• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ রবিউস সানি ১৪৪১

পদত্যাগ করছি না : জাবি উপাচার্য

লাল কার্ড দেখালেন আন্দোলনকারীরা, আজ পাল্টাপাল্টি কমসূচি

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, জাবি

| ঢাকা , বুধবার, ০২ অক্টোবর ২০১৯

image

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। তিনি বলেন, বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য যে দায়িত্ব দিয়েছে সেটি অযৌক্তিক। আমি এটি চাইতেও পারি না, করতেও পারি না। এটা সরকার বা বিচারবিভাগ চিন্তা করবে। আমাকে চাপ সৃষ্টি করার অর্থই হচ্ছে, একটা অযৌক্তিক দাবি দিয়ে আমাকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের আহ্বান জানানো। যেহেতু উন্নয়নপ্রকল্পের অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগের ভিত্তি নেই, তাই পদত্যাগের ইচ্ছা আমি প্রকাশ করছি না। গতকাল দুপুর ২টায় প্রশাসনিক ভবনে আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষিত উপাচার্যের পদত্যাগের আল্টিমেটামের শেষ দিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমি বিচারিক প্রক্রিয়াতে যেতে পারি না। আমি ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেছি। তারা যদি মনে করে তদন্ত করা উচিত, সেক্ষেত্রে আমার যতটুকু সহযোগিতা করার তা করব।

উপাচার্যের কাছ থেকে শাখা ছাত্রলীগের নেতারা ঈদ সালামি পেয়েছে এমন অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, ওরা বলুক। আমি এটা মানছি না। নিজেই কখনও পাঁচ হাজার টাকার ওপর সালামি পাইনি। কে কে আমার মানহানি করেছে, কোন কোন পত্রিকা টিভি চ্যানেল করেছে কখনও পরিস্থিতি এলে আমি এ নিয়ে কথা বলব।

এদিকে নৈতিক স্খলন ও অর্থ কেলেঙ্কারির দায়ে উপাচার্যকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এছাড়া স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে আজ থেকে সর্বাত্মক ধর্মঘটের ঘোষণা দেন। গতকাল দুপুর একটায় ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার পাদদেশে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

কর্মসূচিতে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, কমিশন কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত উপাচার্য ও তার পরিবারকে আমরা লাল কার্ড দেখিয়েছি। আমাদের আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করা হয়েছে।

এ সময় তিনি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক দেন। ধর্মঘট চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম ও ক্লাস বন্ধ থাকবে। তবে পূর্ব নির্ধারিত পরীক্ষা এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে বলে জানান তিনি।

কর্মসূচিতে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সোহেল রানা, সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক আবদুল জব্বার হাওলাদার, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দীন, অধ্যাপক শফি মুহাম্মদ তারেক, অধ্যাপক খবির উদ্দিন, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মো. ইরুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট, ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ জাবি শাখার নেতারা এতে অংশ নেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে উপাচার্যপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগকারী চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও জনসংযোগ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, শিক্ষার্থীদের এক অংশের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে প্রশাসন দুটি দাবি মেনে নিয়ে সমস্যার সমাধনের পথ সহজ করে। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী শিক্ষক গোষ্ঠী নিজেদের এজেন্ডা (উপাচার্যকে গদিচ্যুত করা) বাস্তবায়নে একটি ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন নেতাকে ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রমূলক ফোনালাপের সংলাপ তৈরি করা হয়। যাতে উপাচার্য ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা যায়। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আবেগকে পুঁজি করে তারা পুনরায় জাহাঙ্গীরনগরকে অস্থিতিশীল করে নিজেদের ফায়দা হাসিল করতে চায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিশ^বিদ্যালয়ের স্বার্থে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের কৃতকর্মের শাস্তির দাবিতে আগামীকাল (বুধবার) সকাল ১১টায় শহীদ মিনারের সামনে সড়কে মানববন্ধন এবং বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী জন-সংযোগ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অপরিকল্পনার অভিযোগ এনে তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন চলা অবস্থায় গত ১২ সেপ্টেম্বর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে দুটি দাবি মেনে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে দুর্নীতির বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবিটি অমীমাংসিত রেখেই শেষ হয় সেদিনের আলোচনাসভা। পরবর্তীতে ১৮ সেপ্টেম্বরে ফের আলোচনায় বসলেও কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও ১ অক্টোবরের মধ্যে পদত্যাগের দাবি জানান আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।