• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ রজব সানি ১৪৪১

নুসরাতের ‘ডাইং ডিক্লারেশন’ হত্যার জট খুলে দেয়

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৯

মৃত্যুর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসককে দেয়া নুসরাত জাহান রাফির ডাইং ডিক্লারেশনই হত্যাকাণ্ডের জট খুলে দেয়। ভিডিওতে ধারণ করা এই ডাইং ডিক্লারেশনের সূত্র ধরেই তদন্ত এগিয়ে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পাশাপাশি এই ভিডিওসহ তদন্তের পুরো বিষয়টি ডিজিটাল মনিটরে সাক্ষ্য দেয়ার সময় আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো মামলার তদন্ত ও আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার নতুন ধারা চালু করেছে পুলিশের এই তদন্ত সংস্থা।

পিবিআইয়ের প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মৃত্যুর আগে নুসরাত জাহান রাফি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুকালীন জবানবন্দি দেন। যা ভিডিও করা হয়। নুসরাতের দেয়া সেই ভিডিও স্টেটমেন্ট মামলার তদন্তে অনেক সহায়ক হয়। সেই ভিডিও স্টেটমেন্টের সূত্র ধরেই তদন্ত কাজ এগিয়ে নেয়া হয় এবং সেটি আদালতের সামনেও ডিজিটাল মনিটরে উপস্থাপন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার পর থেকেই পিবিআই মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে পিবিআই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। এরপর নিয়োজিত গুপ্তচর ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের নির্দেশনায় তদন্তে সংশ্লিষ্ট পিবিআইয়ের সদস্যরা তদন্তকাজ চালিয়ে যান। বিভিন্ন সময়ে পিবিআইর বিভিন্ন ইউনিট আসামিদের গ্রেফতার করে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি স্থানীয় কাউন্সিলর মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ আলমকে ১১ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়। এরপরই মামলার জট খুলতে শুরু করে দ্রুত। পরদিন ১২ এপ্রিল এজাহারভুক্ত ২ আসামি নুরউদ্দিন ও জাবেদ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। ১৩ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয় আরেক আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমকে। এরপর হাফেজ আব্দুল কাদেরসহ আসামিদের দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী আরও ৭ জনকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া আসামিদের মধ্যে ১২ জনই ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

নুসরাত হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার আরও বলেন, আমাদের সর্বোচ্চ মেধার প্রয়োগ করে আমরা চেষ্টা করেছি একটি নির্ভুল চার্জশিট দিতে। মামলা প্রমাণের জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবগুলো প্রয়োগের চেষ্টা করেছি। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, চাঞ্চল্যকর নুসরাত হত্যা মামলা দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইজিপির কাছে সন্তোষ প্রকাশ করে পিবিআইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও পিবিআইর তদন্তের প্রতি তার আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে জানান তিনি।