• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১

তৃতীয় দিনেও উত্তাল বুয়েট

ভিসির পদত্যাগ দাবি

শেরেবাংলা হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ লজ্জা প্রকাশ করে ফের হত্যার বিচার চাইল ছাত্রলীগ

সংবাদ :
  • আবদুল্লাহ আল জোবায়ের, ঢাবি

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯

image

আবরার হত্যার প্রতিবাদ ও উপচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বুয়েট ক্যম্পাসে শিক্ষক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জামিলুর রেজা চৌধুরী -সংবাদ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন করেছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দিনভর উত্তাল ছিল বুয়েট ক্যাম্পাস। দাবি আদায় না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলনে শুরু থেকেই সংহতি জানিয়ে আসছে বুয়েট শিক্ষক সমিতি ও বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। শিক্ষক সমিতির নেতারা বুয়েটের হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় ব্যর্থতার দায়ে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেছেন। বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনও উপাচার্যের পদত্যাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে। এদিকে, আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর পদত্যাগ করেছেন বুয়েটের শেরে বাংলা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জাফর ইকবাল খান। অন্যদিকে, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বুয়েট ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার ঘটনায় কেন্দ্রীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে লজ্জা প্রকাশ করে জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি করেছে ছাত্রলীগ। এছাড়া, দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই আবরার হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে বুয়েটের ভিসি গতরাতে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন আমি কোন অপরাধ করিনি, পদত্যাগের প্রশ্নই উঠে না।

সরেজমিন বুয়েট ঘুরে জানা যায়, আবরার ফাহাদ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার, হলে হলে নির্যাতন বন্ধসহ ১০ দফা দাবিতে গতকাল সকাল থেকে ফের আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পলাশী মোড়, বকশিবাজার, শহীদ মিনার এলাকার সব সড়ক বন্ধ করে দিয়ে তারা বুয়েট শহীদ মিনারের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় বুয়েটের আশপাশের সব সড়ক বন্ধ করে দেয়ায় ওই এলাকা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করে এ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তারা গত মঙ্গলবার ৮ দফা দাবি জানিয়েছিলেন। গতকাল আরও দুই দফা দাবি বাড়ি মোট ১০ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি উপাচার্যের কাছে নিয়ে যান। এরপর সকালে বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারা এসব দাবি পড়ে শোনান। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সন্ধ্যায় বুয়েটসহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মোমবাতি জ্বালিয়ে সংহতি প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, আবরার হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।

বুয়েট শিক্ষার্থীদের দশ দফা দাবি হলো- সিসিটিভি ফুটেজ ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুসারে শনাক্ত হওয়া আবরার ফাহাদের খুনিদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; জড়িতদের শনাক্ত করে শুক্রবার বিকাল ৫টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করতে হবে; মামলার সব খরচ এবং আবরারের পরিবারের ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে এবং শুক্রবার বিকাল ৫টার মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করতে হবে; দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্বল্পতম সময়ে আবরার হত্যা মামলার নিষ্পত্তি করার জন্য বুয়েট প্রশাসনকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে; আবরার হত্যা মামলার অভিযোগপত্রের কপি অবিলম্বে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে হবে; ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বুয়েটে সব রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে; শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করায় ক্যাম্পাসে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে জবাবদিহি করতে হবে; আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগের নামে এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সব প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধ করতে হবে এবং এ ধরনের সন্ত্রাসে জড়িত সবার ছাত্রত্ব প্রশাসনকে বাতিল করতে হবে, একই সঙ্গে শুক্রবার বিকাল ৫টার মধ্যে আহসানউল্লাহ হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে; এর আগে সংঘটিত নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ এবং পরবর্তীতে তথ্য প্রকাশের জন্য একটি কমন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কোন ওয়েবসাইট বা ফর্ম থাকতে হবে এবং নিয়মিত প্রকাশিত ঘটনা রিভিউ করে দ্রুততম সময়ে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে, শুক্রবার বিকাল ৫টার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রদর্শন করতে হবে, পরবর্তী এক মাসের মধ্যে কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু করতে হবে, নিরাপত্তার স্বার্থে সবগুলো হলের প্রত্যেক ফ্লোরের সব উইংয়ের দুই পাশে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে হবে এবং শেরে বাংলা হলের প্রাধ্যক্ষকে প্রত্যাহার করতে হবে।

বুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে দুপুর সোয়া ১টার দিকে আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে এবং খুনিদের বিচার দাবিতে বুয়েট ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রবেশ করে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতারা। এর একটু পরে কালো পতাকা মিছিল নিয়ে বুয়েট ক্যাম্পাসে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। দুটি মিছিলকেই হাততালি দিয়ে স্বাগত জানায় বুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ঢাবি শিক্ষার্থীরা তাদের মিছিল থেকে সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার চুক্তি বাতিলের দাবিতে স্লোগান দেন। ঢাবির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে ভিসি চত্বর, ফুলার রোড দিয়ে পলাশীর মোড় হয়ে বুয়েট ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন তারা।

ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর, সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেন, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হোসেন, মুহাম্মদ রাশেদ খান, ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার সভাপতি আবু রায়হান খানসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠনের নেতারা এবং ঢাবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা মাথায় কালো কাপড় বেঁধে কালো পতাকা মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি বুয়েটে গেলে সেখানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানান ডাকসু ভিপি নুর। তিনি শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার ঘোষণা দেন। এছাড়া তাদের কোন ভয় নেই বলেও আশ্বাস দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

এদিকে, প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতারা মিছিল নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেয়। তবে, সে কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেয়। দুপুরে জোটের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সচিবালয় এলাকায় গেলে সেখানে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করতে না পেরে রাস্তায় অবস্থান নেন। এর আগে, মধুর ক্যান্টিন থেকে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের একটি বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ইকবাল কবীর, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন প্রিন্স, ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর সুজন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জোটের নেতারা আবরার ফাহাদ হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন। এছাড়া দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের গণরুম, গেস্টরুমের নামে নির্যাতন বন্ধ করার পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে সম্প্রতি সম্পাদিত সব চুক্তি বাতিল করার আহ্বান জানান।

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেছে শিক্ষক সমিতি, অ্যালামনাই ও সাবেক ছাত্ররা

বুয়েটের হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় ব্যর্থতার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেছে বুয়েট শিক্ষক সমিতি ও বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। আর আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় ব্যর্থতার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ পুরো প্রশাসনের অপসারণ চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদের সমিতি। উপাচার্যের অপসারণ চেয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাও।

গতকাল দুপুরে বুয়েটের আন্দোলনস্থলে সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হয়ে বুয়েট উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি একেএম মাসুদ। তিনি বলেন, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে শিক্ষক সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুয়েটে আগের বিভিন্ন ঘটনায় ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে আজকের এই অবস্থা হয়েছে। আমরা উনাকে (উপাচার্য) এসব ঘটনার জন্য দায়ী করছি। তাকে বুয়েট থেকে পদত্যাগ করতে হবে। আমরা পদত্যাগ দাবি করছি। তিনি যদি পদত্যাগ না করেন, সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে তাকে যেন অপসারণ করা হয়। এর আগে সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত জরুরি সভায় বসে শিক্ষক সমিতি।

দুপুরে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে এক সমাবেশ থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়েছেন বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে তারা বুয়েটে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছেন। এর আগে সকালে বুয়েট খেলার মাঠে জরুরি বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকের পর সমিতির সভাপতি অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী এক বিবৃতিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, বুয়েট অ্যালামনাই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে এই নির্মম হত্যকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নির্লিপ্ততা, অব্যবস্থাপনা ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ব্যর্থতার ফল। অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রমের তদন্ত, বিচার ও শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে উপাচার্যসহ বুয়েট প্রশাসনের ধারাবাহিক অবহেলা ও ব্যর্থতা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে মদদ জুগিয়েছে।

এরপর অ্যালামনাইয়ের সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো- আবরার ফাহাদ এর নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিশেষ বিচার ট্রাইব্যুনাল এর আওতায় এনে দ্রুততম সময়ে বিচার করতে হবে; হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব ছাত্রকে অনতিবিলম্বে বুয়েট থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করতে হবে; বুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলসমূহের অঙ্গ সংগঠনভিত্তিক ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারীদের সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে; বুয়েট প্রশাসনকে ঐতিহ্য পরিপন্থী যে কোন ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ও প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; অবিলম্বে উপাচার্যের অপসারণসহ প্রশাসনের আমূল পরিবর্তন করে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের মান অতীতের মতো সমুন্নত রাখতে সুযোগ্য, নির্ভীক ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের পদায়ন করতে হবে; র‌্যাগিং এবং অন্য সব অজুহাতে ছাত্রছাত্রী নির্যাতন নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে, ক্যাম্পাসে সব ছাত্রের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং আবরার হত্যাসহ ইতোপূর্বে সংঘটিত অন্য সব ছাত্র নির্যাতনের ঘটনাবলীর ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ বিচার কার্য অবিলম্বে সম্পন্ন করে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে, আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় ব্যর্থতার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ পুরো প্রশাসনের অপসারণ চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক ছাত্রদের সমিতি।

বুয়েটের শেরে বাংলা হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ

আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর অবশেষে পদত্যাগ করলেন বুয়েটের শেরে বাংলা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জাফর ইকবাল খান। ঘটনার সময়ে বুয়েট প্রশাসনের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। এর আগে শিক্ষার্থীরা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে শেরে বাংলা হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করে আসছিলেন। গতকাল বেলা তিনটার দিকে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মো. জাফর ইকবাল খান। তিনি বলেন, গতকাল সকালে উপাচার্যকে না পাওয়ায় তার কার্যালয়ে এবং রেজিস্ট্রার বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।

