• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ রবিউস সানি ১৪৪১

বিনামূল্যের ৩৫ কোটি বই মুদ্রণ

বিপরীত অবস্থানে মুদ্রাকর-প্রকাশকরা

মাধ্যমিকে ১৭ কোটি বই ছাপার দরপত্র উন্মুক্ত হচ্ছে আজ

সংবাদ :
  • রাকিব উদ্দিন

| ঢাকা , সোমবার, ০৮ এপ্রিল ২০১৯

২০২০ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই মুদ্রণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড’ (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য ৩৫ কোটিরও বেশি বই মুদ্রণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের প্রায় ১৭ কোটি বই ছাপার দরপত্র উন্মুক্ত করা হচ্ছে আজ। এই দরপত্রে অংশগ্রহণ নিয়ে ছাপাখানার মালিক ও পুস্তক প্রকাশকরা বিপরীতমুখী অবস্থানে রয়েছে। এ নিয়ে কিছুটা বেকায়দায় পড়েছেন এনসিটিবি’র কর্মকর্তারা। তবে চলতি ২০১৯ শিক্ষা বর্ষের বই মুদ্রণে নানা রকম অনিয়মের কারণে ২০টি মুদ্রণ ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্তি, তিরস্কার ও আর্থিক জরিমানা করেছে এনসিটিবি। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই নিষিদ্ধ নোট-গাইড বই ছাপার সঙ্গে জড়িত বলে এনসিটিবি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ছাপাখানার মালিকরা (প্রিন্টার্স) বলছেন, যারা নিষিদ্ধ নোট-গাইড বইয়ের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের সরকারের পাঠ্যপুস্তক ছাপার কাজ দেয়া উচিৎ নয়।

অন্যদিকে পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতারা বলছেন, ছাপাখানার মালিকরা সিন্ডিকেট করে নিম্নমানের পাঠ্যবই ছেপে আসছেন। এজন্য এনসিটিবি’র একটি পক্ষের অনুরোধে তারা পাঠ্যবই ছাপার দরপত্রে অংশ নিচ্ছেন।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, নোট-গাইড ও সহায়ক বই ছাপার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যাতে বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের কাজে অংশগ্রহণ করতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সম্প্রতি এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহাকে নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা সংবাদকে বলেছেন, ‘আমাদের কাছে কে বা কারা নোট-গাইড প্রকাশ ও বাজারজাতকরণ করছে সে সর্ম্পকে কোন তথ্য নেই। এ কারণে তাদের কেউ যদি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের দরপত্রে অংশগ্রহণ করেন তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। তাছাড়া আমাদের বিদ্যমান আইন-কানুন ও পিপিআর’র বাইরে যাওয়ার সুযোগও নেই।’

নোট-গাইড বা সহায়ক বইয়ের প্রকাশকদের সরকারি বই মুদ্রণ কাজ থেকে বিরত রাখার কোন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কিনাÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা উপমন্ত্রী মহোদয় আমাকে কিছু কথা বলেছেন, সেটা আমি বলতে পারছি না।’

জানা গেছে, ২০২০ শিক্ষাবর্ষের জন্য এবার ৩৫ কোটির কিছু বেশি পাঠ্যবই মুদ্রণ করা হচ্ছে। আজ মাধ্যমিক স্তরের বই মুদ্রণের দরপত্র উন্মুক্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার দরপত্রও ইতোমধ্যে আহ্বান করা হয়েছে, যা আগামী ১৬ এপ্রিল উন্মুক্ত করা হবে। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপানো হয় স্থানীয় দরপত্রে; আর প্রাথমিক স্তরের বই ছাপানো হয় আন্তর্জাতিক দরপত্রে।

মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘এনসিটিবি’র চাহিদার সব পাঠ্যপুস্তক নির্ধারিত সময়ে ছেপে সরবরাহ করতে দেশের মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোই যথেষ্ঠ। এ বিষয়ে আমাদের পুরোপুরি সক্ষমতা অর্জন হয়েছে। আর যারা নোট-গাইড বই ছাপার সঙ্গে জড়িত তারা যাতে সরকারি বই ছাপার কাজে অংশগ্রহণ করতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ইতোমধ্যে এনসিটিবি’র চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী। এনসিটিবি’র উচিত যত দ্রুত সম্ভব এই নির্দেশনা অনুসরণ করা।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির প্রভাবশালী নেতা এবং পূঁথি নীলয় প্রকাশনার স্বত্বাধিকারী শ্যামল পাল সংবাদকে বলেন, ‘আমরা আলাদা প্রেসে (ছাপাখানা) সহায়ক বই এবং সরকারের পাঠ্যবই মুদ্রণ করি। আর প্রকাশকরা সরকারি বই ছাপার কাজে অংশ না নিলে পাঁচ বছরেও এক শিক্ষাবর্ষের সব বই মুদ্রণ সম্ভব হবে না। বইয়ের মানও ভালো হবে না। আমরা সরকারি বই ছাপার কাজে অংশ নেয়ায় মুদ্রণ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙে গেছে। এতে এনসিটিবি উপকৃত হয়েছে।’

২০ প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্তি ও শাস্তি : এনসিটিবি সূত্র জানিয়েছে, নিম্নমানের কাগজে বই মুদ্রণ, নির্ধারিত সময়ে সব বই ছাপাতে ব্যর্থ হওয়া এবং ভাড়া করা ছাপাখানায় বই মুদ্রণসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে এবার ২০টি ছাপাখানাকে ভিন্ন ভিন্ন শাস্তি দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে মেসার্স নাসের আর্টি প্রেসকে ৫ বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত, মডেল প্রিন্টিং প্রেস ও এমআর প্রিন্টিং প্রেসকে ৩ বছরের জন্য এবং আল বারাকা প্রিন্টিং প্রেসকে এক বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

আর অন্য ছাপাখানার কারও কাছ থেকে ৩০০ টাকার স্টাম্পে অঙ্গীকারনামা আদায় (ভবিষ্যতে আর এ কাজ করবে না), তিরষ্কারদন্ড ও অর্থদন্ড দেয়া হয়েছে এবং কারও বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণেরও সিন্ধান্ত হয়েছে বলে এনসিটিবি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই ধরনের ছাপাখানার মধ্যে রয়েছে- জাতীয় মুদ্রণ, শৈলি প্রিন্টার্স, এআরটি প্রিন্টিং প্রেস, বর্ণমালা প্রিন্টার্স, ন্যাশনাল প্রিন্টার্স, কোহিনুর আর্ট প্রেস, তদবির প্রিন্টিং প্রেস, নিবেদিকা প্রিন্টিং প্রেস, হক প্রিন্টিং প্রেস, মেরাজ প্রিন্টার্স, সুবর্ণ প্রিন্টার্স, মোত্তাহিদা প্রিন্টিং প্রেস, শাপলা প্রিন্টিং প্রেস, রাইয়ান ও মহানগর প্রিন্টিং প্রেস।