• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ১৮ি জিলহজ ১৪৪১, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

পশুর হাট

মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি, মাস্ক নেই ক্রেতা বা বিক্রেতার

ব্যবসায়ীদের অনেকে জ্বর সদি কাশি নিয়ে আসছে হাটে

সংবাদ :
  • ফারুক আলম

| ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২০

নোয়াখালী হলদের চরের আবু বক্কর সিদ্দিক। ঈদুল আজহায় কোরবানির গরুর ব্যবসা করতে জ্বর নিয়েই দু’দিন আগে ঢাকা শনির আখড়া পশুর হাটে এসেছেন। বারটি গরু ট্রাক করে নিয়ে বুধবার ভোর ৫টায় শনির আখড়া পশুর হাটে পৌঁছান। সারারাত ট্রাকে থাকায় শরীরের জ্বর, সর্দি বাড়ায় হাটে গরুর ক্রেতাদের সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না। সুযোগ পেলেই গরুর পাশে বিছানো খড়ে গিয়ে মাঝে মাঝে শুয়ে পড়ছেন। ঈদুল আজহা উপলক্ষে অনেক ব্যবসায়ী জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে ঢাকায় এসেছেন।

সিদ্দিকের মতোই জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে গরু ব্যবসায়ী আলতাফ আলী কমলাপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিশ্বরোডে পশুর হাটে এসেছেন। জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে রাজধানীর পশুর হাটে আসা দুুই গরু ব্যবসায়ীর একই ভাষ্য। তারা মনে করেন, গ্রাম থেকে ট্রাকে করে ঢাকায় গরু নিয়ে আসতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তারা। ঢাকায় থেকে গ্রামের বাড়িতে গেলেই তাদের জ্বর, সর্দি ও কাশি ভালো হয়ে যাবে। তবে ভিন্ন কথা বলেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আফতাবনগর ই-ব্লক পশুর হাটে আসা ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে পাবনা পশুর হাট থেকে ২ মাস আগে ৬টি গরু ক্রয় করেন। গরুগুলো ঢাকায় নিয়ে আসতে বাড়িতে প্রস্তুতও করেন তিনি। অবশ্য গরুগুলো ঢাকায় নিয়ে আসার দু’একদিন আগেই জ্বর ও কাশি হয় আসাদুজ্জামানের। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে জ্বরের ওষুধ কিনে খেয়েছেন, এতে তার জ্বর কমেনি। ঈদের বাজারে শেষমুহূর্তে কোন উপায় খুঁজে না পেয়ে অসুস্থ শরীর নিয়েই আফতানগর পশুর হাটে ৬টি গরু নিয়ে এসেছেন। তিনি গ্রামে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন বলে জানান।

গতকাল সরেজমিন কয়েকটি গরুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাটগুলো। দুই দিনের চেয়ে গতকাল পশুর হাটে ক্রেতার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। করোনাভাইরাস থেকে পশু ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুরক্ষা পেতে হাটের ইজারাদার মাইকে বলছে, করোনা সুরক্ষা সামগ্রী মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস, হেক্সিসল, হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা যেন হাটে প্রবেশ করেন। কিন্তু ইজারাদারদের এসব সচেতনামূলক পরামর্শে কর্ণপাত করছে না পশু ক্রেতা-বিক্রেতা। পশুর হাটে অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতাদের মুখে মাস্ক নেই। উভয়ে ইচ্ছেমতো, মুখে মাস্ক ছাড়াই হাটে চলাচল করছেন। সামাজিক দূরত্ব সেখানে নেই। পশু ক্রেতা-বিক্রেতা একে অন্যের শরীর ঘেঁষাঘেঁষি করে চলাচল করছেন। করোনা নিয়ে তাদের মাঝে বিন্দুমাত্র সচেতনতা দেখা যায়নি।

ঈদুল আজহার আর বাকি একদিন। ঈদ ঘনিয়ে আসায় সঙ্গে সঙ্গেই মানুষের ভিড় বেড়েছে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে। হাটে অনেকেই মাস্ক ছাড়াই এসেছে কোরবানির পশু ক্রয় এবং বিক্রয়ের জন্য। তবে হাটে আসা মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা কম। বরং মুখে মাস্কবিহীন ও শারীরিক দূরত্ব বিধি লঙ্ঘন করে দিব্যি হাটে হাটে ঘুরছেন ক্রেতারা। পশুর হাটে জনসমাগম দেখে বোঝার উপায় নেই, করোনা ক্রান্তিতে ভুগছে দেশ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোরবানির পশুর হাটে সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মানানো অসম্ভব। মাঠে কোরবানির পশুর হাটের অনুমোদনের চেয়ে অনলাইন বাজার শক্তিশালী করলে ভালো হতো।

প্রশাসন থেকে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে তৎপরতার কথা বলা হলেও বাস্তবে হাটের চিত্র উল্টো। গাদাগাদি করে হাটে গরু-ছাগলের সঙ্গে মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি। সরকারি নির্দেশনা এবং হাট পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসনের বিধিনিষেধ মানছেন না কেউই। পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে মাস্ক ছাড়া চলাচল করছেন।

শনিরআখড়া পশুর হাট ইজারাদারদের দায়িত্বে থাকা মোশাররফ হোসেন সংবাদকে বলেন, করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে ২৪ ঘণ্টা মাইকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে যেন মুখে মাস্ক পড়েন। কিন্তু পশুর হাটে আসা অধিকাংশ মানুষের মাস্ক পড়ে থাকতে অনীহা দেখা যায়। দু’একজন মুখে মাস্ক ছাড়া চলাচল করলে তাকে সতর্কতা কিংবা আইনের আওতায় নিয়ে আসা যেত কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ মুখে মাস্ক ছাড়াই চলাচল করছেন সেখানে তো হাটের ইজারাদাররা কিছু করতে পারবেন না।

করোনাকালে পশুর হাটের সামাজিক দূরত্ব ও মুখের মাস্কের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সারোয়ার আলী সংবাদকে বলেন, পশুর হাটে মানুষের মাঝে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়। হাটে অতিরিক্ত গরমে মানুষের মুখে মাস্ক রাখা অসম্ভব। তবে পশুর হাট বসায় ঢাকায় করোনা ঝুঁকি বাড়ল, এতে কোন সন্দেহ নেই। এরপরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পশুর হাটের ইজারাদার কঠোর হলে মানুষ করোনায় কম সংক্রমিত হবেন। প্রাণঘাতী করোনার মধ্যেও সাধারণ মানুষের অভ্যাস পরিবর্তন হয়নি। হাটে গিয়ে কোরবানির পশু ক্রয় করছেন। আমাদের এই প্রচলিত নিয়ম পরিবর্তন করা খুব কঠিন বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।