• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯, ৯ চৈত্র ১৪২৫, ১৫ রজব ১৪৪০

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে

ফেরি চলাচলে বিঘ্ন : চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , রবিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৯

image

গোয়ালন্দ : দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি -সংবাদ

ঘন কুয়াশায় দেশের ব্যস্ত দুই ফেরিঘাট শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি ও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বিঘ্ন ঘটছে ফেরি চলাচল। এতে যানবাহন আটকে পড়ায় তীব্র শীতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত শুক্রবার ও শনিবার যথাক্রমে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে সাড়ে ৪ ঘণ্টা এবং দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ২ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে এ দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের খবরে-

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, ঘন কুয়াশায় দুর্ঘটনা এড়াতে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে সাড়ে ৪ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। শুক্রবার রাত সাড়ে ৪টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় মাঝ পদ্মায় ৪টি ফেরিসহ নৌরুটের সকল ফেরি উভয় ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়। একে প্রচন্ড শীতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। কুয়াশার প্রকোপ কমলে সকাল ৯টার দিক ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাট সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত বাড়ার সাথে সাথে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে কুয়াশা বাড়তে শুরু করে। রাত সাড়ে ৪টার দিক কুয়াশার প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে নৌ চলাচলের দিকনির্দেশনামূলক বাতি, মার্কিং পয়েন্ট অস্পষ্ট হয়ে উঠলে দুর্ঘটনা এড়াতে এ রুটের সকল ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় মাঝ পদ্মায় শতাধিক যানবাহন ও ৬ সহস্রাধিক যাত্রী নিয়ে ৪টি ফেরি নোঙর করে রাখা হয়। মাঝ পদ্মায় ও উভয় ঘাটে আটকে পড়া যাত্রীরা প্রচন্ড শীতে চরম ভোগান্তি পোহান। গতকাল সকাল ৯টার দিক কুয়াশার প্রকোপ কমলে ফেরি চলাচল শুরু হয়।

বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ি ঘাট ম্যানেজার আ. সালাম বলেন, এ শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশা নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা। ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি জানান, ঘন কুয়াশায় দেশের ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে গতকাল সকালে টানা ২ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সকাল ৯টার দিকে পুনরায় শুরু হয়েছে। এ সময় দিক হারিয়ে মাঝ নদীতে আটকা পড়ে ৫টি ফেরি। ফেরি ও ঘাট এলাকায় আটকে পড়া যানবাহনের যাত্রীরা তীব্র শীতের মধ্যে চরম দুর্ভোগ পোহান।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, শনিবার ভোর থেকে নদী অববাহিকায় তীব্র কুয়াশা পড়া শুরু হয়। সকাল ৭টার দিকে পুরো নদী এলাকা কুয়াশার চাদরে ঢেকে ফেললে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের বিকন বাতি (মার্কিং পয়েন্ট) দৃষ্টি সীমার বাইরে চলে যায়। এতে যে কোন ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এ সময় উভয় ঘাট থেকে ছেড়ে গিয়ে দিক হারিয়ে মাঝ নদীতে আটকা পড়ে ছোট-বড় ৫টি ফেরি। টানা ২ ঘণ্টা নৌযান চলাচল বন্ধ থাকার পর সকাল ৯টার দিকে কুয়াশার ঘনত্ব কিছুটা কমে এলে সতর্কতার সাথে পুনরায় নৌযান চলাচল শুরু হয়।

এদিকে ব্যস্ততম নৌরুটে টানা ২ ঘণ্টা ফেরি চলচল বন্ধ থাকায় দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিম বঙ্গের ২১ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নদী পার হতে আসা বিভিন্ন যানবাহনের ঘাট এলাকায় দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়। তীব্র শীতের মধ্যে আটকে পড়া যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার শিশু, নারী ও বয়স্করা। অপরদিকে ঢাকা রাজধানী ও তার আশপাশের জেলা থেকে যাত্রী কোচ ও যাত্রীবাহী বাস পাটুরিয়া ঘাট জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে নবগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার যানজটে আটকে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করে নদী পার হচ্ছে। যানজটে ভোগান্তির শিকার ঢাকা-কলকাতা শ্যামলী পরিবহনের সহকারী চালক (হেলাপার) মো. সুজন (২৮) সংবাদকে বলেন, আমরা ২০ মিনিটের রাস্তা ২ ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে ফেরি পার হয়েছি।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া অফিসের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সফিকুল ইসলাম জানান, ঘন কুয়াশা একটি প্রাকৃতিক সমস্যা। এতে কারো কোন হাত নেই। প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সকাল ৯টা থেকে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। আটকে পড়া যাত্রীবাহী যানবাহনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারপার করা হবে।