• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ শাওয়াল ১৪৪০

পরীক্ষায় অসততায় বাধা দেয়ায়

পাবনায় কলেজ শিক্ষককে পেটাল ছাত্রলীগ ক্যাডাররা

নিন্দা ও প্রতিবাদ

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, পাবনা

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে বাধা দেয়ায় পাবনায় কলেজ শিক্ষকের ওপর হামলা করেছে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। গত ১২ মে সংগঠিত এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বুধবার নিন্দার ঝড় উঠেছে। তবে, ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে দাবি করে ঘটনায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন ছাত্রলীগ নেতারা।

সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যায়, ১২ মে দুপুর দুইটা। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মাসুদুর রহমান। কলেজের মূল ফটকে কিছু বুঝে ওঠার আগেই অতর্কিত হামলা করে মাসুদুরকে পেটাতে শুরু করে একদল যুবক। ছবিতে কলেজ সভাপতি শামসুদ্দীন জুন্নুনকে হামলাকারীদের নিবৃত্ত করতে দেখা গেলেও, শিক্ষকদের অভিযোগ জুন্নুনের নির্দেশেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থানায় অভিযোগ তো দূরের কথা; নিরাপত্তাহীনতায় ঘর থেকেই বের হচ্ছেন না শিক্ষক মাসুদুর রহমান।

ভুক্তভোগী শিক্ষক মাসুদুর রহমান বলেন, ৬ মে কলেজের ১০৬ নম্বর কক্ষে উচ্চতর গণিত পরীক্ষায় পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করছিলাম। এ সময় দুজন পরীক্ষার্থী দেখাদেখি করায় তাদের সতর্ক করি। তারপরেও তারা বিরত না হলে, কিছু সময়ের জন্য খাতা জব্দ করে রাখায় তারা ক্ষুব্ধ হয়। এ ঘটনার পর বুঝতে পারছিলাম ছাত্রলীগের ছেলেরা আমার ওপর ক্ষুব্ধ। পরে, ১২ মে বাড়ি ফেরার সময় কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি শামসুদ্দীন জুন্নুনের নির্দেশে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা আমাকে কিল, ঘুষি, লাথি দিয়ে ফেলে দেয়। পরে শিক্ষকরা এসে আমাকে উদ্ধার করে।

মাসুদুর আরও বলেন, ঘটনার পর আমি ভয়ে কাউকে কিছু জানাইনি। থানায় অভিযোগ করারও সাহস হয়নি। গত রাতে সামাজিক মাধ্যমে ঘটনা জানাজানির পর অনেকেই আমাকে সাহস দিয়েছেন।

৩৬তম বিসিএস এর শিক্ষক মাসুদুর বলেন, আমাকে মারধরের পর ঘটনা আড়াল করতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌন হয়রানির কথা বলা হচ্ছে। যে নারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে তারাও আমাকে বলেছে তাদের অভিযোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। আমি সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে, কর্মরত অবস্থায় লাঞ্ছিত হলাম, এরপরেও যদি বিচার না পাই তবে আর কিছুই বলার নেই।

লাঞ্ছিতের ঘটনার পর মাসুদুর বিরুদ্ধে এক পরীক্ষার্থীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় কোন ব্যবস্থা না নিলেও বানোয়াট অভিযোগের তদন্তে কমিটি করেছে কলেজ প্রশাসন। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনা সমগ্র শিক্ষক সমাজের জন্য অপমানের। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ চাই, অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি নেয়া হবে।

মাসুদুরকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ঘটনার বিচার দাবি করেছেন মাসুদুরের সহকর্মীরা। ব্যবস্থা নেয়ার আশ^াস দিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষও। তবে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি।

সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শামসুদ্দিন জুন্নুন বলেন, শিক্ষক মাসুদুরের ওপর হামলায় আমি বা ছাত্রলীগ জড়িত নই। বহিরাগত সন্ত্রাসীরা স্যারকে আক্রমণ করলে আমরা প্রতিরোধ করে সন্ত্রাসীদের বের করে দিয়েছি।

কলেজ অধ্যক্ষ আবদুল কুদ্দুস বলেন, শিক্ষকরা বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষকদের অভিযোগ কেবল মাসুদুর নয়, ইতোপূর্বে একাধিক শিক্ষক ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের দ্বারা আক্রান্ত হলেও ভয়ে মুখ খোলেননি তারা। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে এসব ঘটনার বিচার দাবি করেছেন শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।