• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ২৩ জিলহজ ১৪৪০

ভারত থেকে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা

আশ্রয় নিচ্ছে কক্সবাজার শিবিরে

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, টেকনাফ (কক্সবাজার)

| ঢাকা , শুক্রবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৯

এবার ভারত থেকে পালিয়ে এসে শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছে রোহিঙ্গারা। গত কয়েক দিনে ১২ জন রোহিঙ্গা কক্সবাজারের টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু শূন্য রেখা রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেয়। গতকাল দুপুরে ওই সব রোহিঙ্গা শিবিরের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

টেকনাফের উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউছুফ বলেন, গত তিন দিন আগে টেকনাফের হোয়াইক্যং উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা শিবিরের নুর আলম ও সানজিদাসহ এক পরিবারের ৫ জন রোহিঙ্গা ভারতের কাশ্মীর থেকে পালিয়ে এসে তার শিবিরে পৌঁছে। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবগত করা হয়, বর্তমানে ওই শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সময়ে ভারত থেকে সেদেশে আশ্রিত কিছু রোহিঙ্গাকে মায়ানমারে পাঠিয়ে দিয়েছিল। এই ভয়ে তারা সেদেশ ছেড়ে এখানে পালিয়ে আসেন। তাদের কাছে ভারত ইউএনএইচসিআর এর কতৃক প্রদত্ত আইডি কার্ড রয়েছে।

এছাড়া গত কয়েকদিনে নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু শুন্য রেখা রোহিঙ্গা শিবিরের জোহর আহম্মদ ও তার স্ত্রী সনজিদাসহ এক পরিবারের ৬ জন এবং বাহারছড়া শামলপুর রোহিঙ্গা শিবিরে আজিজ উল্লাহ নামে রোহিঙ্গা যুবক ভারতের কাশ্মীর থেকে পালিয়ে এসে শিবিরে আশ্রয় নেয় বলে জানিয়েছেন নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু শুন্য রেখা রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান দিল মোহাম্মদ ও টেকনাফ শামলাপুর রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম।

টেকনাফের বাহারছড়া শামলপুর শিবিরে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা আজিজ উল্লাহ সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, গত চার দিন আগে ভারত থেকে পালিয়ে টেকনাফের শামলাপুর রোহিঙ্গা শিবিরে আইয়ুবের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন রোহিঙ্গা যুবক। সে মায়ানমারের মংডু হাসসুরাতা গ্রামের আজিম উল্লাহর ছেলে। তবে আজিম উল্লাহর পরিবার নিয়ে ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কেরাইনটেলা নামক এলাকায় আজিজ উল্লাহ বলেন, ছোটকালে পরিবারের সঙ্গে পালিয়ে বাংলাদেশে টেকনাফ শামলাপুর হাতকুলা গ্রামে আশ্রয় নেয়। এখানে দীর্ঘ ১২ বছর কাটিয়ে পরিবারের সঙ্গে পালিয়ে ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কেরানিটেলাব এলাকায় গিয়ে বসবাস করছেন। সেখানেও প্রায় তিন হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বসতি রয়েছে বলে জানায়।

তিনি বলেন, ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে থাকা রোহিঙ্গা নারী জোহেরার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার সঙ্গে সেখানে ১১ বছর কষ্টের জীবন পাড়ি দেয়। কাশ্মীরে লোহার কাজে দিনমজুরি করে সংসার চলত। তবে অনেক সময় কাজের টাকা মিলত না। ফলে সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হতো। তাছাড়া সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, সেই ভয় সব সময় কাজ করছিল।

তার বর্ণনা মতে, ভারতের জম্মু-কাশ্মীর থেকে কলকাতা পৌঁছতে তিন দিন সময় লেগেছে। সেখান থেকে রাতে দালালের মাধ্যমে সাতক্ষীরা নামক এলাকার একটি ছোট খাল পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। পরে সেখান থেকে চট্টগামের গাড়িতে করে কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ শামলাপুর রোহিঙ্গা শিবিরে পৌঁছে মামা মোহাম্মদ আইয়ুবের বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

আজিজ উল্লাহ আরও বলেন, ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে বাবা, মা, স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে আসেন। আসার সময় তার কাছে ভারতীয় কিছু রুপি ছিল। সেগুলো বাংলা টাকা বানিয়ে গাড়ি ভাড়া দিয়ে চলে আসে। এখানে আসার পর তার স্ত্রী জোহেরা সঙ্গেও মুঠোফোনে কথা হয়। তারাও বাংলাদেশে পালিয়ে আসার চেষ্টা চালাচ্ছে। কেননা, সেখানে তাদের সংসার কে চালাবে, তাছাড়া সেখানে থাকা রোহিঙ্গারা কিছুটা ভয়ে রয়েছে।

গত বছর ২৫ আগষ্টের পর মায়ানমারে যেসব আত্মীয়স্বজন ছিল, এরাও পালিয়ে আসেন। তারা সবাই বর্তমানে উখিয়া- টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। তবে একদিনের মধ্যে তাকে ভারতে চলে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন আশ্রিত রোহিঙ্গা শিবিরের হেড মাঝি। তবে সে যেতে রাজি নয়, তারা সেখানে কোন ত্রাণ বা সাহায্য পায় না।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি টেকনাফ শামলাপুল রোহিঙ্গা শিবিরের ইনর্চাজ আবদুর রহমান বলেন, ভারতের কাশ্মীর থেকে পালিয়ে তার শিবিরে এক রোহিঙ্গা যুবক আশ্রয় নেয়ার খবর তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন।

টেকনাফ শামলাপুর রোহিঙ্গা শিবিরের হেড মাঝি মৌ. আবুল কাশেম বলেন, গত চারদিন আগে ভারত থেকে এক রোহিঙ্গা যুবক পালিয়ে এসে শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। তার কাছে ভারতের ইউএনএইচসিআর এর একটি কার্ড রয়েছে। ওই কার্ডে তার রিফ্যুজি নাম্বার রয়েছে। যার নং ৩০৫-১৪সি০০৫৫১। পরে ওই রোহিঙ্গাকে শিবিরের কর্মকর্তাদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, এই রোহিঙ্গা শিবিরে ২ হাজার ৬২৫ পরিবারে ১৩ হাজার ৭০ জন রোহিঙ্গা রয়েছে। তার মধ্যে বেশির ভাগ শিশু ও নারী।

উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, চলতি মাসে ভারত থেকে পালিয়ে আসা প্রায় অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। তার মধ্যে বেশির ভাগ শিশু ও নারী। এসব রোহিঙ্গাদের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ট্রানজিট পয়েন্টে রাখা হয়। পরে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল।