• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১ মহররম ১৪৪২, ০৩ আশ্বিন ১৪২৭

পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা

বিজিএমইএর ছয়টি পরিদর্শন দল গঠন ১৩ কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা

সংবাদ :
  • সাইফুল শুভ

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২০

দেশের পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ ৫ মে পর্যন্ত শনাক্ত ও সন্দেহভাজনসহ সংগঠনটির কাছে করোনা সংক্রান্ত ঘটনা রয়েছে মোট ১৭টি। বেশিরভাগ আক্রান্ত সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জে। বিষয়টি নিয়ে মালিকরা বিষয়টি ধামাচাপা দিলেও উদ্বিগ্ন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

দেশের পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন (বিজিএমইএ), সব কারখানাকে নিয়মিত করোনা আক্রান্তের খবর জানাতে বলেছে। তবে কোন কোন কারখানা তথ্য গোপন করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে। কারখানার স্বাস্থ্য সুরক্ষা তদারকিতে ‘কারখানা পরিদর্শন দল’ বা অডিট টিম গঠন করেছে। ছয়টি দল বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করছে।

বিজিএমইএ’র তথ্যমতে, ৩ মে পর্যন্ত ১০টি কারখানায় করোনা আক্রান্ত কর্মী শনাক্ত হন ১২ জন। গত ৫ মে সন্ধ্যা পর্যন্ত শনাক্ত ও সন্দেহভাজনসহ মোট করোনা সংক্রান্ত ঘটনা রয়েছে মোট ১৭টি। এদিকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ৪ মে থেকে ৫ মে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আটজন পোশাককর্মীর করোনা শনাক্ত হয়েছে।

শিল্প পুলিশের তথ্য বলছে, গত ২৬ এপ্রিল থেকে কারখানা সচল হতে শুরু করেছে। আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা ও ময়মনসিংহে ছয় এলাকায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কারখানা চালু রয়েছে। এলাকাগুলোতে সব খাত মিলিয়ে মোট কারখানা আছে ৭ হাজার ৬০২টি।

খোলা কারখানাগুলোর মধ্যে এক হাজার ২৪৬টি পোশাক শিল্প মালিক সংগঠন বিজিএমইএ’র সদস্য। আরেক সংগঠন বিকেএমইএ’র সদস্য কারখানা খোলা ছিল ৩৫৬টি। পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের সংগঠন বিটিএমএ’র সদস্য কারখানা খোলা ছিল ১৭৪টি। এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ’র একজন পরিচালক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট কোন পেশার বিষয়ে ভাবা ঠিক হবে না। সারাদেশেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে পোশাক খাতের সংখ্যা কোনভাবেই উল্লেখযোগ্য নয়। অর্থনীতির স্বার্থে শুধু পোশাক নয়, সামগ্রিক চিত্র দেখার তাগিদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

এ বিষয়ে বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সংবাদকে বলেন, মালিকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে- যাতে তারা স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পরিপালন করেন। জীবন-জীবিকার সন্ধানে আমাদের নামতে হবে। করোনাভাইরাসের কারণে স্থবির হয়ে যাওয়া অর্থনীতির চাকা আবারও সচল করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি যেমন ফ্যাক্টরিতে ঢোকার সময় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, ব্লিচিং মিশ্রিত পানিতে জুতা ভিজিয়ে প্রবেশ করা, থার্মাল স্ক্যান দিয়ে তাপমাত্রা চেক করা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ পরিচালনা করতে বলা হয়েছে সব মালিকদের।

গার্মেন্টস কারখানা খোলার পর করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে বলে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছিলেন সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়। গত ৩০ এপ্রিল ইউএনওকে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানোর পাশাপাশি সাভার উপজেলায় গার্মেন্টস খোলা না রাখার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণেরও অনুরোধ জানানো হয়।

২ মে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় অধীনস্থ কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর (ডিআইএফই) সংস্থাটির সব উপ-মহাপরিদর্শকের উদ্দেশে একটি চিঠি দেয়। চিঠিতে করোনাকালে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য শিল্প-কারখানায় বিশেষ পরিদর্শনের নির্দেশনা দেয়া হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা শিল্প-কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত সংক্রান্ত নির্দেশনায় দেখা যায়, কর্মীদের কারখানায় আগমন থেকে শুরু করে কারখানায় কর্মীদের আবাসন ব্যবস্থা সম্পর্কেও নির্দেশনা রয়েছে। সামগ্রিক নির্দেশনা বাস্তবায়ন মনিটরিং প্রসঙ্গে নির্দেশনায় বলা হয়, কারখানাগুলো নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে কিনা, তা মনিটরিং করার জন্য কারখানার নিজস্ব মনিটরিং টিম থাকতে হবে।

সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী, পোশাক কারখানার শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা যাচাই করতে ছয়টি পরিদর্শক দল গঠন করেছে। ৩৩৪টি কারখানা পরিদর্শন করা হয়েছে। বিজিএমইএ’র যাচাইকালে ১৩টি কারখানা ছাড়া বাকিগুলোতে করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য সুরক্ষা পরিস্থিতি সন্তোষজনক পেয়েছে এই মর্মে রিপোর্ট দিয়েছে পরিদর্শক টিম।

বিজিএমইএ জানায়, গত ৫ মে পর্যন্ত পরিদর্শক টিমগুলো ৩৩৪ কারখানা পরিদর্শন করে। এর মধ্যে ৩২১ কারখানায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা পরিস্থিতি সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। তবে ১৩টি কারখানার পরিস্থিতি সন্তোষজনক ছিল না। যে কারণে পরিবেশ দ্রুত উন্নতি করার তাগিদ দিয়েছে অডিট টিমগুলো।

অন্যথায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট জমা দিবে বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ। গত ২৮ এপ্রিল থেকে করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ’র পরিচালকদের নেতৃত্বে ছয়টি অডিট টিম পরিদর্শন শুরু করে। অডিট টিমগুলো আকস্মিকভাবে কারখানা পরিদর্শন করছে। চারটি জোনে ভাগ করে চলছে পরিদর্শন কাজ।

জোনগুলো হলো- ঢাকা মেট্রোপলিটন, সাভার ও আশুলিয়া, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী। এছাড়া শিল্প-কারখানায় করোনা রোগী চিহ্নিত হলে বিজিএমইএ-কে অবহিতকরণের পাশাপাশি বিজিএমইএ হেলথ সেন্টারে কর্মরত ডাক্তারদের সহায়তা নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিক সহায়তায় নিয়োজিত রয়েছেন আট জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এসব চিকিৎসকের ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করেও প্রয়োজনীয় সহায়তা নেয়া যাবে বলে জানা গেছে।

করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তৈরি পোশাক কারখানা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়ার পর পোশাক কারখানায় সীমিত জনবল দিয়ে কাজ শুরু হয়। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার স্বার্থে দুই শিফটে কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ক্রেতাদের রপ্তানি আদেশের পণ্য পৌঁছানোর চাপ আছে এরূপ কারখানা খুলে দেয়ার অনুমতি দিয়েছে পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ।