• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১৮ জিলকদ ১৪৪১

এসএসসি সমমান পরীক্ষা

পুনর্নিরীক্ষায় ২,২১৯ জনের ফল পরিবর্তন

নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৫৬ জন

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২০

এসএসসি ও সমমানের প্রকাশিত ফলের পুনর্নিরীক্ষায় দুই হাজার ২১৯ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৫৬ জন। ফেল থেকে পাস করেছে এক হাজার ৬০২ জন।

গতকাল ১১টি শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত পুনর্নিরীক্ষণে ফলাফল পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পরীক্ষকদের উদাসীনতার কারণে প্রতিবছর এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষকদের দুই বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করে পরীক্ষা কার্যক্রম থেকে বাদ দেয়া হবে।

জানা গেছে, গত ৩১ মে প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণে ঢাকা বোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছে ১০৫ জন শিক্ষার্থী। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯৯ জন পরীক্ষার্থী। পুনর্নিরীক্ষণে বোর্ডের দুই হাজার ২৪৩ জন ফল পরিবর্তন হয়েছে। চলতি বছর ঢাকা বোর্ডের ৫৭ হাজার ৭৯০ জন পরীক্ষার্থী এক লাখ ৪৬ হাজার ২৬০টি খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করেছিল।

বরিশাল বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষণে ফেল থেকে পাস করেছে ২৫ জন শিক্ষার্থী এবং নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন পরীক্ষার্থী। পুনর্নিরীক্ষণে মোট ১৩৯ জন পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডের ১০ হাজার ৩৫১ জন শিক্ষার্থী ২৩ হাজার ৮৫০টি খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করেছিল শিক্ষার্থীরা।

রাজশাহী বোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছে ৩৫ জন শিক্ষার্থী এবং নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪০ জন পরীক্ষার্থী। পুনর্নিরীক্ষণে ফেল করা তিন জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ বোর্ডের ২৫২ জন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। রাজশাহী বোর্ডের ৪৪ হাজার ৬১টি খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করেছিল শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রাম বোর্ডে খাতা পুনর্নিরীক্ষণে ফেল থেকে পাস করেছে ৪১ জন শিক্ষার্থী। আর নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৩ জন পরীক্ষার্থী। ফেল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন শিক্ষার্থী। ফল পুনর্নিরীক্ষণে ৬০৯ জন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। এ বছর চট্টগ্রাম বোর্ডের ৫২ হাজার ২৪৬টি খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করেছিলো পরীক্ষার্থীরা। সিলেট বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষণে ফেল থেকে পাস করেছে ২৩ জন শিক্ষার্থী এবং নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ জন পরীক্ষার্থী। আর ১৬৫ জন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডের ২৩ হাজার ৭৯০টি খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করেছিলো শিক্ষার্থীরা।

যশোর বোর্ডে ফেল থেকে পাস করছে ৪৬ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে দু’জন। ফল পরিবর্তন হয়েছে ১২৩ জনের। নতুন করে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫১ জন। পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ছিল ৩৪ হাজার ২৮৪টি।

দিনাজপুর বোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছে ৩৬ জন। এরমধ্যে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফল পরিবর্তন হয়েছে ৩৭৭ জনের। নতুন করে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫০ জন।

কুমিল্লা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ৪৪১ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬১ জন। ফেল থেকে পাস করেছে ৬২ জন। এ বোর্ডে ১৭ হাজার ৬৭৭জন পরীক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে ৩৯ হাজার ৩০৩টি আবেদন করেছিলো।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, ‘হিউম্যান এরোর। তারপরও আমার শাস্তির আওতায় আনি। দুই বছর পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজ থেকে বিরত রাখি। খাতা দেই না। এছাড়া শিক্ষকদের যখন অ্যাসেম্বেলি হয় তখন আমি ভুলগুলো দেখিয়ে সংশোধন হতে বলি। আমি বোর্ডে প্রথম যোগ দেওয়ার পর ৪-৫ শত পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হতো। আগের চেয়ে অনেক কমিয়ে এনেছি। আমার এক লাখ ৬০ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে এবছর মাত্র ১২৩ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। এটা একে বারেই নগণ্য।’

মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণে ফেল থেকে পাস করেছে ১০৫ জন। আর নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ জন পরীক্ষার্থী। ২৪৩ জন দাখিল পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে এবং ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ পরিবর্তন হয়েছে। মাদ্রাসা বোর্ডে ১৪ হাজার ৭০৭ জন পরীক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে ২৩ হাজার ৪৫০টি আবেদন করেছিল।

কারিগরি বোর্ডের অধীন ফেল থেকে পাস করেছে ১১২৪ জন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ জন। ফল পরিবর্তন হয়েছে ১১৭১ জনের।

জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কাক্সিক্ষত ফল না পেয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অংশ নেয়া দুই লাখ ৩৮ হাজার ৪৭১ জন পরীক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে চার লাখ ৮১ হাজার ২২২টি আবেদন করেছিল। গত বছর মোট আবেদনের সংখ্যা ছিলো তিন লাখ ৬৯ হাজার ৯১১টি। পাবলিক পরীক্ষায় ফল প্রকাশের পর শিক্ষাবোর্ডগুলো পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনর্নিরীক্ষার আবেদন নিয়ে থাকে। কাক্সিক্ষত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীর আবেদন করে। প্রতিটি বিষয়ে বোর্ডগুলো ১২৫ টাকা করে নিয়ে থাকে। এখাতে প্রতি বছর বোর্ডগুলো কোটি কোটি টাকা আয় করে।