• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২০, ১৪ সফর ১৪৪২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৭

ফেরি বন্ধ ঘোষণার পরও

নৌরুটে বন্ধ হচ্ছে না জনস্রোত

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে পারাপারের অপেক্ষায় ১০ হাজার যাত্রী

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , বুধবার, ২০ মে ২০২০

image

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুট পারাপারের অপেক্ষায় মাওয়া ফেরি ঘাটে -সংবাদ

ফেরি বন্ধ ঘোষণার পরও শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি ও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে জন¯স্রোতে বন্ধ হচ্ছে না।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ফেরি বন্ধ ঘোষণার পরেও জন¯স্রোতে বন্ধ হচ্ছে না। শিমুলিয়া ঘাটে হাজারো মানুষের ফেরিতে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। রাত ১টায়ও ফেরিঘাটে থাকা দুটি ফেরিতে গ্রামমুখী প্রায় ১০ হাজার মানুষকে গাদাগাদি করে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

বিকেল ৩টায় শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটের ফেরি সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া হয়। তখনও ঘাটে পণ্যবাহী ২শ’ ট্রাক এবং ৫০টির মতো প্রাইভেটকার ছিল। গভীর রাতে ৩ ঘণ্টায় ৬টি ফেরি দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক, প্রাইভেটকার ও সাধারণ দিনমজুরদের পার করে দেয়া হয় বলে জানা গেছে।

মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন প্রবেশ পথে চেক পোস্ট বসানো হয়। এতে গাড়ি না আসলেও ভেঙে ভেঙে মানুষ আসা থামেনি। বহু মানুষ জড় হতে থাকে। এরই মধ্যে কাঁঠালবাড়ি থেকে একটি রোরো ফেরি শিমুলিয়া ঘাটে নোঙ্গর করে। তখনই হুমড়ি খেয়ে পড়ে অপেক্ষারত লোকজন। দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, পারাপারের সুযোগও আপতত থাকছে না। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতেই ফেরিতে যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ভিড় সামলাতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সাফায়েত আহম্মেদ জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি পেলে ফেরি ছাড়া হবে।

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিন ধরে প্রশাসনিক তৎপরতা কমায় শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌরুটের ফেরিগুলোতে ছিল উভয়মুখী যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। সোমবার সকালে এ রুট হয়ে যাত্রীদের ঢল নামে। একপর্যায়ে এ ঢল জনসমুদ্রে রূপ নেয়। বাধ্য হয়ে সবকটি ফেরি চালু করে শুধু যাত্রী পারাপার করা হয়। বিকেলেই সব ফেরি বন্ধ করা হয়। গতকাল সকাল থেকে কোন ধরনের পরিবহন ও যাত্রী পার হতে দেয়নি পুলিশ। এ সুযোগে দুপুর থেকে শিমুলিয়ার পরিবর্তে পুরাতন মাওয়া ঘাট থেকে অবৈধ ট্রলার ছেড়ে আসা শুরু করে। প্রতিটি ট্রলারেই ছিল উপচে পড়া যাত্রী। ট্রলারগুলো মাওয়া থেকে ছেড়ে জাজিরা, শিবচরের চরগুলো ব্যবহার করে ২ দফা ট্রলার পরিবর্তন করে পদ্মা সেতুর কাছে শিবচর ও জাজিরার সীমানায় বুড়ার খেয়া ঘাট এলাকাগুলোতে যাত্রী নামায়।

বিআইডব্লিউটিসির কাঠালবাড়ি ঘাট ম্যানেজার আ. আলিম মিয়া বলেন, যাত্রীদের যে চাপ পড়ে তাতে ফেরিতে কোন গাড়িই নেয়া যায় না। স্বাস্থ্য বিধির কোন বালাই নেই।

সহকারী পুলিশ সুপার আবির হোসেন বলেন, লকডাউন ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ফেরি বন্ধ রাখা হয়েছে। কোন অবস্থাতেই কাউকে ওপারে যেতে দেব না।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে মাত্র দুটি ফেরি দিয়ে জরুরি যানবাহন ও অ্যাম্বুলেন্স পারাপার করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের যাত্রী ওঠা নিয়ন্ত্রণের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ওই ফেরিতেই মানুষের ঢল নেমেছে।

একাধিক যাত্রী বলেন, অফিস আদালত, কল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বেতনের টাকাও ঠিক মতো পাইনি, যা পেয়েছি তা দিয়ে ঢাকায় ঈদ করা সম্ভব না।  তাই এই করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহ সময়ে খাই বা না খাই, ঢাকায় বসে থাকার চেয়ে বাড়িতে গিয়ে মা-বাবা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করব।

দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ওসি মো. মুন্নাফ বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া থেকে কোন যাত্রী যাতে কোন নৌযানে পারাপার হতে না পারে সে চেষ্টা করছি।

বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ রনি জানান, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সীমিত আকারে ছোট দুটি ফেরি দিয়ে শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পন্যবাহী যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। ফেরি সচল থাকায় ঘরমূখী মানুষ পারাপার হচ্ছে।