• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১ মহররম ১৪৪২, ০৩ আশ্বিন ১৪২৭

পুনর্নির্বাচন চেয়ে ইসিতে ঐক্যফ্রন্টের স্মারকলিপি

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ জানুয়ারী ২০১৯

image

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) স্মারকলিপি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) শুধু স্মারকিলিপি গ্রহণ করেছেন, তবে কিছু বলেননি বলে জানান ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বিকেলে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে সাত সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে স্মারকলিপি জমা দেয়। এর আগে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে নিজ নিজ আসনে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গতকাল নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করে বিকেলে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গিয়ে স্মারকলিপি দেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এবং গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু নির্বাচন কমিশনে যান।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার কাছে স্মারকলিপিতে ১২টি অভিযোগ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, তফসিল ঘোষণা থেকে শুরু করে যে অনিয়মগুলো হয়েছে এবং জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা করা হয়েছে, সেটাও আমরা নিয়ে এসেছি। এছাড়া নির্বাচনী কর্মকর্তা অর্থাৎ প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের ভেটিংকরণ ও হয়রানি, দলীয় মনোনয়নে বাধা প্রদান, মনোনয়নপত্র বাছাই এবং আপিলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের রহস্যজনক ভূমিকা, গায়েবি মামলা, গ্রেফতার হয়রানি ও নির্যাতন, প্রার্থীদের গ্রেফতার ও অন্যায়ভাবে আটক, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নিরুৎসাহিত করা বিশেষ করে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আসতে না দেয়া, প্রচার-প্রচারণায় বাধা প্রদান এবং সরকারের সাজানো প্রশাসন ও পুলিশের রদবদল না করে তাদের অধীনে নির্বাচন করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে এ নির্বাচনের ফলাফলকে আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। ফলাফল বাতিল করে আমরা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি করেছি। তিনি বলেন, দীর্ঘ দশ বছর ভোটাধিকার বঞ্চিত জনগণকে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আবারও বঞ্চিত করার দায় নির্বাচন কমিশনকেই বহন করতে হবে।

ভোটে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনের আগের রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার সহায়তায় আওয়ামী লীগ কর্মী ও সন্ত্রাসী বাহিনী ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট কেটে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে। নির্বাচনের দিন সকালে ভোটকেন্দ্র ও কেন্দ্রের আশপাশের মোড়ে সরকারি লাঠিয়াল বাহিনী মহড়া দেয় এবং ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব পর্যায়ের সদস্যদের কাছে সহযোগিতা চাইলেও তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দেয়া, পোলিং এজেন্টদের মারধর, হয়রানি, গ্রেফতার, ভোটের আগের রাতে প্রিজাইডিং অফিসারদের ভোট কাটতে বাধ্য করা, সারা দেশে জালভোটের মহোৎসব চললেও দেশের কোথাও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

নির্বাচনে জয়ী বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা শপথ নেবেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি, শপথ নেয়ার তো প্রশ্নই আসে না। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ হয়ে যাওয়ার পর এখন পুনর্নির্বাচনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের হাতে আছে কি-না, সে প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যেহেতু নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করেছে, তাই আমরা তাদের কাছেই স্মারকলিপি দিয়ে গেলাম। সিইসি শুধু স্মারকিলিপি গ্রহণ করেছেন, কিছু বলেননি বলে জানান ফখরুল।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির প্রার্থীরা যে সাতটি আসনে নির্বাচিত হয়েছেন সেগুলোতে অনিয়ম হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেগুলোতেও হয়েছে, তবে কুলিয়ে উঠতে পারেনি। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। আপনারা জানেন যে, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। তাদের ছবি তুলতে নিষেধ, মারধর করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, মোবাইলের ইন্টারনেট ফোরজি থেকে টুজিতে আনা হয়েছে।

এর আগে দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির মহাসচিব সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সব প্রার্থী ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে নিজ নিজ আসনে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করবেন। সকাল ১১ টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ধানের শীষের প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা এই সিদ্ধান্ত নেয়।