• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৯ রমজান ১৪৩৯

বিএনপির নতুন চ্যালেঞ্জ খালেদার মুক্তির আন্দোলন

সংবাদ :
  • অমিত হালদার

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সরকার দীর্ঘমেয়াদে কারাবন্দী রাখতে চায় বলে আশঙ্কা করছেন দলের নেতারা। এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলাই বিএনপির সামনে জরুরি বলে মনে করেন তারা। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনই এখন বিএনপির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ।

সরকারবিরোধী আন্দোলনের আগে খালেদার মুক্তি আন্দোলন নিয়েই মাঠে থাকতে চায় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তবে সব পরিকল্পনাই অত্যন্ত ধীর গতিতে বাস্তবায়ন করতে চায় নেতারা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে আরও বেগবান আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, দলীয় প্রধানকে মুক্ত করতে আমাদের শপথ নিতে হবে। আগামী দিনে সব কর্মসূচি সফল করে জনতার উত্তাল তরঙ্গের মধ্য দিয়ে আমরা দেশনেত্রীকে জেল থেকে মুক্ত করে নিয়ে আসব।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে ৫ বছরের কারাদ-ের রায় দিয়েছেন ঢাকার বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান। তিনি সেদিন ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্তসার পড়েন। এরপর বিএনপির আইনজীবীরা রায়ের অনুলিপি পেতে আবেদন করেন। তা না পাওয়ায় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখতেই রায়ের অনুলিপি দিতে দেরি করা হচ্ছে। এদিকে নেতারা বলছেন, রায়ের কপি পাওয়ার পরপরই আদালতে আপিল ও জামিন আবেদন করা হবে। কিন্তু রায়ের প্রায় এক সপ্তাহ পরও সত্যায়িত অনুলিপি দেয়া হচ্ছে না। তারা বলছেন, এ থেকেই অনুমান করা যায় যে, খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার সরকারের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই একদিকে রায়ের কপি দিতে দেরি অন্যদিকে খালেদা জিয়াকে অন্য মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর পাঁয়তারা চলছে।

গতকাল খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া সংবাদকে বলেন, রায়ের সত্যায়িত কপি আজও পাইনি। আগামীকাল পাব বলে আশা করছি। তিনি বলেন, রায়ের কপি বুধবার পাওয়া যাবে বলে আদালত জানিয়েছিল। আমরা এখনও রায়ের কপি পাইনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে কষ্ট দিতেই রায়ের সত্যায়িত কপি দিতে দেরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে জেলে রাখতে কূটকৌশল করছে সরকার। আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বললেও উল্টো কাজ করে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেও বলা হয়, খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে এবং তার জামিন বাধাগ্রস্ত করতে ক্ষমতাসীনরা হীন প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

তবে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়ার মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। এখানে আওয়ামী লীগের কোন হস্তক্ষেপ নেই। আদালত তার নিজস্ব গতিতে চলছে।

দলীয় সূত্রমতে, জিয়া অরফানেজ মামলায় বন্দী অবস্থায় খালেদা জিয়াকে কুমিল্লার নাশকতার মামলাও বন্দী দেখানো হতে পারে। এছাড়া খালেদা জিয়ার ৩৪ মামলার চারটিতে যেকোন সময় জারি হতে পারে গ্রেফতারি পরোয়ানা। এর মধ্যে আছে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, জাতীয় পতাকা অবমাননা, ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালন এবং বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা। তবে, খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের অভিযোগ, বিএনপির আগামী নির্বাচনে যাওয়া বন্ধেই চেয়ারপারসনসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সারাদেশেই মিথ্যা মামলা দায়ের ও গ্রেফতার অভিযান চলছে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, দলের প্রধানের কারাদ-ের প্রতিবাদে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার চাপ রয়েছে দলের বিভিন্ন স্তর থেকে। কিন্তু কোন উসকানিতে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণ ধারাবাহিক কর্মসূচির মধ্য দিয়েই এগোতে চায় হাইকমান্ড। বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, খালেদা জিয়া গ্রেফতারের পরেও কঠোর কর্মসূচি না দেয়ায় দলের তৃণমূলে এক ধরনের ক্ষোভ আছে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের সম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে হবে। পরে সরকারের পরিস্থিতি বুঝে তীব্র আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে। এরই মধ্যে নানামুখী সাংগঠনিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। ইতোমধ্যে দলের সিনিয়র নেতা এবং ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন তারেক রহমান। জেলাপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গেও প্রতিদিন কথা বলছেন তিনি। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার পাশাপাশি কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার তাগিদ দিচ্ছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকা- বাস্তবায়ন করছেন।

দলের চেয়ারপারসন কারামুক্ত না হওয়া পর্যন্ত নতুন নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠেই থাকবে বিএনপি। কারাদ-ের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দফায় ঘোষিত কর্মসূচি শেষ হয়েছে গতকাল। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় এখন চলছে বিএনপি। লন্ডনে বসে তিনি চলমান কর্মসূচি মনিটর করছেন।

দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির পরবর্তী পরিকল্পনায় ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতা তুলে ধরে কৌশলে নির্বাচনী প্রস্তুতি চালানো, ঢাকার পাশাপাশি বিভাগীয় শহরগুলোতে কেন্দ্রীয় নেতাদের বড় জমায়েতের মাধ্যমে কর্মসূচি সফল করতে চায় বিএনপি। এসব কর্মসূচিতে ২০ দলীয় জোটের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে এক কাতারে আনার তৎপরতাও চালাচ্ছে বিএনপি। সাংগঠনিক এসব তৎপরতার বাইরে কূটনৈতিক তৎপরতাও চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি।

এদিকে দলের চেয়ারপারসনকে কারারুদ্ধ করার প্রতিবাদে তিন দিনের কর্মসূচির শেষদিনে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতীকী অনশন করে বিএনপি। দিনব্যাপী এ অনশনে বিএনপির কয়েক হাজার কর্মী প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন ছিল। পুলিশের আপত্তিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ছয় ঘণ্টার প্রতীকী অনশন চার ঘণ্টায় শেষ করল। এ সময় দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, আবারও একতরফা নির্বাচন করতে চাইছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু খালেদা জিয়াকে ছাড়া জাতীয় নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করে সরকার আগুন নিয়ে খেলছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি নেতারা। খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।