• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ২২ জিলকদ ১৪৪১

প্রার্থীদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা পুনরুজ্জীবিত না করার অনুরোধ

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ০৫ জানুয়ারী ২০২০

পুরোনো মামলায় কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যবস্থা না নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন। তিনি বলেছেন, অনেক আগের মামলা পুনরুজ্জীবিত করে এখন কোন আদেশ বা ব্যবস্থা নেয়া হলে তা অনাকাক্সিক্ষত হবে। তবে ফৌজদারি মামলা হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে।

গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। কাউন্সিলর প্রার্থীকে গ্রেফতার এবং হুমকি দেয়ার বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন। এরপরই এসব কথা বলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

আবদুল বাতেন বলেন, পুরোনো মামলায় শাস্তি বা পরোয়ানা হয়ে থাকলে তফসিল ঘোষণার আগেই পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল। এখন পুরোনো মামলায় নতুন করে ব্যবস্থা নেয়া হলে তা ঠিক হবে না। নির্বাচনের পর ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। তবে যদি এমন হয় ফৌজদারি মামলা আছে, তা নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, সেটা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যাবে।

ইসরাক হোসেন বলেন, আমাদের অনেক কাউন্সিলর প্রার্থীকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারে হুমকি দেয়া হচ্ছে। সরকারদলীয় কাউন্সিলরদের যোগসাজশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় অসাধু সদস্যের মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারে নানাভাবে চাপ দেয়া হচ্ছে। আমরা আমাদের অভিযোগ লিখিত আকারে জানিয়ে গেলাম, রিটার্নিং কর্মকর্তা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, তিনি এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।

তিনি বলেন, মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে থেকে আমাদের কাউন্সিলর প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়। অথচ আমরা প্রার্থীরা যখন কাগজপত্র জমা দেই, তখন প্রতিটি মামলার কথা উল্লেখ করি। তাহলে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করার পর ওই প্রার্থী যখন বের হন তখন তাকে অনুসরণ করে গ্রেফতার করা হলো কেন?

ইসরাক হোসেন নিজে কোন হুমকি পাচ্ছেন কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এ মেয়র প্রার্থী বলেন, আমি কোন হুমকি পাইনি, তবে আমি হুমকিতে ভয় পাওয়ার মানুষ নই। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে এর আগে আমাদের দলীয় যেসব প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তারাও বিভিন্ন সময় এমন অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগের স্তূপ জমে গেছে, তবু নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এটা অতীতের ঘটনা। কিন্তু এখন নির্বাচন কমিশনের সামনে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে এ বিষয়ে তাদের সংশোধন হওয়ার সুযোগ এটি।

আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ : সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। গতকাল উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে তাবিথের পক্ষে জুলহাস উদ্দিন এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জুলহাস উদ্দিন বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আতিকুল ইসলাম গতকাল সকালে গুলশান-১ পার্কে নির্বাচনী মঞ্চ করে মাইক এবং সাউন্ডসিস্টেম ব্যবহার করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষ থেকে আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমরা অভিয়োগের স্বপক্ষে কিছু স্থিরচিত্র সংযোজন করেছি।

অভিযোগ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম বলেন, আমরা কিছুক্ষণ আগে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগটি পেয়েছি। ওই এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেট যিনি আছেন আমি তার কাছে এটি পাঠাব, সেটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলব। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

তাবিথ আউয়াল স্বাক্ষরিত অভিযোগে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম গুলশান পার্কে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিযয়ে একটি নির্বাচনী মঞ্চ করে, মাইক এবং সাউন্ডসিস্টেম ব্যবহার করে নিজের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। কর্মীদের ভোটারের কাছে যাওয়ার জন্য দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। যা সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা-২০১৬ এর স্পষ্ট লঙ্ঘন ও গর্হিত অপরাধ। নির্বাচন কমিশন আমাদের আশ্বাস দিয়েছিল যে নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড বিদ্যমান থাকবে এবং নির্বাচন আচরণবিধি সব প্রার্থীর জন্য সমভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং তা তদারকির জন্য মাঠপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন থাকবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এই আইন ভঙ্গ করলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এই বিধিমালা লঙ্ঘনকারী প্রার্থীকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টাও করেননি। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে এই নির্বাচন কমিশনের অধিনে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনসমূহ কখনওই জনগণের আস্থা অর্জন করবে না বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।