• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৫, ১৭ শাবান ১৪৪০

মাকসুদ রিমান্ডে শামীম নামে আরেকজন গ্রেফতার

হত্যায় জড়িত পপি ওরফে সম্পাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, ফেনী

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৯

ফেনীতে নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আলমের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সরাফ উদ্দিন আহম্মেদ এ আদেশ দেন।

কোর্ট ইন্সপেক্টর গোলাম জিলানী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নুসরাত হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমকে সোমবার আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরিদর্শক (ওসি) মো. শাহ আলম। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সোমবার কাউন্সিলর মাকসুদসহ বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে আছে ১১ জন। তাদের মধ্যে ৯ এপ্রিল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালত সন্দেহভাজন গ্রেফতার নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন ও শাহিদুল ইসলামের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরদিন ১০ এপ্রিল ১ নম্বর আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার ৭ দিন, ৮ নম্বর আসামি আফছার উদ্দিন ও সন্দেহাজন গ্রেফতার আরিফুল ইসলামের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন একই আদালতের বিচারক। ১১ এপ্রিল উম্মে সুলতানা পপি ও যোবায়ের হোসেনের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন একই আদালতের বিচারক সরাফ উদ্দিন আহম্মেদ। ১৩ এপ্রিল শনিবার মামলার ৬ নম্বর আসামি জাবেদ হোসেনের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন।

প্রসঙ্গত, গতকাল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালত ৪ নম্বর আসামি মাকসুদ আলম কাউন্সিলরকে ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন। এর আগে ৯ এপ্রিল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালত নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও শাহিদুল ইসলামকে ৫ দিন করে রিমান্ড দেন। পরদিন ১০ এপ্রিল একই আদালতে অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ-দৌলাকে ৭ দিন এবং আফছার উদ্দিন ও আরিফুল ইসলামকে ৫ দিন করে রিমান্ড দেন। ১১ এপ্রিল উম্মে সুলতানা পপি ও যোবায়ের হোসেনকে ৫ দিন করে রিমান্ড দেন একই আদালতের বিচারক সরাফ উদ্দিন আহম্মেদ। এছাড়া ১৩ এপ্রিল মামলার আরেক আসামি জাবেদ হোসেনকে ৭ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন।

মো. শামীম নামে আরেকজন গ্রেপ্তার : নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ন ও পুড়িয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মো. শামীম (১৯) নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। গতকাল বিকালে সোনাগাজী উপজেলার পশ্চিম তুলাতলী গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আলোচিত এ মামলায় শামীমসহ এ পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও পিবিআই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক শাহ আলম জানান, সোনাগাজী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড তুলাতলী থেকে শামীমকে আটক করা হয়। তার পিতা মো. সফি উল্লাহ। সে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী।

নুসরাত হত্যায় পপি ওরফে শম্পা গ্রেফতার

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় উম্মে সুলতানা পপি ওরফে শম্পাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। কয়েক দিন আগেই তাকে আটক করা হলেও গ্রেফতার দেখানোর বিষয়টি গতকাল নিশ্চিত করেন পিবিআই কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, এই পপি ওরফে শম্পাই আগুন লাগানোর দ্রব্য এনে দিয়েছিল। ফেনী পিবিআই’র অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান এ তথ্য জানান। নুসরাত মৃত্যুর আগে দেয়া জবানবন্দিতে (ডাইং ডিক্লেয়ারেশন) শম্পার নাম বলেছিলেন। যে চারজন বোরকা পরা নারী বা পুরুষ তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়, শম্পা তাদের একজন বলে জানিয়েছিলেন নুসরাত। ঘটনার পরপরই এজাহারভুক্ত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া সন্দেহভাজন যে ছয়জনকে আটক করা হয় তাদের মধ্যে উম্মে সুলতানা পপি ছিল। তবে পপিই যে শম্পা তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল।

অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান জানান, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে শম্পাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে আগেই গ্রেফতার হয়েছে। সে রিমান্ডের আদেশপ্রাপ্ত। তাকে এখনও রিমান্ডে আনা হয়নি। পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার গত ১৩ এপ্রিল ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দু’জন মেয়ের মধ্যে একজনকে দায়িত্ব দেয়া হয় তিনটি বোরকা ও কেরোসিন জোগাড় করে নিয়ে আসার জন্য। ওই মেয়েটি তিনটি বোরকা ও পলিথিনে করে কেরোসিন নিয়ে এসে শামীমের কাছে হস্তান্তর করে। মাদ্রাসাটি একটি সাইক্লোন সেন্টার। সেখানে সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ক্লাস হয়। ক্লাস শেষে কেরোসিন ও বোরকা নিয়ে তারা ছাদে চলে যায়। ছাদে দুটি টয়লেটও ছিল।

আলিম পরীক্ষা থাকায় সেই টয়লেটে তারা লুকিয়ে থাকে। পরে পাবলিক পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চম্পা কিংবা শম্পা নামের একটি মেয়ে রাফিকে বলে, ছাদে কারা যেন তার বান্ধবী নিশাতকে মারধর করছে। তখন রাফি দৌড়ে ছাদে যান। যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা শামীমসহ বোরকা পরা চারজন রাফিকে ঘিরে ফেলে এবং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেবে কিনাÑ জানতে চায়। এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ওড়না দিয়ে নুসরাতের হাত-বেঁধে ফেলে। এ সময় বোরকা ও কেরোসিন সরবরাহ করা মেয়েটিও সেখানে ছিল। হাত বেঁধে রাফির শরীরে আগুন লাগিয়ে তারা দ্রুত নিচে নেমে অন্যদের সঙ্গে মিশে যায়।

প্রসঙ্গত, নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেয়া হচ্ছিল। গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে একটি ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ নুসরাত পাঁচদিন পর্যন্ত বাঁচার জন্য লড়াই করে হার মানেন। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তিনি মারা যান।