• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

মার্কিন দূতাবাসে বোমা হামলার হুমকি : রাজবাড়ী থেকে আসামি গ্রেফতার

সংবাদ :
  • বাকী বিল্লাহ

| ঢাকা , বুধবার, ০২ অক্টোবর ২০১৯

নিষিদ্ধঘোষিত জামায়াতুল মুজাহিদীন (জেএমবি) জঙ্গি তামিম সরোয়ার গ্রুপের পরিচয়ে এক দুর্বৃত্ত মার্কিন দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত বরাবর মেইল পাঠিয়ে প্রতিমাসে এক হাজার ডলার চাঁদা দাবি করে। না দিলে মার্কিন দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে বোমা হামলা চালানোর হুমকি দেয়া হয়। ২০১৮ সালে ৩০ অক্টোবর সকাল ৯টা ১৩ মিনিটের সময় ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে এ মেইল পাঠানো হয়। মেইলটি পাওয়ার পর দূতাবাসের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশের সাইবার ইউনিটকে জানানো হয়। মেইলের হার্ড কপি সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের অফিস গ্রহণ করে তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেন।

সাইবার সিকিউরিটির ওয়েবসাইট অ্যান্ড ই-মেইল ক্রাইমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার সাইদ নাসিরুল্লাহ অনুসন্ধানে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারেন, রাজবাড়ি জেলার পাংশা থানাধীন সাতবাড়িয়া গ্রাম থেকে মেইলটি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পরে মার্কিন দূতাবাস থেকে পাঠানো অভিযোগ নিয়ে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সল্যাট ক্রাইম ইউনিট, ডিএমপি ঢাকা একটি জিডি করে। জিডি নম্বর-৭৯ তারিখ-৩-১১-১৮। এরপর সাইদ নাসিরুল্লাহ নেতৃত্বে পুলিশের সাইবার ইউনিটের একটি টিম ২০১৮ সালের ৩ নভেম্বর গভীর রাতে রাজবাড়ির পাংশা থানা এলাকায় পৌঁছে অনুসন্ধান চালিয়ে সাতবাড়ি গ্রাম থেকে অভিযুক্ত রাজিব উদ্দিনকে (৩০) গ্রেফতার করে। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিম, ই-মেইল অনুসন্ধান করে প্রমাণ পাওয়া যায়।

তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত রাজিব স্বীকার করে বলে, সে তার মোবাইল ফোন থেকে নিজের পরিচয় গোপন রেখে মিথ্যা পরিচয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার লক্ষ্যে মেইলটি পাঠিয়েছে।

আসামি রাজিবকে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার সাইবার ইউনিটের মিন্টু রোডস্থ অফিসে তার আইডি থেকে আরও অনেকের কাছে অনুরূপ মেইল পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে। একইভাবে মার্কিন দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে মেইল পাঠিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ ধারা মতে অপরাধ করায় তার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

মেইল পাঠানোর অভিযোগে সাইবার ইউনিট বিষয়টি নিয়ে সরাসরি গুগোল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। একই সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে রাজবাড়ি থেকে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। গুগোলের তথ্যমতে, তার শুদ্ধ নাম বা পরিচয় রাজিব বলে তথ্য দিয়েছে। পুলিশের সাইবার ইউনিট রাজিবকে অভিযুক্ত করে আদালতে ইতোমধ্যে চার্জশিট দেয়। তবে অভিযুক্ত রাজিব জঙ্গি নয়, অন্যকে ফাঁসানোর জন্য এ ধরনের হুমকি দেয়। এর আগে মার্কিন দূতাবাসে এ ধরনের হুমকির ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামি গ্রেফতার করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশে প্রতিদিন সাইবার অপরাধ দ্রুতগতিতে বাড়ছে। শুরুর দিকে দেশে সাইবার অপরাধ কেবলমাত্র অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে কটুক্তি বা মানহানির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে বিপুল সংখ্যক ব্যক্তি, ব্যবসায়িক, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ডাটা চুরি, ব্যাংক একাউন্ট হ্যাকিং, সাইবার মানি লন্ডারিং, সাইবার টেরোরিজমসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ঘটছে। তবে সাইবার অপরাধী শনাক্ত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা তৎপর রয়েছে।