• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬, ১২ শাবান ১৪৪১

পয়মন্ত ভেন্যুতে টাইগারদের সামনে আজ আফগানরা

সংবাদ :
  • বিশেষ প্রতিনিধি

| ঢাকা , রোববার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

টি-২০ ফরম্যাটে বরাবরই ভালো আফগানিস্তান ক্রিকেট দল। বাংলাদেশের মাটিতে চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে তাদেরকে অন্যতম শিরোপার দাবিদার ভাবা হচ্ছে। আইসিসি’র টি-২০ র‌্যাংকিংয়ে সপ্তমস্থানে আফগানরা। বাংলাদেশের অবস্থান দশম। জিম্বাবুয়ে আছে চতুর্দশ স্থানে। কাজেই রেকর্ড বই এগিয়ে রাখছে আফগানদের।

ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ স্বাগতিক বাংলাদেশের মুখোমুখি হওয়ার সময়ে অতীত রেকর্ড এগিয়ে রাখবে রশিদ খান দলকে। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ট্রাই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষে চারটি টি-২০ ম্যাচ খেলে তিনবারই জয় পেয়েছে আফগানিস্তান। আবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাতবারের মোকাবিলায় প্রতিবারই জয় পেয়েছে কাবুলিওয়ালাদের দেশ।

আবার বাংলাদেশ সফরে একমাত্র টেস্টে ২২৪ রানের বড় ব্যবধানের জয় আফগানদের আত্মবিশ্বাসটা নিয়ে গেছে অনেক উঁচুতে। শেষ দশটা টি-২০ ম্যাচের প্রতিটাতে জয় পাওয়া কাবুলিওয়ালাদের বিপক্ষে ম্যাচটা বাংলাদেশের জন্য একটু কঠিন হতেই পারে।

তবে, প্রতিপক্ষ যতই কঠিন হোক ২০ ওভারের ম্যাচে নিজেদের দিনে যে কোন দলই হয়ে ওঠতে পারে ভয়ঙ্কর। বিষয়টি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে প্রমান করেছে টাইগাররা। প্রথম ম্যাচে মাত্র ৬৩ রানে পাঁচ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ে যেমন শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ১৮ ওভারে ১৪৪ রান পর্যন্ত পৌঁছে, ঠিক তেমনি ৬০ রানে ৬ উইকেটের পতনের পর তরুণ আফিফ হোসেন ও মোসদ্দেক হোসেন সৈকতের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে তিন উইকেটে জয় দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করতে পেরেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বোলিংয়ে অকৃপণ হাতে রান দেয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও ছিলেন নিস্প্রভ। আজ আফগান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য বিশ্বসেরা অল রাউন্ডারের কাছ থেকে সেরাটাই পেতে চাইবে দল। তামিম ইকবালের অনুপস্থিতি বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং লাইন আপে কতটা শূন্যতার সৃষ্টি করেছে তাও টের পাওয়া গেছে হাড়ে হাড়ে। লিটন কুমার দাস এবং সৌম্য সরকার উদ্বোধনী জুটিতে দারুণ একটা সূচনা এনে দেয়ার পরও ব্যাটিং লাইন আপে আকস্মিক ধস দেখা গেছে। অযথা হিট করার চেষ্টায় স্ট্যাম্প খুইয়েছেন লিটন (১৯)। সৌম্য (৪) আউট হয়েছেন কাইল জার্ভিসকে অযথা হাঁকাতে গিয়ে। দলকে টেনে নিতে পারেননি সাকিব (১) ও মুশফিক (০)। টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করতে পারেননি মাহমুদুল্লাহ (১৪) ও সাব্বির রহমান (১৫)।

তবে দলকে পরাজয়ের কিনারা থেকে টেনে তোলার পথে তরুণ আফিফ হোসেন ২৬ বলে আট বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় খেলেন ৫২ রানের ঝড়ো ইনিংস। তাকে ঠান্ডা মাথায় যোগ্য সহায়তা দিয়ে ২৪ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দল পায় তিন উইকেটের জয়।

এই জয়ে অন্তত চাঙ্গা হওয়ার কথা বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুম।

অন্যদিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে জয় পাওয়া আফগানদের টেস্ট স্পেশালিস্ট ক্রিকেটাররা ফিরেছেন দেশে। দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন টি-২০ স্পেশালিস্টরা। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট জয়ে নেতৃত্ব দেয়া রশিদ খানই টি-২০ দলের নেতা। বাংলাদেশের বিপক্ষে বড় জয় পাওয়া ম্যাচটায় অল রাউন্ড নৈপুণ্য দেখিয়ে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি। বাংলাদেশের টেস্ট দল আর টি-২০ দলের মধ্যে দুই একজন ক্রিকেটার ছাড়া তেমন কোন রদবদল নেই। এদের প্রায় প্রত্যেককেই চেনেন রশীদ খান। আবার দলের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ অ্যান্ডি মোলস অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে থেকেও বাতলে দিচ্ছেন কৌশল। সব মিলিয়ে আফগানিস্তান যে চট্টগ্রাম টেস্টে পাওয়া জয়ের ধারাবাহিকতা ঢাকার মাঠেও বজায় রাখতে চাইবে, তা বলে দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। জয় দিয়ে অধিনায়কত্বের পথ চলা শুরু রশিদ খান দলের শুধু নেতাই নন টি-২০ ফরম্যাটে র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বর বোলারও।

তবে মনে রাখা প্রয়োজন শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম বরাবরই টাইগারদের জন্য পয়মন্ত। এই মাঠে যে কোন চ্যালেঞ্জ উতরে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। বিশেষ করে স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী খোঁজ-খবর রাখেন ক্রিকেটের, ম্যাচ চলাকালে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, আবার দলের জয়ে অবদান রাখা নবীন ক্রিকেটারটিকে ফোন করে উৎসাহ দিতে ভুল করেননা, সেই দেশের ক্রিকেটাররা নিজেদের সেরাটা দেবেন বলেই আশা করে ভক্তরা।