক্ষ। এর মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদ্বয়কে নিম্ন আদালতের দেয়া সাত বছর করে কারাদন্ড বহাল থাকছে। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টেও আপিল আবেদন করার সুযোগ থাকছে তাদের। রায়ের পর দন্ডিত দুই সাংবাদিকের আইনজীবী থান জ অং জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে এবার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন কিনা সে বিষয়ে তিনি তার মক্কেলদের সঙ্গে কথা বলবেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার আপিলের রায় ঘোষণার সময় দুই সাংবাদিককে আদালতে উপস্থিত করা হয়নি। গত ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের এক সন্ধ্যায় পুলিশ সদস্যদের আমন্ত্রণে রেস্তোরাঁয় যাওয়ার পর নিখোঁজ হন মায়ানমারে কর্মরত রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে ও। পরে মায়ানমার কর্তৃপক্ষ দাফতরিক গোপনীয়তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার দেখায়। রাখাইনের ইন দিন গ্রামে সেনা অভিযানের সময় সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো গণহত্যার ওপর অনুসন্ধান চালাতে গিয়েই মামলার কবলে পড়েন তারা। এরই ধারবাহিকতায় গত সেপ্টেম্বরে তাদের বিরুদ্ধে সাত বছর করে কারাদন্ড ঘোষণা করে ইয়াঙ্গুনের একটি জেলা আদালত। নভেম্বরের শুরুতে ইয়াঙ্গুনের হাইকোর্টে দুই সাংবাদিকের পক্ষে আপিল করেন তাদের আইনজীবীরা। ডিসেম্বরে শেষ হয় আপিল শুনানি। সর্বশেষ শুক্রবার দেয়া হয় রায়। এতে আপিল খারিজ করে দিয়ে নিম্ন আদালতের সাজা বহাল রাখা হয়।

এদিন হাইকোর্টের বিচারপতি অং নাইং বলেন, ‘এটি যথাযথ সাজা’। এদিকে আদালতের এমন সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানিয়েছে রয়টার্স কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে বার্তা সংস্থাটির এডিটর-ইন চিফ স্টিফেন জে এডলার বলেন, ‘ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে ও-এর সঙ্গে আরও একটি অবিচার করা হলো। তাদের কারাগারে রাখার পেছনে কারণ একটাই। তা হলো, ক্ষমতাশালীরা সত্যকে ধামাচাপা দিতে চায়।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সাংবাদিকতা কোন অপরাধ নয়। মায়ানমার যতদিন পর্যন্ত ভয়াবহ মিথ্যাকে সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করবে ততদিন মায়ানমারে সংবাদমাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। দেশটি আইনের শাসন ও গণতন্ত্র চর্চার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা আদৌ পূরণ হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে আমাদের।’

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মায়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ছয় লাখেরও বেশি মানুষ। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। তবে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মায়ানমার। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ইন দিন গ্রামে সংঘটিত এক গণহত্যার চিত্র তুলে আনেন রয়টার্সের দন্ডিত এ দুই সাংবাদিক। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রথমবারের মতো মায়ানমারের সামরিক বাহিনী ১০ রোহিঙ্গা হত্যাকান্ডের স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হয়। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ওই ঘটনার দায়ে সেনা-সদস্যদের সাজা দিলেও দাফতরিক গোপনীয়তা আইনে রয়টার্স সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তাদের মুক্তির দাবিতে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে আন্তর্জাতিক চাপ। ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ, জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারাও রয়টার্স সাংবাদিকদের মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।