• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬ মহররম ১৪৪২, ০৭ আশ্বিন ১৪২৭

পিয়াজের বাজারে চরম নৈরাজ্য

দাম ১০০ টাকা কেজি ছাড়ালো একই মানের পিয়াজের বিভিন্ন দাম কাজে আসছে না বাজার মনিটরিং কার্যক্রম সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে পুরো বাজার ব্যবস্থা প্রতি মে. টন পিয়াজ ৭৫০ ডলারের নিচে রপ্তানি করবে না ভারত

সংবাদ :
  • রেজাউল করিম

| ঢাকা , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

image

হঠাৎ পিয়াজের দাম বৃদ্ধির খবরে গতকাল রাজধানীর শ্যামবাজারে পিয়াজ কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে ক্রেতারা -সংবাদ

ভারত থেকে আমদানি বন্ধের খবরে পিয়াজের বাজারে শুরু হয়েছে চরম নৈরাজ্য। পাইকারি থেকে শুরু করে খুচরা ব্যবসায়ী যে যেভাবে পারছে ভোক্তাদের জিম্মি করে বেশি দাম হাতিয়ে নিচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে প্রতিদিনই বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। তবে এতে কোন কাজ হচ্ছে না। বাজার মনিটরিং টিমের সদস্যরা কোন পদক্ষেপ নিলে ব্যবসায়ীরা বিক্রি বন্ধ করে জিম্মি করে ফেলছে ভোক্তাদের। মনিটরিং টিমের সদস্যরা অভিযান শেষে বাজার থেকে বের হলেই আগের দামে পিয়াজ বিক্রি শুরু করছে। অর্থাৎ পাইকার বা আড়তদাররা পুরো বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছে। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে প্রতিবছর গড়ে ৩০ লাখ টন পিয়াজের চাহিদা রয়েছে। গত মৌসুমে সাড়ে ২৫ লাখ টন পিয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। আর চলতি মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ টন। আর মাঠ থেকে তোলার সময় প্রতিবছর প্রায় ৫ লাখ টন পিয়াজ নষ্ট হয়। অর্থাৎ গড়ে প্রায় ১৯ লাখ টন পিয়াজ বাজারে থাকে। এতে পিয়াজের মোট ঘাটতি দাঁড়ায় ১১ লাখ টনের। এই ১১ লাখ টন পিয়াজ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। আর মোট আমদানির প্রায় ৯৫ শতাংশই আসে ভারত থেকে। বাকি পিয়াজ আমদানি করা হয় মায়ানমার, মিসর ও তুরস্ক থেকে। তাই ভারত রপ্তানি বন্ধ করলে বাংলাদেশের বাজারে পিয়াজের সংকট দেখা দেয়। তবে উৎপাদন ও চাহিদার হিসাব নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে।

জানা যায়, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে কোন ঘোষণা ছাড়াই বাংলাদেশে পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে ভারত। এতে পিয়াজের দাম হু হু করে দাম বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি কেজি ৩০০ টাকায়। গত সোমবারও কোন ধরনের ঘোষণা ছাড়া পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছে দেশটি। ফলে বেনাপোলের ওপারের পেট্রাপোলে আটকা পড়ে পিয়াজ ভর্তি প্রায় ১৫০টি ট্রাক। ভারতের একটি সূত্র জানায়, বেনাপোল বন্দর দিয়ে সকালের দিকে ৫০ মেট্রিক টন পিয়াজ প্রবেশের পরই দেশের সবগুলো বন্দর দিয়ে পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারতের পিয়াজ রপ্তানিকারকদের সংগঠন। বেনাপোলের ওপারে পেট্রাপোল রপ্তানিকারক সমিতির পক্ষে ব্যবসায়ী কার্তিক ঘোষ গণমাধ্যমকে জানান, ভারতের পিয়াজ রপ্তানিকারক সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রতি মেট্রিক টন পিয়াজ ৭৫০ মার্কিন ডলারের নিচে বাংলাদেশে পিয়াজ রপ্তানি করবে না। ভারতের বনগাঁ এলাকার পিয়াজ ব্যবসায়ী অনিল মজুমদার গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশে পিয়াজ রপ্তানি করতে তাদের আপত্তি নেই। বাজার দরে এলসি পেলে তারা পুনরায় রপ্তানি শুরু করবে। সেক্ষেত্রে পুরানো যে সব এলসি দেয়া আছে সেগুলো ২৫০ মার্কিন ডলার সংশোধন করে সংশোধিত মূল্যে এবং নতুন এলসি ৭৫০ মার্কিন ডলার করা হলে পিয়াজের আমদানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

