• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৩ সফর ১৪৪২, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭

বন্ধ হয়নি ঢাকামুখী মানুষের ঢল

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ০৩ মে ২০২০

করোনা আতঙ্কের মধ্যেও বন্ধ হয়নি ঢাকামুখী মানুষের ঢল। গত কয়েক দিন যাবত ঢাকার প্রবেশমুখ দিয়ে রাজধানীতে প্রবেশ করছে গার্মেন্টস শ্রমিক ও শ্রমজীবী নিম্নআয়ের মানুষরা। সারাদেশে করোনাভাইরাসের রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও এসব মানুষের মধ্যে নেই কোন আতঙ্ক। শরীরিক দূরত্ব পালন দূরের কথা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের ঢাকায় ফিরতে দেখা গেছে। সারাদেশে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দীর্ঘপথ হেঁটে ও ভেঙ্গে ভেঙ্গে ঢাকায় ফিরতে দেখা গেছে তাদের। পথে পথে নানা ভোগান্তি ও পাঁচগুণ ভাড়া বেশি দিয়ে পণ্যবাহী বিভিন্ন ট্রাক, পিকআপ, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও মাক্রবাসে ঢাকায় ফিরতে হয়েছে বলে জানান তারা। তবে কাজের জন্য পোশাক শ্রমিকদের ঢাকায় প্রবে?শ করতে হলে অবশ্যই ফ্যাক্টরির আইডিকার্ড সঙ্গে রাখতে হবে। গতকাল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরে এ সংক্রান্ত নির্দেশনায় এই আদেশ জারি করা হয়। নিদের্শনায় উল্লেখ করা হয়, কোন শ্রমিককে কারখানার কাজের জন্য ঢাকায় আসার প্রয়োজন হলে তাকে অবশ্যই ফ্যাক্টরি আইডিকার্ড সঙ্গে বহন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট যথাযথ কর্তৃপক্ষকে প্রদর্শন করতে হবে। অন্যথায় ঢাকায় তাদের প্রবেশের অনুমতি প্রদান করা যাবে না।

ইতোমধ্যে ঢাকা ও এর আশপাশের পোশাক কারখানাগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। লকডাউন উপেক্ষা করে ঢাকায় ফিরছেন পোশাক শ্রমিকরা। লকডাউনের কারণে মহাসড়কে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও চাকরি হারানোর ভয় ও জীবিকার তাগিদে এসব পোশাক শ্রমিকরা হেঁটে এবং নদী পার হয়ে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে যোগ দেন তারা। তবে ঢাকার বাইরে অথবা দূর-দূরান্ত থেকে পোশাক শ্রমিকদের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ঢাকায় আগমনে মালিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে শ্রম মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়। কিন্তু নির্দেশনা অমান্য করে মালিকরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গার্মেন্টস শ্রমিকদের কর্মস্থলে আসার নির্দেশ দিচ্ছে বলে শ্রমিকরা জানায়।

সরেজমিনে ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশমুখ ঘুরে দেখা গেছে, করোনা প্রাদুর্ভাবে দূরপাল্লার বাস ও গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও ভেঙ্গে ভেঙ্গে ভিন্ন যানবাহনে করে রাজধানীতে ফিরছে দেশের নানা প্রান্তের মানুষ। ফলে গত কয়েকদিন ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-মাকিনগঞ্জ, ঢাকা-গাজীপুর ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছিল ঢাকামুখী মানুষের ঢল। রাজধানীর প্রবেশ পথগুলোতে পুলিশের তল্লাশি কিছুটা শিথিল থাকায় গতকাল সকাল থেকে সহজেই ঢাকায় প্রবেশ করছে এ সব মানুষ। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই রাজধানীতে প্রবেশ করছে শ্রমজীবী মানুষরা। পথে পথে ছোট ছোট যানবাহন, মোটরসাইকেল, পিকআপ, লেগুনা-সিএনজিতে ঢাকা ফিরতে দেখা গেছে তাদের। এছাড়া শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি বোঝাই করে শ্রমজীবী মানুষদের ঢাকা প্রবেশ করতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানায়।

শ্রমিকরা জানায়, গার্মন্টেস খুলছে। তাই কাজে যোগ দিতে ঢাকায় যাচ্ছি। এতদিন বাড়িতে বসে থাকলে সংসার চলে না। অনেকের অফিস সীমিত পরিসরে খুলেছে। তাই করোনা উপেক্ষা করেই রাজধানীতে ফিরছি। তবে কেউ কেউ বলে বাড়িতে থাকলে না থেকে মারা যাব তাই ঢাকা আসছি। সোরোয়ান নামের এক গার্মেন্টস শ্রমিক বলেন, গার্মেন্ট খোলা। আগেই ঢাকায় যেতে গার্মেন্ট থেকে বলা হয়েছে। এ কারণে করোনার ভয় নিয়ে কষ্ট করেই রওনা হয়েছেন তারা। যেতে না পারলে চাকরি চলে যাবে। তবে ঢাকায় আসার পথে বিভিন্ন স্থানে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেয় পুলিশ। তখন বেশি ভাড়া দিয়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গে ঢাকায় প্রবেশ করতে হয়েছে বলে জানান তারা।