• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

পিয়াজের দাম কমাতে সারাদেশে চলছে অভিযান

জরুরি আমদানিতে সংকট কমে আসছে

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ অক্টোবর ২০১৯

কোরবানি ঈদের পর থেকেই পিয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে। এরপর হঠাৎ করেই ভারত পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় এক লাফে দাম বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১৩০ টাকায়। তবে হঠাৎ করে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়া পিয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। গতকাল বিক্রি হয়েছে ১১০-১১৫ টাকায়। আর ভারতীয় কিংবা মায়ানমারের পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮৫-৯৫ টাকা কেজি। ফলে এক দিনের ব্যবধানে পিয়াজের দম কমেছে ১৫ টাকার বেশি।

গতকাল রাজধানীর কমলাপুর, মতিঝিল এজিবি কলোনি এবং শান্তিনগর কাঁচাবাজার এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বুধবারের কেনা দেশি পিয়াজ ১১০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তবে গতকাল কেনা প্রতি কেজি পিয়াজ ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তারা বলছেন, দু-এক দিনের মধ্যে দাম আরও কমতে পারে। শান্তিনগরের এক পিয়াজ ব্যবসায়ী বলেন, ভারত পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার ফলে হঠাৎ করে দাম বেড়েছে। তবে মায়ানমারসহ অন্য দেশ থেকে সরকার জরুরিভিত্তিতে পিয়াজ আমদানি করায় বিদ্যমান সংকট কমে আসছে। এ কারণে পিয়াজের দাম কমছে।

এদিকে গত বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে পিয়াজের দাম ৮০ টাকায় নামবে। তিনি বলেন, বাজারে পিয়াজের দাম শীঘ্রই কমে আসবে। এরই মধ্যে মায়ানমার থেকে ৪৮৩ মেট্রিক টন পিয়াজ আনা হয়েছে। আরো ৫০০ মেট্রিক টন পিয়াজ দেশে পৌঁছানোর অপেক্ষায়। প্রতিদিনই পিয়াজ কম বেশি আমদানি করা হচ্ছে। কেজি প্রতি পিয়াজের আমদানি মূল্য ৪৫ টাকা। পাইকারি মূল্য, যাতায়াত মূল্য, সব মিলিয়ে ৫০ কিংবা ৬০ টাকা কেজি হওয়া উচিত।

এদিকে পিয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ খুঁজতে ১০টি মনিটরিং টিম কাজ করছে। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং গুদামকে জরিমানা করা হচ্ছে। এছাড়া সারাদেশে অভিযান পরিচালনা করছেন বাণিজ্যমন্ত্রনালয়সহ প্রশাসন। অতিরিক্ত দামে পিয়াজ বিক্রি করায় বিভিন্ন জায়গায় অভিযানের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়েছে। পিয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে মূল্যবৃদ্ধি থামাতে ও কৃত্রিম সংকট দূর করতে হিলি স্থলবন্দরের পিয়াজ আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুর মোহাম্মদ মাহবুবুল হক। গতকাল বৈঠকের পর তিনি স্থানীয় খোলা বাজারের ব্যবসায়ী-ক্রেতা ও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও কথা বলেন। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হিলি স্থলবন্দরের পিয়াজ আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বন্দর দিয়ে কী পরিমাণ পিয়াজ আমদানি করা হয়, বর্তমানে মজুত আছে কি না এবং কী দামে বিক্রি করছেন- সব বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

এদিকে গতকাল নাটোরের সিংড়া উপজেলার কয়েকটি বাজারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাঁচাবাজারে অভিযান শুরু করলে মুহূর্তেই পিয়াজের দাম কেজিতে ৩৫ টাকা কমে যায়। দাম বাড়ানোর অপরাধে এক হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে এক ব্যবসায়ীকে।