• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৫ রবিউল সানি ১৪৪০

মানিকগঞ্জে বসে ঢাকার ব্যবসায়ী অপহরণচক্রের ১০ সদস্য গ্রেফতার

দুই অপহৃত উদ্ধার

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ ২০১৮

image

র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা -সংবাদ

অপহরণ করে মুক্তিপণের টাকা নেয়ার সময় অপহরণকারী চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-২। গতকাল মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ওই চক্রের হোতা সেলিম মোল্লার বাড়িতে জিম্মি অবস্থায় ঢাকা থেকে অপহৃত দুই ব্যক্তিকেও উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় র‌্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান, গত ৯ মার্চ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হয়ে ফার্মগেটে আসার সময় ধানমন্ডি থেকে অপহৃত হন ব্যবসায়ী মো. জাফর ইকবাল (৪০) এবং মো. মিরাজ গাজী। অপহরণকারী চক্র তাদের একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় অপহরণকারীরা তাদের মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। এ ঘটনায় র‌্যাব ২ এর কার্যালয়ে অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামেন র‌্যাব। অপহৃত মিরাজ গাজীর মুক্তিপণ হিসেবে আড়াই লাখ টাকা মানিকগঞ্জের ঝিটকা বাজারে ইসলামী ব্যাংকের শাখায় একটি একাউন্টে জমা দেয় পরিবারের সদস্যরা। ওই টাকা নিতে আসেন অপহরণকারী চক্রের সদস্য মো. রাজীবুল হাসান রাজীব। এ সময় র‌্যাব সদস্যরা ফাঁদ পেতে রাজীবকে গ্রেফতার করে। পরে রাজিবের দেয়া তথ্যে অপহরণকারী চক্রের মূল হোতা মো. সেলিম মোল্লা (৫০), মো. মোশারফ হোসেন (৪৭), মো. নিরব আহম্মেদ ওরফে টিটু (২৯), মো. আবদুর রাজ্জাক (৩৫), মো. তারেক হোসেন (৩১), মো. আবুল বাশার বিশ্বাস (৩৩), মো. রুহুল আমিন (৩৫), মো. তারেক হোসেন পুলক (২৬), মো. তুহিন বিশ্বাসকে (৩০) গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৬টি বিদেশি পিস্তল, ৯টি ম্যাগাজিন, ৩৬ রাউন্ড গুলি, ১১টি ধারালো অস্ত্র এবং ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেফতারকৃত মো. সেলিম মোল্লা সমাজে ভদ্রবেশী আচরণের অন্তরালে সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের মূল হোতা হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে আসছে। এলাকার সাধারণ জনগণ তার সন্ত্রাসী কর্মকা-ের কাছে জিম্মি। সে এলাকার উচ্ছৃঙ্খল যুবক, উঠতি বয়সী বখাটে ছেলেদের কাঁচা টাকার লোভ দেখিয়ে রাজধানীসহ এলাকার বিত্তবান ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে অপহরণপূর্বক দীর্ঘদিন থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সেলিম মোল্লার নেতৃত্বে অপহরণকারীরা কৌশলে রাস্তা থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিদের অপহরণ করত। কখনো অচেনা পথ চিনিয়ে দেয়ার কথা বলে, কখনো বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে সাদা মাইক্রোবাসে টার্গেট করা ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যেতো। তারপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয় অপহরণকারী চক্রের দলনেতা সেলিম মোল্লার নিজ বাড়ির টর্চার সেলে। সেখানে নিয়ে ভিকটিমের হাত, পা ও চোখ বেঁধে পা উঁচু করে ঝুলিয়ে নির্যাতন করা হয়। এরপর ভিকটিমের বাঁচাও বাঁচাও আকুতি আর চিৎকার মোবাইল ফোনে শুনিয়ে স্বজনদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতো চক্রটি। চক্রের মূল হোতা মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের সেলিম মোল্লা গ্রামের একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি। সমাজে ভদ্রবেশী আচরণের অন্তরালে সংঘবদ্ধ অপহরণকারী একটি চক্রের লিডার।

উদ্ধারকৃতরা জানায়, তারা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাসা হতে ফার্মগেটে আসার পর কতিপয় ব্যক্তি তাদের ধানমন্ডি কোন দিক দিয়ে যেতে হবে জিজ্ঞাসা করে তাৎক্ষণিকভাবে একটি সাদা মাইক্রোবাসে জোরপূর্বক তুলে চোখ, মুখ বেঁধে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। আস্তানায় নিয়ে মারধর করা শুরু করে এবং মুক্তিপণের টাকা দাবি করে। তারা এত টাকা কোথায় পাবো বলে অনুনয়-বিনয় করলে অপহরণকারীরা প্রথমে হাত, পা ও চোখ বেঁধে পা উঁচু করে ঝুলিয়ে নির্যাতন শুরু করে। তখন তারা নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে টাকা আনার ব্যবস্থা করে। অপহরণকারীদের চাপে ভিকটিম জাফর তার স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইলে কথা বললে তার বাসায় ড্রয়ারে থাকা চেকবই ও নগদ টাকাসহ (২ লাখ ৮৫ হাজার) মানিকগঞ্জে নিয়ে আসার জন্য বলে। জাফরের বোন ৯ মার্চ চেকবই ও টাকা মানিকগঞ্জে নিয়ে আসে। মানিকগঞ্জে অপহরণকারী সদস্যদের একজন জাফরের বোনের সঙ্গে দেখা করে চেকবই ও টাকা নিয়ে যায়। ভিকটিম মিরাজ তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ৫ লাখ টাকা পাঠাতে বলে। পরে অপহরণকারী চক্রের সদস্য রাজীবের একাউন্ট নাম্বার দেয়া হয়। মিরাজের স্ত্রী ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ওই একাউন্টে পাঠিয়ে দেয়। রাজীব অপহরণকারী চক্রের মূল দলনেতা সেলিমের ছেলে।

অন্যদিকে অপহরণকারীদের চাহিদানুযায়ী টাকা পাঠাতে দেরি হওয়ায় পুনরায় তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত, পা, চোখ বাঁধা অবস্থায় ভয়ভীতি দেখিয়ে কালেমা পাঠ করায় ও বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেয়ার হুমকি দিয়ে একটি গাড়িতে উঠায়। এমন অবস্থায় র‌্যাব টাকা তোলার সময় রাজীবকে গ্রেফতার করে তার দেয়া তথ্যে বাকিদের গ্রেফতার করে এবং অপহৃতদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।