• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মহররম ১৪৪১

পবিত্র আশুরা আজ

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

আজ ১০ মহররম। পবিত্র আশুরা। হিজরি বর্ষের সূচনার মাস মহররমের এদিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য তাৎপর্যময় ও শোকাবহ। হিজরি ৬১ সালের এই দিনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.), তার পরিবার ও অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর কারবালা প্রান্তরে এজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের সুমহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে রয়েছে। কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী আমাদের অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রেরণা যোগায়। সত্য ও সুন্দরের পথে চলার প্রেরণা যোগায়।

মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র আশুরা পালিত হচ্ছে। আজ সরকারি ছুটির দিন। সংবাদপত্র অফিসও ছুটি থাকবে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। আজ বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি রেডিও-টিভি চ্যানেলেও এই দিনের তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।

বাণী : পবিত্র আশুরা উপলক্ষে বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, কারবালার শোকাবহ ঘটনা আমাদের অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলার প্রেরণা যোগায়। তিনি বলেন, ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম। এখানে হানাহানি, হিংসা, দ্বেষ বা বিভেদেও কোন স্থান নেই। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করে বলেন, ধর্মীয় উগ্রবাদ, মৌলবাদ, জঙ্গিবাদসহ কুসংস্কারমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সমাজে সত্য ও সুন্দরের আলো ছড়িয়ে দিতে পবিত্র আশুরার মহান শিক্ষা হোক সবার প্রেরণার উৎস।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পবিত্র আশুরা একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ দিনটি বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তাদের এ আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় জীবনে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পবিত্র আশুরা হতে আমাদের সবাইকে শিক্ষা নিতে হবে।

অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করাই আশুরার শিক্ষা : পবিত্র আশুরার দিনটি শোকদিবস হিসেবে পালন করার সঙ্গেই আমরা বেশি পরিচিত। কিন্তু আশুরার তাৎপর্য ও পবিত্রতার প্রধান কারণগুলো ইসলামের বিভিন্ন ঘটনা থেকে অর্জিত হয়েছে। মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর কাছে প্রথম অহি নিয়ে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) পৃথিবীতে এসেছিলেন এই পবিত্র দিনটিতে। পৃথিবীর সর্বপ্রথম মানব আদম (আ.) এ দিনেই আগমন করেছিলেন। ইসলামের আবির্ভাব অর্থাৎ মহানবী (সা.) কর্তৃক ইসলাম প্রচারের বহু আগে থেকেই পবিত্র আশুরা পালিত হয়ে আসছে। পবিত্র আশুরাকে ঘিরে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে পরবর্তী সময়ে যুক্ত হয়েছে কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা। এই মর্মান্তিক ঘটনা স্মরণই এখন পবিত্র আশুরা পালনের মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর একটা বড় কারণ হলো, ধর্মের নাম করে অধর্ম ও অন্যায়ের অশুভ শক্তি সেদিন ইসলামের সত্য বাণী ও ন্যায় ধর্মকে আঘাত করেছিল, নিয়েছিল প্রতারণার আশ্রয়। আরবে উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা আমির মাবিয়ার ছেলে এজিদ ইসলামের প্রকৃত অনুসারীদের ধ্বংস ও পদানত করার চক্রান্ত করেছিল। সেদিন দ্বীন ও সত্যের জন্য ইমাম হোসাইন (রা.) এজিদের বিপুল বাহিনীর কাছে মাথানত না করে যুদ্ধ করে শাহাদতবরণ করেছিলেন তার বাহাত্তর জন সঙ্গীকে নিয়ে।

পবিত্র আশুরার এই শোকদিবসের শিক্ষা হলো অত্যাচারের কাছে মাথানত না করা, মিথ্যার কাছে নতি স্বীকার না করা। তাই হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদতবরণ একই সঙ্গে শোক ও গৌরবের সমাচার। তার সেই ত্যাগের গৌরব গোটা মসলিম জাহানের অন্তরকে উদ্ভাসিত করুক, অনুপ্রাণিত করুক ঈর্ষা-দ্বেষ-কলুষমুক্ত সমাজ গঠনে। এটাই হবে তার শাহাদতবরণে আমাদের শোক, সত্য-ধর্মের পথে চলার পাথেয়। শুধু শোকের মাতম নয়, ত্যাগের মাহাত্ম্যে আলোকিত হয়ে উঠুক মুসলিম জাহানসহ মানবসমাজের হৃদয়।

অনুষ্ঠান : আশুরা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। হোসেনী দালানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাজিয়া মিছিল বের হবে। এসব মিছিলে থাকবে ইমাম হোসেনের প্রতীকী কবর, নানা রঙের আলাম (দীর্ঘ লাঠির মাথায় ত্রিকোণাকৃতির পতাকা); শোকাকুল মানুষের মুখে থাকবে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ রব, থাকবে নওহা (শোকগীতি)। মিছিলের পর বিকেলে হবে ফাকা শিকানী। সকাল থেকে অনাহারে থাকার পর এর মাধ্যমে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ খাওয়া-দাওয়া করবেন। রাতে কারবালা প্রান্তরে নারী ও শিশুদের অসহায় অবস্থার স্মৃতি নিয়ে আশুরার দিন সন্ধ্যার পর হোসেনী দালানে হবে শামে গরিবা (অসহায়দের সন্ধ্যা)। শামে গরিবার সময় দালানের সব সাজসজ্জা সরিয়ে ফেলা হয়। নিভিয়ে দেয়া হবে আলো, মেঝেতে থাকবে না কোন বিছানা বা ফরাশ। এ অবস্থায় চলবে বয়ান ও মাতম।