• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬, ৩০ রজব সানি ১৪৪১

ঋণখেলাপিদের পুনর্তফসিলীকরণ

ব্যাংকিং খাতকে আরও বেহাল অবস্থার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে

টিআইবি

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

শীর্ষস্থানীয় ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০৩ কোটি টাকা ঋণ পুনঃতফসিলিকরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, নিজেদের নীতিমালাকে পাশ কাটিয়ে এ ধরনের অবৈধ সুবিধা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি কায়েমী স্বার্থবাদী মহলের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে এবং সংকটে জর্জরিত ব্যাংকিং খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিবর্তে আরো বেহাল অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, যেভাবে বেক্সিমকো লিমিটেডকে ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের সুযোগ দেয়া হচ্ছে তা নজিরবিহীন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক যে ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছে তারই প্রমাণ। বেক্সিমকো লিমিটেডের যে ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের খবর বেরিয়েছে তা চাহিদা ঋণ, সংজ্ঞাগতভাবেই যা পরিশোধের মেয়াদ এক বছরের বেশি হওয়ার নিয়ম নেই। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের বৃহৎ ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ নীতিমালায় তারা এক দফা অন্যায্য সুবিধা পেয়েছে। এখন আবার সেই নীতিমালাকে পাশ কাটিয়ে তাদের ছয় বছরের জায়গায় বারো বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেয়া হচ্ছে, যেন প্রতিষ্ঠানটি খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত হওয়া থেকে বেঁচে যেতে পারে। সংবাদমাধ্যম থেকে আমরা আরো জানতে পেরেছি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি গোপন রাখতে কোন প্রজ্ঞাপনও দেয়নি। এভাবে জনগণকে অন্ধকারে রেখে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেয়ার ঘটনায় আমরা রীতিমতো আতঙ্কিত বোধ করছি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সার্বিকভাবে ব্যাংকিং খাতই কায়েমি স্বার্থবাদী মহলের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, শাসকগোষ্ঠী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেভাবে খেলাপি হয়ে যাওয়া বা অন্যায্য সুবিধার মাধ্যমে পুনঃতফসিলিকরণের সুবিধা পাওয়া ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে, দেশে খেলাপি ঋণের সংস্কৃতির প্রাতিষ্ঠানিকিকরণ হয়ে গেছে।

কাগজে কলমে উচ্চ প্রবৃদ্ধি, তীব্র তারল্য সংকট আর ব্যাংকিং খাতের এই দুরবস্থার মধ্যে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে এক ধরনের বুদবুদ তৈরি হয়েছে। এটি যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। ফলশ্রুতিতে দেশের অর্থনীতি কার্যত মুখ থুবড়ে পড়বে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাংকিং খাতের সংস্কার আর শুধু কাগুজে প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। ক্ষমতাসীন মহল পরিস্থিতির গুরুত্ব যথাযথভাবে অনুধাবন করতে পারবেন এবং কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের জন্য খাত সংশ্লিষ্ট নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে দ্রুত একটি কমিশন গঠন করবেন।