• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

বরিশালে

পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, বরিশাল

| ঢাকা , শনিবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৯

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় দুই যুবককে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে মাঠ পর্যায়ের এক পুলিশ কর্মকর্তা ৫০ হাজার টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. সাইফুল গাজীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। দুই যুবক হলেন বাকেরগঞ্জের চরামদ্দি ইউনিয়নের সটিখোলা গ্রামের মো. মোহন হাওলাদার ও মো. রনি হাওলাদার। সম্পর্কে তারা মামাতো-ফুফাতো ভাই। পেশায় মোহন টাইলস মিস্ত্রি ও রনি মাইক্রোবাস চালক।

মোহন ও রনি জানান, গত সোমবার তারা বরিশাল নগরীর বিআরটিএ অফিসে কাজ শেষে বেলা ১১টার দিকে মোটরসাইকেলে বাড়িতে ফিরছিলেন। চরামদ্দি বোর্ড স্কুল এলাকা অতিক্রম করার সময় সেখানে অবস্থানরত এএসআই সাইফুল গাজীর নেতৃত্বে পুলিশ তাদের থামায়। পুলিশ সদস্যরা দুজনের দেহ তল্লাশি করে কিছু পায়নি।

মোহন জানান, তল্লাশির সময় পুলিশ তার গায়ের জ্যাকেট খুলে মোটরসাইকেলের ওপর রাখে। কিছুক্ষণ পর একজন কনস্টেবল জ্যাকেটের পকেটে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে একটি গাঁজার পুঁটলি বের করে সেটি উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করে। মোহন বলেন, তিনি এর প্রতিবাদ করলে এএসআই সাইফুল গাজী তাকে চরথাপ্পড় এবং সঙ্গে থাকা হকিস্টিক দিয়ে পেটায়। পরে জোর করে স্বীকারোক্তির ভিডিও ধারণ করে পুলিশ।

রনি ও মোহন জানান, তাদের দুজনকে আটক করে পুলিশ ক্যাম্পে নেয়ার পর পুলিশ স্বজনদের খবর দেয়। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলায় না দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানো হবে এমন শর্তে পুলিশ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। রনির ভাই মাল™^ীপ প্রবাসী মো. কাওছার হাওলাদার বলেন, তিনি ক্যাম্পে যেয়ে ৩০ হাজার টাকা দিলে দুজনকে বাকেরগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়। মোহনের ভাই সুমন হাওলাদার জানান, তিনি থানায় গিয়ে এএসআই সাইফুলের উপস্থিতিতে এক কনস্টেবলকে আরও ২০ হাজার টাকা দেন।

রনির মা রাশিদা বেগম জানান, তিনি ক্যাম্পে গিয়ে এএসআই সাইফুলের পা ধরে কান্নাকাটি করলেও তার মন গলেনি। পরে ধারদেনা করে টাকা দেন। শর্ত অনুযায়ী, রনি ও মোহনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানো হয়। বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির দুজনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা পরিশোধ করে তারা মুক্ত হন।

তবে অভিযুক্ত এএসআই মো. সাইফুল গাজী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এলাকাটি আগে মাদকের আখড়া ছিল। আমি চরামদ্দি ক্যাম্পে যোগ দেয়ার পর কিছু ভালো করায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।

মাদকসহ আটকের পরও কেন ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানো হলো জানতে চাইলে সাইফুল বলেন, তিনি আটক করলেও মামলা দেয়া- না দেয়ার মালিক হলেন থানার ওসি।

তবে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি মাসুদুজ্জামান বলেন, এএসআই সাইফুল দুই যুবককে মাদক বহনের অভিযোগে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানো হয়। দুই যুবক তার কাছে কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে এসব অভিযোগ করেনি। তারা অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।