• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, ২৩ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

পিপলস লিজিং ও রিলায়েন্সের দুর্নীতির খোঁজে দুদক

সাইফ বাবলু

| ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ নভেম্বর ২০১৯

আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্স কোম্পানির আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)। দুদকের উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধানকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া পিপলস লিজিং কোম্পানির ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রিলায়েন্স ফ্যাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পিপলস লিজিং কোম্পানি ও রিলায়েন্স ফ্যাইন্স্যান্সের গত ৪ বছরে(২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত) দায়িত্বে থাকা বোর্ড অব ডিরেক্টটরদের নামসহ যাবতীয় নথিপত্র তলব করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৩ নভেম্বরের মধ্যে এ দুই প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় নথিপত্র দুদকে পৌঁছানোর জন্য বলা হয়েছে। এসব তথ্য চেয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পিপলস লিজিং এবং রিলায়েন্স ফাইনেন্সের কাছে পত্র দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারকে দুদকে তলব করা হয়েছে। তাকে আগামী ১৪ নভেম্বর হাজির থাকতে বলা হয়েছে। চিঠিতে তার সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টেরও তথ্য চাওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়. রিলায়েন্স ফাইনান্সের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদার প্রতিষ্ঠানের এমডি থাকা অবস্থায় তার আত্মীয় স্বজনকে দিয়ে আরও বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির ইনডিপেন্ডেন পরিচালক বানান। একক কর্তৃত্বে অদৃশ্য শক্তির মাধ্যমে পিপলস লিজিংসহ বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির টাকা বিভিন্ন কৌশলে বের করে আত্মসাত করেন। পিপলস লিজিং এ আমানতকারীদের ৩ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাত করার অভিযোগ রিলায়েন্সের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে। মূলত পিপলস লিজিং কোম্পানি দেওলিয়া ঘোষণা করে বন্ধ হওয়ার নেপথ্যে বড় ভূমিকা ছিল প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে। এ সব কোম্পানির স্থাবর সম্পদ বিক্রি করে দিয়ে আমানতকারীদের শেয়ার পোর্টফোলিও থেকে শেয়ার বিক্রি করে সব অর্থ আত্মসাত করেন প্রশাস্ত কুমার হালদার। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগামী ১৪ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনে হাজির হতে নোটিশ দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, চিঠিতে বলা হয়েছে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের বোর্ড অব ডিরেক্টরের নাম ও বিস্তারিত তথ্যাদি, ২০১৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত কত টাকা আমানতকারীদের কাছ থেকে উত্তোলন করা হয়েছে এবং কত টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে কাছে কত টাকা রক্ষিত রয়েছে, তার তথ্যাদি আগামী ১৩ নভেম্বরের মধ্যে দুদকে পৌঁছাতে হবে। ওই প্রতিষ্ঠানের নামে কোন কোন ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রয়েছে, অ্যাকাউন্ট স্ট্যাটম্যান্টসহ তথ্য দিতে হবে। ২০১৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ওই কোম্পানির কত টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ বিক্রয় করা হয়েছে এবং কোম্পানির শেয়ার পোর্টফোলিও থেকে গ্রাহকদের মার্জিন লোনের বিপরীতে কত টাকার শেয়ার বিক্রয় করা হয়েছে, ওই অর্থ দিয়ে কি করা হয়েছে বা কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে, অ্যাকাউন্ট স্ট্যাটমেন্টসহ প্রয়োজনীয় তথ্য রেকর্ডপত্রাদি। দিতে বলা হেেছ। গ্রাহক ছাড়া আর কোন কোন প্রতিষ্ঠানের কত টাকা আমানত হিসাবে নেয়া হয়েছিল বা কোন কোন প্রতিষ্ঠান কত টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্যাদি ছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের কাছ থেকে কত টাকা আমানত হিসেবে নেয়া হয়েছিল বা কত টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে সেসব তথ্য দিতে হবে।