গতকাল দুপুর ১২টায় কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, পাইকারি বাজারে একাধিক ব্যবসায়ী পিয়াজ বিক্রি বন্ধ রেখেছে। পরিচয় গোপন করে কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছুক্ষণ আগে বাজার মনিটরিং টিমের সদস্যরা বাজার মনিটরিংয়ে এসেছিলেন। তারা পাইকারি বাজারে বিক্রির জন্য পিয়াজের দাম নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সেই দামে পিয়াজ বিক্রি করতে চান না। এই কারণে তারা পিয়াজ বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। ঘটনাস্থলে আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে দেখা যায়, বাজার মনিটরিং টিমের সদস্যরা বাজার ত্যাগ করার পর নির্দিষ্ট করে দেয়া দামের চেয়ে বেশি দামে ফের পিয়াজ বিক্রি শুরু করে।

বাজার মনিটরিং টিমের নির্দিষ্ট করে দেয়া দামে পিয়াজ বিক্রি করতে চান না ব্যবসায়ীরা। পরিচয় গোপন করে জানতে চাইলে একজন ব্যবসায়ী সংবাদকে বলেন, ‘তারা দাম ঠিক করে দেয়ার কে? আমাদের যা খরচ হয়েছে তার চেয়ে কম দামে আমরা বিক্রি করব না। তাদের কাজ মনিটরিং করা, তারা তা করে গেছে। আমাদের কাজ ব্যবসা করা, আমরা আমাদের লাভ রেখে ব্যবসা করব। যখন আমাদের লস হয় তখন কি তারা সেটা পুষিয়ে দেয়? তাহলে কেন তারা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য করবে?’

পিয়াজের একটি পাইকারি দোকানে দেখা যায়, তার দোকানের নাম লেখা নেই। মূল্য তালিকায় আমদানি করা ভারতীয় পিয়াজের দাম লেখা রয়েছে প্রতিকেজি ৫০ টাকা। কিন্তু ক্রেতারা পিয়াজ কিনতে চাইলে জানায়, প্রতিকেজির দাম ৬০ টাকা। কেন এই দামের পার্থক্য জানতে চাইলে দোকানদার সংবাদকে বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে বাজার মনিটরিং টিমের লোকজন এসেছিল। তারা ৫০ টাকা দামে বিক্রি করতে বলেছে। তাই এখানে ৫০ টাকা কেজি লেখা আছে। কিন্তু আমি ৬০ টাকার কমে বিক্রি করতে পারব না। যদি ৬০ টাকা কেজিতে কিনতে চান তাহলে কেনেন, না হলে কেটে পড়েন।’ তিনি আরও জানান, প্রতিকেজি পিয়াজে তাদের ৫ থেকে ৬ টাকা লাভ হয়। এই পাঁচ টাকা লাভ তাদের যথেষ্ট নয়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই বাজারে অনেকে এর চেয়ে ডাবল লাভে বিক্রি করছে। আমি কেন তাহলে এই দামে বিক্রি করব?’

