• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৬, ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

বেশি হয়রানির শিকার নারী

সংবাদ :
  • বাকী বিল্লাহ

| ঢাকা , রোববার, ০৬ অক্টোবর ২০১৯

আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপরাধের ধরন পাল্টেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রতিদিন নতুন নতুন কৌশলে অপরাধ ঘটছে। গত এক দশকে প্রযুক্তির প্রসারে সাইবার ক্রাইম বা সাইবার অপরাধ ব্যাপক হারে বেড়েছে। আমাদের দেশে সাইবার ক্রাইমের একটি অন্যতম উপায় হলো অন্যের পরিচয়ে হয়রানি করা। সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের পরিচয় ধারণ করে বিভিন্ন সময় বিশেষ করে নারীদের নানাভাবে প্রতারণা, হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। নারীদের সরলতার সুযোগ গ্রহণ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে তা দিয়ে অপরাধের আশ্রয় নেয় ওই প্রতারক চক্র। দেশে সাইবার অপরাধের মধ্যে এটা অন্যতম।

ব্লাকমেইলিং : অনলাইনে বিভিন্ন সময় সুযোগ বুঝে এক শ্রেণীর প্রতারক চক্র নিয়মিত ব্ল্যাকমেইলিং করে আসছে। ফেসবুকের মাধ্যমে প্রথমে বন্ধুত্ব ও পরে সুসম্পর্ক ও প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্যক্তিগত ছবি বা অন্তরঙ্গ ছবি ভিডিও করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। আবার অনেকেই হারানো মোবাইল পেয়ে তার থেকে ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য নিয়ে নানা কৌশলে নারীদের প্রতারণায় ফেলছে। এমন বহু ঘটনা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ঘাটন করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। পুলিশের সাইবার অপরাধ তদন্ত টিম সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ধারায় লতা (ছদ্ম নাম) নামের একজন নারী অভিযোগ করে বলেন, তিনি ২০০১ সাল থেকে ইতালিতে বসবাস করছেন। ইতালির রোমে বসবাসকারী সিলেটের বাসিন্দা আলি আহমেদ রনির সঙ্গে ২০০৬ সালের অক্টোবরে ফেসবুকের মাধ্যমে তার পরিচয় হয়। আলাপ আলোচনার এক পর্যায়ে সে তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তোলে। অন্তরঙ্গ মুহূর্তের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও গোপনে মোবাইল ফোনে ধারণ করে সংরক্ষণ করে। সম্পর্কের আন্তরিকতার কারণে ওই যুবক ইতালিতে ব্যবসা করার জন্য ওই নারীর কাছে ১৫ হাজার ইউরো যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা দাবি করে। কিছুদিন পর সে জার্মানিতে যাওয়ার জন্য আরও ৩০ হাজার ইউরো বা ৩০ লাখ টাকা দাবি করে। তার দাবিকৃত টাকা না দিলে সে তার সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছেড়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। এ নিয়ে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সে ওই নারীকে চড়-থাপ্পড় মারে। এরপর ওই যুবক ইতালি থেকে দেশে ফিরেও ফোনে ওই নারীকে নানাভাবে হুমকি দেয়। লতা (ছদ্মনাম) ইতালি থেকে দেশে ফিরে এসে যাত্রাবাড়ীর একটি বাসায় ওঠে। অভিযুক্ত রনি এরপরও না থামায় অবশেষে বাধ্য হয়ে ওই নারী পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পুলিশের সাইবার বিশেষজ্ঞ টিম তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

অন্যদিকে গত জুলাই মাসে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় অপর এক নারী অভিযোগ করে বলেন, তেজগাঁও এলাকার এক যুবকের সঙ্গে তার ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর ওই যুবক বিভিন্ন সময় ফেসবুক ও টেলিফোনে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে। এতে তাদের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। এরপর সেতু নামে ওই যুবক তার অন্তরঙ্গ কিছু ছবি কৌশলে ধারণ করে। পরবর্তীতে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরপর ওই নারী অন্যস্থানে বিয়ে হওয়ার পর অভিযুক্ত সেতু ও তার বন্ধু প্রদীপ ফেসবুকে ওই নারীকে দেখা না করলে ওই ছবি ফেসবুকে ভাইরাল করে ছেড়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে ওই নারী ও তার স্বামীর ফেসবুক আইডিতে ওইসব ছবি পোস্ট করে। ওই নারী ছবি ও ভিডিও উদ্ধারসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পর্নো নিয়ন্ত্রণ আইনে-২০১২ মামলা দায়ের করেন। এভাবে প্রতিনিয়ত নারীরা ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতারিত ও নির্যাতিত হচ্ছে। অনেকেই অবশেষে কোন উপায় না পেয়ে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন।

এ ধরনের প্রতারক চক্রকে ধরতে পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যরা তৎপর রয়েছে। তারা গোপনীয়তা রক্ষা করে জালিয়াতি ও প্রতারক চক্রকে ধরে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান।