• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২০, ১৪ সফর ১৪৪২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৭

বাংলাদেশ কয়লার ভাগাড়ে পরিণত হবে

সুলতানা কামাল

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ০৬ অক্টোবর ২০১৯

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও মানবাধীকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল সুন্দরবনসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও শিল্পকারখানা স্থাপনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এর ফলে বাংলাদেশ বিশ্বনিন্দিত কয়লার ভাগাড়ে পরিণত হবে। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুটি মিলনায়তনে ‘ইউনেস্কোর ৪৩তম সভার সব সুপারিশ বাস্তবায়ন, সুন্দরবানের পাশে রামপালসহ সব শিল্প নির্মাণ প্রক্রিয়া বন্ধ ও সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা সম্পন্ন’ করার দাবিতে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আবদুল মতিন। বক্তব্য রাখেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, ওয়াটার কিপারস বাংলাদেশের সমন্বয়কারী ও বাপার যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল প্রমুখ।

সুন্দরবনে রামপাল প্রকল্প বন্ধের দাবি জানিয়ে সুলতানা কামাল বলেন, রামপাল প্রকল্পের নির্মাতা ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসি তাদের নিজ দেশে সব কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থগিত করেছে। অথচ একই প্রতিষ্ঠান প্রবল গণআপত্তির মুখেও বাংলাদেশে কয়লাবিদ্যুৎ তৈরিতে পিছপা হচ্ছে না। এটি নিঃসন্দেহ একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ আচরণ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যত ক্ষতিকর প্রকল্প তা যৌথভাবে করছে ভারত। সেটা করতে যে পণ্য ব্যবহৃত হবে তা হতে হবে ভারতীয় এবং সমস্ত সুযোগ-সুবিধাও নিয়ে যাবে ভারত। এই জায়গায় মনে হয় চিন্তা-ভাবনার সময় এসেছে। সুলতানা কামাল বলেন, আমরা ইচ্ছা করলেই সুন্দরবন, সারাদেশের বনরাজি, নদী, উপকূল জলাশয়, বাতাস; সব কিছুকেই বাঁচিয়েই উন্নয়নের পথে এগোতে পারি। উন্নয়ন বা বিদ্যুতের জন্য কয়লা, এমনকি কোনো জীবাশ্ম জ্বালানিরই কোন প্রয়োজন নেই। রাষ্ট্র পরিচালকদের মন পরিষ্কার থাকলেই আমাদের অফুরন্ত পরিষ্কার বিকল্প জ্বালানি চোখে পড়বে। সুলতানা কামাল বলেন, আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে ইউনেস্কোর ৪৩তম সভায় বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের দুরাবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এরআগে ৪১তম সভায় (২০১৭) বেশ কিছু নেতিবাচক কিন্তু সঠিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছিল ইউনেস্কো। বাংলাদেশের দায়িত্ব ছিল সেসব বিষয়ে করণীয় সব কাজ সম্পন্ন করে এবারের অর্থাৎ গত জুনের ৪৩তম সভায় প্রতিবেদন জমা দেয়া। কিন্তু বাকুর সভায় বাংলাদেশের কৃত কাজের প্রতিবেদনে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি সন্তুষ্ট হয়েছে বলে মনে করেনি। কারণ ২০১৭ সালের কাজগুলো সম্পন্ন করার করার জন্য কমিটি আবার জোর তাগাদা দিয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের পর্যবেক্ষণ দল সরেজমিন সুন্দরবন দেখতে আসবে। আর বাংলাদেশকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবার প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। যা ৪৪তম সভায় মূল্যায়িত হবে। কিন্তু সভা বাংলাদেশ সরকারের কাজকর্মে সন্তুষ্ট না হলে ‘সুন্দরবন বিপদাপন্ন ঐহিত্য’ তালিকায় চলে আসতে পারে। যা হবে জনগণের ও দেশের জন্য অযোগ্যতা, ব্যর্থতা, দুঃখজনক, লজ্জাকর ও অপমানজনক।

বাপার আবদুল মতিন বলেন, সুন্দরবন ধ্বংস হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ধ্বংসের মুখে পড়বে। সেখানে অনেক মানুষের জীবীকা সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। সরকারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সুন্দরবনকে রক্ষা করার। কিন্তু সরকার তা খুব একটা করছে না।

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, গত ১০ বছরে দেশে প্রায় ৫০টি বড় দুর্যোগ হয়েছে। আইলা থেকেও মানুষকে বাঁচিয়েছে সুন্দরবন। এই সুন্দরবন যদি ধ্বংস হয়, তাহলে ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনে একটা বড় হুমকি হবে। সরকার যদি যথার্থ ভূমিকা না নেয়, তাহলে এই ধ্বংসের দায় তারা এড়াতে পারবে না।

বাপার যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৩তম সভায় সুন্দরবনের দুরবস্থা নিয়ে আলোচনার পর কিছু সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্তগুলোর একটি, যতক্ষণ না পর্যন্ত ‘স্ট্র্যাটেজিক এনভায়রনমেন্টাল অ্যাসেসমেন্ট (এসইএ)’ না আসে, ততক্ষণ সুন্দরবনে কোনো ভারী শিল্প নির্মাণ-প্রক্রিয়ার অনুমতি সরকার দেবে না। এর মানে রামপালসহ যেসব ভারি শিল্পকারখানা নির্মাণ চলমান আছে, সেসব বন্ধ রাখতে হবে। তিনি বলেন, সরকার ইউনেসকোকে বলে এসেছে, এসব সিদ্ধান্ত মানবে। অথচ সরকার মানছে না।

সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করা, সুন্দরবনের বাফার জোন, কোর জোন ও বনের নিকটবর্তী সব কলকারখানা, এলপিজি কারখানা বন্ধ করা, ইউনেসকোর সব দিকনির্দেশনার পূর্ণ বাস্তবায়ন করা, লাল ক্যাটাগরির শিল্পকে সবুজ করার কাজ বন্ধ করা ও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষার কার্যসীমা নির্ধারণ করা।