লজ্জা প্রকাশ করে আবরার হত্যার বিচার চাইল ছাত্রলীগ

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বুয়েট ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার ঘটনায় কেন্দ্রীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে লজ্জা প্রকাশ করে জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি করেছে ছাত্রলীগ। গতকাল দুপুরে ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ তাদের এই অবস্থান জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, আমরা আবরার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করছি। আমরা বলেছি কোন অপরাধীর স্থান বাংলাদেশ ছাত্রলীগে হবে না। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা ১১ জনকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছি। আপনারা জানেন, কোন ঘটনার জন্য এই প্রথম এতো দ্রুত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি এবং সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য আমরা লজ্জা প্রকাশ করছি।

সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় সংবাদ সম্মেলনে আবরার হত্যাকাণ্ডের পর তাদের নেয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন। জয় বলেন, সাংগঠনিকভাবে ছাত্রলীগ কখনোই কোন প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় কিংবা উৎসাহ প্রদান করে না। সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে অতি উৎসাহী কোন কর্মকাণ্ডকে ছাত্রলীগ অতীতের মতো ভবিষ্যতেও প্রশ্রয় দেবে না। সম্প্রতি আবরার হত্যাকাণ্ডের ছাত্রলীগের পদক্ষেপে আবারও তা প্রমাণ পেয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে একাত্মতা পোষণ করেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার্র্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছি। তবে, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেন, একটি বৃহত্তর ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা কখনই ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়ে এমকত হতে পারি না।

আবরার হত্যায় জড়িত অমিত শাহসহ সব অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি ও বুয়েট উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন ছাত্রদল নেতারা। অতীত ঐতিহ্য থাকলেও বর্তমান ছাত্রলীগ দানবীয় শক্তিতে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন। গতকাল দুপুরে ঢাবিতে আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন মিছিল শেষে সমাবেশে এ অভিযোগ করেন খোকন। মৌন মিছিলটি মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় আবরার হত্যায় জড়িত অমিত শাহসহ সব অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান ছাত্রদল নেতারা।

প্রসঙ্গত, আবরার ফাহাদ হত্যার পর পরই গ্রেপ্তার হন বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ জন। বহিষ্কার করা হয় ১১ জনকে। কমিটির সদস্যরা জানান, আবরারের বাবার দায়ের করা মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হলেও প্রাথমিক তদন্তে ১১ জনের বিরুদ্ধে সুষ্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত রোববার রাত ২টার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি ঘর থেকে তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই হলের শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় সন্ধ্যা সাতটার দিকে আবরারকে কয়েকজন ডেকে নিয়ে যায়। পরে, রাত ২টার দিকে হলের দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কুমারখালীর রায়ডাঙ্গায় আবরারের গ্রামের বাড়িতে তৃতীয় ও শেষ জানাজা শেষ হবার পর পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

  • আবরার হত্যাকারীদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী

    কিসের ছাত্রলীগ, কাউকে ছাড় নয়, অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি হবে

    বুয়েট চাইলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে পারে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হল থেকে মাস্তানদের ধরা হবে

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারের হত্যাকারীদের’ সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, এ নৃসংসতা কেন? এই জঘন্য কাজ কেন? এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

  • প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় ফুটে উঠেছে নিষ্ঠুরতার চিত্র

    আবরার ফাহাদের মতো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলে থাকেন আরাফাত ও মহিউদ্দিন। আবরারকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পিটিয়ে মুমুর্ষু অবস্থায় ফেলে

  • আবরার হত্যায় জাতিসংঘের নিন্দা

    বুয়টে শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমশিনের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোক ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে

  • মামলায় অমিত সাহার নাম না থাকায় ক্ষুব্ধ আবরারের বাবা

    বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে থাকে ছাত্রলীগের উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অমিত সাহাসহ কয়েকজন। মেধাবী ছাত্র আবরার আহমেদকে এ কক্ষেই ডেকে এনে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় অমিত সাহা উপস্থিত ছিল। অথচ

  • কুষ্টিয়ায় বুয়েট ভিসি

    এলাকাবাসীর তোপের মুখে পালিয়ে এলেন

    newsimage

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছাত্রলীগ নেতাদের নির্যাতনে নিহত প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের কুষ্টিয়ার

  • আবরার হত্যা

    আবরারকে হত্যা ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে খুনিরা

    গ্রেফতার ছাত্রলীগ নেতা অভি

    মেধাবী ছাত্র আবরার আহমেদ ফাহাদকে হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে সব রকম তৎপরতা চালিয়েছে খুনিরা। এ জন্য

  • আবরার হত্যা

    ছাত্রলীগের আরও তিনজন রিমান্ডে

    দুই বহিষ্কৃত নেতা ইয়াবা অস্ত্র মামলায় রিমান্ডে

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বুয়েট ছাত্রলীগের আরও তিন জনকে পাঁচদিন করে রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকা

  • দেশটা টর্চার সেল : বিএনপি

    সরকার গোটা দেশটাকে টর্চার সেলে পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল নয়া

  • বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

    ঘাতকদের শাস্তি না হলে কঠোর আন্দোলন

    আবরার ফাহাদের এমন মৃত্যুতে শোকে মৃহ্যমান বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ

  • তিন মামলা

    ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

    তিন মামলায় নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান রহিবুল ইসলাম এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।