• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

ডয়েচ ভেলের প্রতিবেদন

ফের রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু করেছে মায়ানমার

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৯

মায়ানমার সেনাবাহিনী দেশটিতে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের ওপর নতুন নির্যাতন শুরু করেছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে জার্মান সংবাদ মাধ্যম ডয়েচ ভেলে। গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মায়ানমারের বৌদ্ধ বিদ্রোহী বাহিনী আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গাদের যোগাযোগের অজুহাত তুলে রোহিঙ্গাদের হত্যার হুমকি দেন মায়ানমার সেনারা। রোহিঙ্গাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হলেও এবার বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।

মায়ানমারের তমব্রু ও বাংলাদেশের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা রাখাইনে সেনা অভিযান আরও তীব্র হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। নোম্যান্স ল্যান্ডের রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ গণমাধ্যমকে টেলিফোনে জানান, আরাকান আর্মিকে নির্মূলে মায়ানমারের সেনারা অভিযান চালাচ্ছে আর রোহিঙ্গা যারা আছেন, তারাও এই অভিযানের শিকার হচ্ছেন।

টেকনাফের স্থানীয় নানা সূত্রের সঙ্গে কথা বলে কোন রোহিঙ্গা মায়ানমার থেকে দু-চারদিনে প্রবেশ করেছে বলে নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের নেতা রশীদ আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, আমরা মায়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির তীব্র লড়াইয়ের খবর পাচ্ছি। আর আরাকান আর্মি রাখাইনে থাকা রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে অভিযান চলাচ্ছে। তাদের ওপর নির্যাতন চলছে। আমরা নানা মাধ্যমে প্রতিদিনই খবর পাই। কিন্তু দুই দিকের সীমান্তেই কড়া পাহারা থাকায় রোহিঙ্গারা সীমান্তের দিকে আসতে পারছে না। টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে কেউ এসেছে বলে আমাদের কাছে খবর নেই। যারা পালানোর চেষ্টা করছেন তাদের ধরে রোহিঙ্গাদের জন্য যে ক্যাম্প বানানো হয়েছে সেখানে নিয়ে মায়ানমারের সেনাবাহিনী এবং সীমান্ত রক্ষী বাহিনী আটকে রাখছে। ক্যাম্পে নিয়ে আইডি কার্ড ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে।’

কক্সবাজারে ইউএনএইচসিআরের পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার যোশেফ সূর্য ত্রিপুরা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে বা সীমান্তে তাদের চাপের কোন তথ্য এখনও আমার কাছে নেই। ফিল্ড লেভেলে কথা বললে হয়তো সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে পারব।

মায়ানমারে রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও আরাকান আর্মির (এএ) বিরুদ্ধে চলমান সেনা অভিযানের মধ্যে গত ৪ জানুয়ারি দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর ১৩ জন সীমাস্ত পুলিশকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করে মায়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয়। তাদের দাবি, বুথিয়াডং এলাকার চারটি সীমান্ত চৌকিতে হামলা চালানো হয়। তবে আরাকান আর্মির পক্ষ থেতে ৭ জনকে হত্যার কথা স্বীকার করা হয়েছে। আর জিম্মি থাকা আরও ১২ জনকে মুক্তি দেয়ার কথা জানানো হয়। এরপর থেকেই রাখাইনে মায়ানমারের সেনা অভিযান আরও তীব্র হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।