• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১ মহররম ১৪৪২, ০৩ আশ্বিন ১৪২৭

করোনাভাইরাস

প্রাকৃতিক, চীন তৈরি করেনি, ফেসবুক পোস্টের প্রচারণা মিথ্যা

করোনাভাইরাস মানুষের তৈরি নয়

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , সোমবার, ০৪ মে ২০২০

image

জাপানের নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. তাসুকু হোনজো করোনাভাইরাস চীনে তৈরি হয়েছে এ কথা বলেননি। তথ্য যাচাইয়ের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এএপি ফ্যাক্ট চেক তাদের অনুসন্ধান শেষে দাবি করেছে, প্রফেসর ড. তাসুকু হোনজো কে উদ্ধৃত করে গত ২৬ এপ্রিল একটি ফেসবুক পোস্টে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, ‘করোনাভাইরাস চীনের তৈরি কিন্তু অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে এই তথ্যটি অসত্য। এএপি ফ্যাক্ট চেক বলছে , এপ্রিল ২৬ এর ফেসবুক পোস্টটি উল্লেখ করেছে “ প্রফেসর ডঃ তাসুকু হোনজো করোনাভাইরাস প্রাকৃতিক নয়’ এ কথা বলে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। প্রফেসরের উদ্ধৃতি দিয়ে ২৬ শে এপ্রিলের ফেসবুক পোস্ট আরও উল্লেখ করেছে যে, তিনি বলেছেন, ‘ যদি এটা প্রাকৃতিক হত তাহলে এইভাবে সারা দুনিয়াকে আক্রান্ত করত না। কারণ, প্রকৃতির স্বভাব অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের তাপমাত্রা ভিন্ন ভিন্ন। স্বাভাবিকভাবে তাহলে এই ভাইরাসটি শুধুমাত্র সেইসব দেশকে আক্রান্ত করত যাদের তাপমাত্রা চীনের [উহানের] মত “।

ফেসবুক পোস্টটি আরও দাবী করেছে , প্রফেসর বলেছেন, “ এটা মানুষের তৈরি এবং কৃত্রিম। আমি চীনের উহান ল্যাবরেটরিতে ৪ বছর কাজ করেছি”। ২৬ শে এপ্রিলের উল্লিখিত ফেসবুক পোস্টটি আরও দাবী করেছে যে, প্রফেসর হোনজো বলেছেন, তিনি “ ল্যাবরেটরির সমস্ত কর্মচারীর সঙ্গে পরিচিত” এবং তারপরই দাবী করে যে তিনি বলেছেন “ তাদের সকলের ফোন বন্ধ “ এবং “ বোঝাই যাচ্ছে যে এইসব ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান মারা গেছেন।

২৬ শে এপ্রিলের ফেসবুক পোস্টটির শেষে উল্লেখ করেছে প্রফেসরের উক্তি, “ আজ পর্যন্ত আমি যে গবেষণা করেছি এবং আমার লব্ধ জ্ঞান থেকে ১০০% আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি যে করোনাভাইরাস প্রাকৃতিক নয়। বাদুর থেকে উৎপন্ন নয়। চীন এই ভাইরাস তৈরি করেছে।”

প্রফেসর ডঃ তাসুকু হোনজো জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের মলিকিউলার ইমিউনলজি-র গবেষক, এবং এখনও তিনি সেখানে কাজ করছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র ই-মেইলে এএপি ফ্যাক্ট চেক- কে জানিয়েছে যে, এপ্রিলের ২৬ এর ফেসবুক পোস্টে ‘চীনে করনাভাইরাসের উৎপত্তি হয়েছে’, এই মর্মে যা যা উল্লেখ করা হয়েছে এর কোনটাই প্রফেসর হোনজো বলেননি।

কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে প্রফেসর হোনজো নিজেই লিখেছেন, ‘তার নাম ব্যবহার করে ভুয়া অভিযোগ এবং ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ায় তিনি মর্মাহত হয়েছেন।’

প্রফেসর হোনজোর বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, “ এই মুহূর্তে যখন আমাদেরকে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে অসুস্থদের চিকিৎসা করার লক্ষ্যে, করনাভাইরাসের বিস্তার রোধে এবং নতুন দিনের সুচনা করার কাজে। সেই সময় করোনাভাইরাসের উৎপত্তি সম্পর্কে প্রমানহীন দাবিসমুহ হচ্ছে বিপদজনক।”

এপ্রিল ২৬ এর ফেসবুক পোস্টে দাবী করা হয়েছে প্রফেসর হুঞ্জু ৪ বছর চীনের উহানের ল্যাবরেটরিতে কাজ করেছেন, এই তথ্যটিও মিথ্যা। কিযোটো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর হোনজোর যে জীবনী রয়েছে সেখান থেকে জানা যায় তিনি কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা শাস্ত্রে মেডিসিন] পড়াশোনা করেছেন। মেডিকেল কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি করেছেন। জাপানের উচ্চশিক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন এবং আমেরিকায় ফেলোশিপ করেছেন। চীনের উহানে ল্যাবরেটরিতে ৪ বছর কাজ করা সম্পর্কে তার জীবনীতে কোন উল্লেখ নেই।

এই সমস্ত তথ্যের ভিত্তিতে এএপি ফ্যাক্ট চেক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, “ ২৬ শে এপ্রিলের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখিত “ করনাভাইরাস চীন তৈরি করেছে এটা প্রাকৃতিক নয় এবং প্রফেসর হোনজো এটা বলেছেন” এই দাবিগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।

কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র এএপি ফ্যাক্ট চেক-কে বলেছেন, করোনাভাইরাস সম্পর্কিত যে সমস্ত তথ্য প্রফেসর হোনজো বলেছেন বলে দাবী করা হয়েছে, আদতে সেগুলো তিনি কখনোই বলেননি এবং তিনি কখনোই চীনের কোন ল্যাবরেটরিতে কাজ করেননি।

তথ্য সূত্র : ইন্টারনেট