• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২০, ১৬ কার্তিক ১৪২৭, ১৪ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

ভারতের ভিসা স্থগিত

বিড়ম্বনায় পড়েছেন অনেক বাংলাদেশি

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ১৫ মার্চ ২০২০

করোনাভাইরাসের কারণে ভারতের ভিসা স্থগিত করায় বিড়ম্বনায় পড়েছে অনেক বাংলাদেশি। চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কারণে ভিসার জন্য আবেদন করা হলেও কোন ভিসা দিচ্ছে না ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করার পর কয়েকটি ক্যাটাগরি বাদে অন্য সবার ভিসা স্থগিত এবং নতুন ভিসা দেয়া বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় ভারত সরকার। জরুরি ভিসা সংগ্রহে করতে এসে ভোগান্তি শিকার হতে হয়েছে জানান ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, ভারতের ভিসা স্থগিত আদেশ গতকাল রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়ে চলবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। কেবল কূটনৈতিক, অফিসিয়াল, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, চাকরি এবং প্রকল্প ভিসা স্থগিতাদেশের বাইরে রাখা হয়েছে। এমন স্থগিতাদেশের কারণে ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন অনেক বাংলাদেশি, ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে এই সময়ে তাদের চিকিৎসা নিতে যাওয়ার কথা। এ বিষয়ে ঢাকার শাঁখারীবাজারের বাসিন্দা অভিজিৎ কুমার দে সাংবাদিকদের বলেন, তার মা সীমা দে ‘পেরিফেরাল ভাসকুলার’ রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশে এর চিকিৎসা না থাকায় তারা ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সে অনুযায়ী ২৪ মার্চ চেন্নাইয়ের ভেলোর সিএমসি হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্টও তারা নিয়েছেন। ১৬ মার্চ ভিসা হাতে পেলে পরদিন রওনা হওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। এখন ওরা বলছে, ভিসা দেবে না। পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে থামে আমরা তো এখনও জানি না। ভিসার সন্ধান নিতে গত বৃহস্পতিবার যোগাযোগ করলে হাইকমিশনের ভিসা হেল্পে ই-মেইল করতে বলা হয়। এরপর সেখানে ই-মেইল করলে তাদের বলা হয় রোগীকে নিয়ে সরাসরি হাইকমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে। সে অনুযায়ী রোববার হাইকমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন জানান অভিজিৎ। কিন্তু সেখানে গিয়ে কী হবে, এখনও তার জানা নেই। ৩৯ বছর বয়সী মায়ের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে তরুণ অভিজিৎ বলেন, ‘আমার মায়ের হাত-পা সব শুকাইয়া যাইতেছে। তার অলরেডি দুই পায়ের পাতা গোড়ালি পর্যন্ত শুকাইয়া কাঠের মতো শক্ত হয়ে গেছে।’

ফরিদপুরের সরকারি আইনুদ্দিন কলেজের শিক্ষক জহুরুল ইসলামও তার মাকে নিয়ে প্রায় একই রকম জটিলতায় আছেন। মেরুদণ্ডের জটিলতা নিয়ে গত নভেম্বরে তিনি চিকিৎসা নিয়েছিলেন ভেলোরের সিএমসি হাসপাতালে। সে সময় অস্ত্রোপচার করার পরামর্শ পেয়ে টাকা জোগাড় ও অন্য প্রস্তুতির জন্য দেশে ফিরে আসেন আইনুদ্দিন। অস্ত্রোপচারের জন্য ইতোমধ্যে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া গেলেও ভিসা বন্ধ হওয়ায় এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলে জানান জহুরুল। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক করে যখন ভিসার আবেদন করতে যাব, তখনই এই ঝামেলা লাগল। এখন তো জানিও না, কবে এই সমস্যার সমাধান হবে।’

পুরান ঢাকার বাসিন্দা রায়হান আহমেদ বলেন, তার বাবা এর আগে ভেলোরে হৃদরোগের চিকিৎসার নিয়েছেন কয়েকবার। এ মাসে আবার তার সেখানে যাওয়ার কথা ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে উনাকে কয়েকদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখতে হয়েছিল। ঠিক করেছিলাম কিছুটা সুস্থ হলে ভারতে নেব। এখন তো আর সম্ভব না।’