• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৯, ৬ মাঘ ১৪২৫, ১২ জমাউল আওয়াল ১৪৪০

বিআইডব্লিউটিসি-বিসিসি দ্বন্দ্বে

বরিশাল নৌবন্দরে উন্নয়নে শত কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে না

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, বরিশাল

| ঢাকা , রবিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৯

বিআইডব্লিউটিএ’র কাছ থেকে জমি বার্ষিক ইজারা নিয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্মিত বহুমুখী সিটি মার্কেটটি অপসারণ না হওয়ায় বিআইডব্লিউটিএ শত কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারছে না। অপরদিকে মার্কেটটি ভেঙে ফেলা হলে একদিকে যেমন সিটি করপোরেশনের ব্যয় করা অর্থের অপচয় ঘটবে তেমনি দুই শতাধিক ব্যবসায়ী নিঃস্ব হয়ে যাবে। মূলত এই মার্কেটই বরিশালের একমাত্র পাইকারি কাঁচাবাজার।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, বিশ^ব্যাংকের অর্থায়নে ৩২ শত কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বাংলাদেশ রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট বিআরডব্লিউটিপি’ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম, ঢাকা, আশুগঞ্জ, বরিশাল, চাঁদপুর নৌবন্দরের উন্নয়ন করা হবে। এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বরিশালে আধুনিক নৌ বন্দরের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ, টার্মিনাল ভবন বর্ধিতকরণ ও নৌপথের যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিকরণ। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করেছে। বিশেষজ্ঞ টিম বরিশাল নৌ বন্দরের চাহিদা নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দেয়ার পর আহ্বান করবে। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ’র জমিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের বহুমুখী মার্কেট থাকায় প্রকল্পটি আদৌ বাস্তবায়ন করা যাবে কিনা তা নিয়ে এখন সংশয় দেখা দিয়েছে।

অপরদিকে সিটি করপোরেশন থেকে জানা গেছে, বর্তমান মার্কেটটি স্থানান্তর করা হলে যেমন সিটি করপোরেশনের কোটি কোটি টাকা গচ্চা যাবে তেমনি এখানকার ব্যবসায়ীরা সর্বস্ব হারিয়ে ফকির বনে যাবে। ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু ব্যবসা না থাকলে তাদের পক্ষে ঋণের টাকাও পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। তাই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের নিকট বহুমুখী মার্কেটটি সংরক্ষণ করে চরকাউয়া খেয়াঘাট স্থানান্তর করে সেখানে উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য বিআইডব্লিউটিএ ইতোপূর্বে চরকাউয়া খেয়াঘাট স্থানান্তরের উদ্যোগ নিলে কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বরিশাল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির নেতৃত্বে প্রতিবাদ সমাবেশ ও আন্দোলন গড়ে তুললে বরিশালের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ হস্তক্ষেপ করায় সে সময়ে বিআইডব্লিউটিএ তাদের উদ্যোগ থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়।

বিসিসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে বরিশালে একটি আধুনিক নৌবন্দর প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৬১ সালে বরিশাল পৌরসভার মালিকানাধীন ও অব্যবহৃত ওই জমি বিআইডব্লিউটিএ’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিসিসির প্রথম নির্বাচিত মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ারের উদ্যোগে ২০০৫ সালে বার্ষিক ৩ লাখ ৫ হাজার ১০০ টাকা ইজারা মূল্যে ওই জমি নিয়ে সেখানে বহুমুখী মার্কেটটি স্থাপন করে বিসিসি। পরবর্তিতে বিসিসি সেলামি নিয়ে দুই শতাধিক ব্যবসায়ীর কাছে মার্কেটটি হস্তান্তর করা হয়। বিসিসির বাজার পরিদর্শক এসএম আবুল কালাম জানান, ইতোপূর্বে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ও বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখেছেন এখানে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। তারা ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হবে না বলে আশ^াস দিয়েছিলেন। এদিকে বিআইডব্লিউটিএ’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মিজানুর ভূঁইয়া বলেছেন, অভ্যন্তরীণ নৌপথের উন্নয়নের জন্য বিশ^ব্যাংকের অর্থায়নে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকের সভায় অনুমোদিত হয়। এই প্রকল্পের আওতায় বরিশাল নৌবন্দর উন্নয়নের জন্য শত কোটি টাকার বরাদ্দ রয়েছে। আগামী ২৫ বছরকে সামনে রেখে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু বিসিসির সাথে বিআইডব্লিউটিএ’র জমি ও বিসিসির মার্কেট দ্বন্দ্ব থাকায় বরিশালে প্রকল্পের কাজ এগোচ্ছে না।