বাজার মনিটরিং টিমের অভিযান প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল জব্বার ম-ল সংবাদকে বলেন, ‘আমরা আজও অভিযানে গিয়েছিলাম। অধিদফতরের চারটি টিমসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তিনটি মনিটরিং টিম এই অভিযান পরিচালনা করছে। বাজারে কিছু অসৎ ব্যবসায়ী আছে। তারা সব সময় সুযোগ খুঁজতে থাকে। সুযোগ পেলেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়ে ভোক্তাদের জিম্মি করে ফেলে। এই সুযোগ আর দেয়া যাবে না। গতকাল শ্যামবাজার ও কারওয়ান বাজারে অভিযান পরিচালনা করছি। অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

তবে পাইকারি বাজারেও সব দোকানের দাম সমান নয়। কোন দোকানে পাইকারিতে প্রতিকেজি ৬০ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে। আবার কোন দোকানে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজিতে ৬৫ টাকায়। আবার কেউ কেউ ৭০ টাকায়ও বিক্রি করছে। অর্থাৎ দর দাম করে যে ভোক্তার কাছে যেমন পাচ্ছে তেমন দাম নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। অর্থাৎ বাজারে নায্যমূল্যের বিষয়টি উপেক্ষিত।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, নৈরাজ্য শুধু পাইকারি বাজারেই নয়, খুচরা বাজারেও সমান নৈরাজ্য চলছে। সেখানেও নায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির কোন আলামত নেই। একেক দোকানে একেক দাম। এক মাস আগে পিয়াজের দাম ছিল কেজি প্রতি ৩০ টাকা। গতকাল খুচরা বাজারে দেশি পিয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১০০ টাকায়। আমদানি করা ভারতীয় পিয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। অনেক সময় একই মানের পিয়াজের দাম দোকানভেদে বিভিন্ন রকম দেখা গেছে। এক মাসের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ টাকা। কাওরান বাজারে রাজশাহী, পাবনা, ফরিদপুর ও কিং নামে আরেকটি জাতসহ মোট চার ধরনের দেশি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে। এসব পিয়াজ জাত ভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা পার্থক্য রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন খুচরা দোকানদার সংবাদকে বলেন, ‘বাজারে কারও নিয়ন্ত্রণ নেই। যে যেভাবে পারছে লাভ করছে। একই মানের এক কেজি পিয়াজে কেউ ৫ টাকা লাভ করছে। কেউ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা লাভ করছে।’ এক কেজি পিয়াজে তিনি কত টাকা লাভ করছেন জানতে চাইলে সংবাদকে বলেন, ‘আমি কেজি প্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা লাভ করছি। আমার কথা শুনে চমকে যাওয়ার কোন কারণ নেই। আমি আগেই বলেছি, যে যেভাবে পারছে লাভ করছে। বাজারে কার নিয়ন্ত্রণ নেই।’

এ বিষয়ে সরকারের করণীয় কি হতে পারে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবি মির্জা মো. আজিজুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সরকার দুটি পদক্ষেপ নিতে পারে। প্রথমটি হলো, সরকার এখন টিসিবির মাধ্যমে পিয়াজ বিক্রি শুরু করেছে, এর আওতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে যেন দেশের জনগণ এসব সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি না হয়ে যায়। দ্বিতীয়টি হলো, ভোক্তা আধিকার আইনে এদের বিরুদ্ধে মামলা করে জেলে পাঠাতে হবে।

পিয়াজের দাম বৃদ্ধি ও আমদানির প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য পরামর্শক (দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা পূর্বাভাস সেল) জিয়াউর রহমান সংবাদকে বলেন, ‘দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ পিয়াজ মজুদ আছে তাতে আগামী তিন মাস কোন সমস্যা হবে না। তারপরও আমরা বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানির কার্যক্রম শুরু করেছি। কিছুদিনের মধ্যেই আরও কয়েকটি দেশ থেকে পিয়াজ আমদানি হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। এক্ষেত্রে ভোক্তাকে সচেতন হতে হবে। অনেক সময় দেখা গেছে, যে পণ্যটির ঘাটতি হচ্ছে, ভোক্তারা সেই পণ্যটি বেশি করে কেনা শুরু করছে। এতে পণ্যটির ঘাটতি আরও বেড়ে যাচ্ছে। তাই ক্রেতাদের প্রতি আমার আহ্বান, তারা যেন ভয় পেয়ে প্রয়োজনের বেশি পিয়াজ কেনা শুরু না করে।’

