• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৩০ মহররম ১৪৪২, ০২ আশ্বিন ১৪২৭

করোনাভাইরাস

বাণিজ্যিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ২০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২০

করোনাভাইরাসে বাণিজ্যিকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ২০ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের এক প্রতিবেদনে এই তালিকা প্রকাশ করেছে। গত বুধবার ‘গ্লোবাল ট্রেড ইম্প্যাক্ট অব দ্য করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এপিডেমিক’ শিরোনামে আঙ্কটাডের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড কমোডিটিস ডিভিশন থেকে পরিচালিত এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাসের কারণে চীনের মধ্যবর্তী পণ্য রপ্তানি দুই শতাংশ কমলে যে ২০টি দেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বাংলাদেশ তার একটি। করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্প খাত, কাঠ ও আসবাব শিল্প এবং চামড়াশিল্পে ক্ষতির আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। চীনের অর্থনীতি শ্লথ হওয়ায় বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে চামড়াশিল্পে। এই শিল্পে ১৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বস্ত্র ও আসবাবপত্র শিল্পে এক মিলিয়ন ডলার করে ক্ষতি হতে পারে।

চীনের রপ্তানি কমায় সবচেয়ে বেশি ইউরোপীয় ইউনিয়নে ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনে। ইইউভুক্ত দেশগুলো যন্ত্রপাতি, গাড়ি ও রাসায়নিকের মধ্যবর্তী পণ্যের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের বড় ধরনের লোকসান হতে পারে। এছাড়া অন্য যে দেশগুলো ক্ষতির মুখে পড়বে তার মধ্যে ওপরের দিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও ভিয়েতনাম।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এর ফলে এক মাসের ব্যবধানে চীন থেকে শিল্পের কাঁচামাল ও বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি টাকার অঙ্কে প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে। চীনের হুবেই প্রদেশ ছাড়া অন্যান্য প্রদেশে প্রস্তুত থাকা কাঁচামাল ও পণ্য সরবরাহ সীমিত আকারে শুরু হয়েছে। এসব পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগবে। কারখানায় উৎপাদন শুরু হওয়া পণ্য আসতে আরও সময় লাগবে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে পণ্য আমদানি কমার প্রভাব থাকবে মার্চের শেষ পর্যন্ত। পণ্য রপ্তানি যাতে হাতছাড়া না হয়, সে জন্য এরই মধ্যে চীন থেকে উড়োজাহাজে করেও কাঁচামাল নিয়ে আসতে শুরু করেছেন রপ্তানিকারকরা। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপ-আমেরিকার ক্রেতাদের কাছ থেকে কম সাড়া পাচ্ছেন রপ্তানিকারকরা। কারণ, করোনাভাইরাসের প্রভাবে এসব দেশে পর্যটন খাতে মন্দা শুরু হয়েছে।

রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, চীন থেকে জানুয়ারি মাসে বাণিজ্যিক পণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি হয়েছে ১০ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকার। তবে ফেব্রুয়ারিতে আমদানি কমে হয়েছে ৮ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকার। অর্থাৎ এক মাসে পণ্য আমদানি কম হয়েছে ২ হাজার ৫১৫ কোটি টাকার (২৩ শতাংশ)। পণ্যের হিসাবে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে পণ্য আমদানি হয়েছে ৫ লাখ ২৬ হাজার টন। ফেব্রুয়ারিতে আমদানি হয় ৪ লাখ ৬৫ হাজার টন।

পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শিল্প খাতে কাঁচামাল আমদানি কমেছে বেশি। যেমন শিল্প লবণ আমদানি কমেছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। জানুয়ারিতে শিল্প লবণ আমদানি হয় ৫৩ হাজার টন। ফেব্রুয়ারিতে তা কমে দাঁড়ায় ৩৫ হাজার টনে। পোশাক খাতের সেলাই মেশিন জানুয়ারিতে আমদানি হয় ১৮৫ কোটি টাকার। ফেব্রুয়ারিতে তা কমে হয় ৪৭ কোটি টাকার। রপ্তানিমুখী জুতা শিল্পের কাঁচামাল জানুয়ারিতে আমদানি হয় ৯০ কোটি টাকার, ফেব্রুয়ারিতে আমদানি হয় ৭০ কোটি টাকার। কমেছে ভোগ্যপণ্য আমদানিও। রসুন আমদানির পুরোটাই আসত চীন থেকে। এই পণ্যটি জানুয়ারিতে আসে ১১ হাজার ৬৭৭ টন। ফেব্রুয়ারি মাসে এসেছে ৬ হাজার ৯৪৯ টন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই। এই ভাইরাস এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ২৮৫ জন মানুষ মত্যুবরণ করেছে। বিভিন্ন দেশে ৯৫ হাজার ৪৮১ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৩ হাজার ৬৮৮ জন। শুধুমাত্র চীনের মূল ভূখ-েই আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৪৩০ এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ১২ জনের। চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা দক্ষিণ কোরিয়ায়। সেখানে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৭৬৬ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৩৫ জন।