• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

পাকিস্তানে সেনা-অভ্যুত্থানের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , রোববার, ০৬ অক্টোবর ২০১৯

পাকিস্তানে ফের সামরিক শাসনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে । দেশটিতে যেকোন মুহূর্তে বড় ধরনের সামরিক অভ্যুত্থান হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে আশংকা ব্যক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি ভারতশাসিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদায় সংবিধানে সংরক্ষিত ৩৭০ অনুচ্ছেদ নয়াদিল্লি বাতিল করে দেয়ার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এ বিষয়ে যথাযথভাবে সরব হননি বলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অভিযোগ। এ জন্য সরকার ক্ষমতা নিজেদের করায়ত্ব করতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল কমর জাবেদ বাজওয়া চক আঁটছেন বলে দেশটিতে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন সেনা-শাসন ও সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত সরকার ব্যবস্থা ছিল পাকিস্তানে। সর্বশেষ নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে বিজয়ী করার পেছনেও সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

জাতিসংঘে বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলে বিশ্বনেতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মসনদ ‘হাওয়ায় দুলছে’। এমন দাবি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের। তারা বলছে, ইমরান খানকে ছাড়াই পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল কমর জাবেদ বাজওয়া দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার পর এ ‘বিশেষ হাওয়া’ অনুভূত হচ্ছে।

পাকিস্তানের ইতিহাসে সেনা-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বের জন্য কুখ্যাত ১১১ ইনফ্যানট্রি ব্রিগেডের ছুটি বাতিলের পর এ ধরনের গুঞ্জন আরও বেশি ডালপালা মেলেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইমরান খান যোগ দিয়ে আসার পর গত ২ অক্টোবর পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সেনাপ্রধান বাজওয়া। এ ধরনের বৈঠক যদিও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহে ‘স্বাভাবিক নয়’, কিন্তু সভার বিষয়টি আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তি দিয়েই জানিয়ে দেয় সংবাদমাধ্যমে। বৈঠকের শিরোনাম ছিল ‘ইন্টারপ্লে অব ইকোনমি অ্যান্ড সিকিউরিটি’ (অর্থনীতি ও নিরাপত্তার পারস্পরিক কার্যক্রম)।

আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে সেনাপ্রধান বাজওয়া বলেন, পাকিস্তানের জোরদারকৃত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিবেশ বিস্তৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পরিসর বাড়িয়ে দিয়েছে।’ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, সেনা-অভ্যুত্থানের শঙ্কার পালে সবচেয়ে বেশি হাওয়া লেগেছে ১১১ ব্রিগেডের ছুটি বাতিল হওয়ার পর। ছড়িয়ে পড়া এক টুইটে দাবি করা হয়েছে, ১১১ ব্রিগেডের সব কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করে তাদের কর্মস্থলে ফেরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতিহাস বলছে, ইস্কান্দার মির্জার নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করতে জেনারেল আইয়ুব খান, জুলফিকার আলী ভুট্টোকে সরাতে জেনারেল জিয়া-উল-হক এবং নওয়াজ শরিফের সরকারকে উৎখাত করতে জেনারেল পারভেজ মোশাররফ যে সেনা-অভ্যুত্থান ঘটিয়েছিলেন, তাতে নেতৃত্ব দিয়েছিল এই ব্রিগেডই। ১১১ ব্রিগেডের সদরদফতর রাওয়ালপিন্ডিতে। ব্রিগেডটির বিপজ্জনক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে আনাস মালিক নামে এক টুইটার ব্যবহারকারী বলেন, ‘অভ্যুত্থান ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে উৎখাত করতে এবং বেসামরিক নেতৃত্বকে আটক করতে ভয়ঙ্কর ব্রিগেড ১১১, তাদের অবস্থানও এমনই জায়গায়।’

ভারতশাসিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদায় সংবিধানে সংরক্ষিত ৩৭০ অনুচ্ছেদ সম্প্রতি নয়াদিল্লি বাতিল করে দেয়ার পর এ বিষয়ে সরব হন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কিন্তু তার সরকারের ভূমিকা ভারতকে চাপে ফেলতে যথেষ্ট হয়নি বলে মনে করে পাকিস্তানিদের একাংশ। যদিও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও ইমরান এ নিয়ে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও সেনাপ্রধান জেনারেল কমর বাজওয়াগত বৃহস্পতিবারই (৩ অক্টোবর) সেনাপ্রধান বাজওয়া বাহিনীর কর্প কমান্ডারদের উদ্দেশে বক্তৃতা করেন। সেখানে তিনি কাশ্মীরকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের ‘ঘাড়ের শিরা’ উল্লেখ করে বলেন, ভারতের যেকোন ‘মিসঅ্যাডভেঞ্চার’র মোক্ষম জবাব দেবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। দেশের সম্মান, মর্যাদা ও আঞ্চলিক অখ-তা যেকোন মূল্যে সুরক্ষায় পাকিস্তান সামরিক বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রভাবশালী বাহিনীর প্রধান জেনারেল বাজওয়া দেশটির জাতীয় উন্নয়ন পরিষদেরও সদস্য। অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধনে যথাযথ নীতি প্রণয়নে ২০১৮ সালের জুনে গঠিত এ পরিষদে আরও রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান, প্রভাবশালী কিছু মন্ত্রী, প্রদেশগুলোর মুখ্যমন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিবরা। ইমরান খানকে সেনাবাহিনীর ‘সমর্থিত’ প্রধানমন্ত্রী বলা হলেও এ বছরের মে মাসে খবর ছড়ায়, ইমরান ও সেনাপ্রধান বাজওয়ার সঙ্গে সম্পর্ক খুব ভালো যাচ্ছে না। জুনে বাজওয়া পাকিস্তান রাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা’ নিয়েও কথা বলেন। যদিও পরে আগস্টে সেনাপ্রধান পদে বাজওয়ার মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়িয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সেনাবাহিনীর এই ‘রহস্যজনক’ আচরণের মধ্যেই বৃহস্পতিবার কট্টরপন্থি রাজনৈতিক দল জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজল ঘোষণা দেয়, তারা ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ‘আজাদি মার্চ’ করবে। তবে এই মার্চ কবে করবে, তা তারা এখনও ঘোষণা দেয়নি।