অনেক পাইকারি ব্যবসায়ী পণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে- এমন প্রসঙ্গে তিনি সংবাদকে বলেন, ‘পিয়াজের বিষয়ে সেটা হবে না। কারণ পিয়াজ বেশিদিন স্টক করা যায় না। কোন ব্যবসায়ী যদি পিয়াজ স্টক করে তাহলে নিজেই সমস্যায় পড়বে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তার কথার সত্যতা পাওয়া যায় বাজারে। গতকাল পিয়াজের বাজারে শফিকুল ইসলাম নামের একজন ক্রেতার সঙ্গে কথা হয়। তিনি একাই ২০ কেজি পিয়াজ কিনেছেন। কেন তিনি একাই ২০ কেজি পিয়াজ কিনেছেন জানতে চাইলে তিনি সংবাদকে বলেন, ‘এখন যদি না কিনি তাহলে এই পিয়াজের দাম এক সপ্তাহের মধ্যে আবার ৩০০ টাকা কেজি উঠবে। তাই হাতের কাছে যা পেয়েছি কিনে ফেলেছি।’ তিনি একাই ২০ কেজি পিয়াজ কিনলে বাজারে এমনিতেই কৃত্রিম সংকট দেখা দিতে পারে-এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের দুই এক কেজি পিয়াজের জন্য বাজারে সংকট দেখা দিবে না। যা সংকট সৃষ্টি করা দরকার তা পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদাররাই সৃষ্টি করবে। সরকার পারলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করুক। সরকার তাদের সঙ্গে পারে না, শুধু জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে।’

সম্প্রতি ভারতের পিয়াজ রপ্তানি বন্ধের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘ভারত পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় কিছুটা সমস্যা হবে। তবে গতবারের মতো খারাপ অবস্থা হবে না। কারণ এবার গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বেশ আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। এমনকি পিয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যে প্রতি কেজি পিয়াজ ৩০ টাকায় বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। পিয়াজের দাম শীঘ্রই নিয়ন্ত্রণে আসবে। পিয়াজ আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক কমানো হচ্ছে। এছাড়া দামবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পিয়াজের মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চলতি বছর সর্বোচ্চ পরিমাণ পিয়াজ আমদানি করা হবে। এর ফলে শীঘ্রই দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

জানা গেছে, এই সংকটের সময় ভারতের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন দেশ থেকে পিয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত বিশ্বের পাঁচটি দেশ থেকে ১০ হাজার ৯১ টন পিয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছে ২৪টি প্রতিষ্ঠান। এই পাঁচটি দেশ হলোÑ চীন, মায়ানমার, পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক।

এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাসহ সারাদেশে খোলাবাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে পিয়াজ বিক্রি শুরু করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সারাদেশে ২৭৫টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে ৩০ টাকা কেজি দরে পিয়াজ কিনতে পাচ্ছেন ক্রেতারা। একজন ক্রেতা সর্বাধিক দুই কেজি পর্যন্ত পিয়াজ কেনার সুযোগ রয়েছে। পিয়াজের সঙ্গে চিনি, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেলও ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। ঢাকায় ৪০টি ট্রাক, চট্টগ্রামে ১০টি, রংপুরে সাতটি, ময়মনসিংহে পাঁচটি, রাজশাহীতে পাঁচটি, খুলনায় পাঁচটি, বরিশালে পাঁচটি, সিলেটে পাঁচটি, বগুড়ায় পাঁচটি, কুমিল্লায় পাঁচটি, ঝিনাইদহে তিনটি ও মাদারীপুরে তিনটি, অবশিষ্ট জেলা ও উপজেলায় প্রতিটিতে দুটি করে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতাভুক্ত উপজেলায় অতিরিক্ত পাঁচটি ট্রাক ও বন্যাকবলিত জেলা-উপজেলায় পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৩টি ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম শুক্র ও শনিবার ছাড়া আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।