• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৩ মে ২০২০, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ রমজান ১৪৪১

নুসরাতের মতো তনু মিতুরাও দ্রুত বিচার পাক দাবি নারী নেত্রীদের

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৯

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের ৭ মাসের মাথায় অভিযুক্ত ১৬ আসামির সবার সর্বোচ্চ সাজার রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নারী অধিকার কর্মীরা। একই সঙ্গে হত্যাসহ নারীর বিরুদ্ধে সব সহিংসতার ঘটনাগুলোয় দ্রুত বিচার চেয়েছেন তারা। তারা বলেন, চূড়ান্ত বিচার নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের এই সাজা যাতে বহাল থাকে, এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে। এর পাশাপাশি তিন বছর আগে সোহাগী জাহান তনু ও মাহমুদা আক্তার মিতুসহ অন্য হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার দ্রুত করতে হবে। নুসরাত হত্যার ৭ মাসের মাথায় মামলার বিচার শেষে গতকাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ অভিযুক্ত ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মানবাধিকার কর্মী সংসদ সদস্য আরমা দত্ত বলেন, এই রায় নারী নির্যাতনের মামলায় একটি ঐতিহাসিক রায়। এ জন্য বিচার বিভাগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। এটি বর্তমানের শ্রেষ্ঠ বিচার হয়েছে। এই বিচারের জন্য হয়তো লাখ লাখ মেয়ের জীবন বেঁচে যাবে। যেসব পুরুষ মনে করেন মেয়েরা ভোগের পাত্র, তাদের সঙ্গে যা খুশি করে ফেলা যাবে, পার পাওয়া যাবে- তাদের জন্য একটা সতর্ক বার্তা। সারা বিশ্বের নারী নির্যাতনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ রায়কে ‘ল্যান্ডমার্ক’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, সারা বিশ্ব এটার রেফারেন্স নিতে পারবে।

পরিকল্পিতভাবে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে গণবিক্ষোভে চাপের কারণেই এত দ্রুত বিচার হয়েছে এবং জড়িত রাজনৈতিক নেতারাও রক্ষা পাননি বলে মনে করেন নারী সাংবাদিক কেন্দ্র সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু। তিনি বলেন, নুসরাত আর ফিরে আসবে না- এটা সত্য। কিন্তু অন্তত বিচারটা যে হলো, এটাই স্বস্তির। এ রকম আরও অপরাধ আছে। এগুলোরও তদন্ত ও বিচার হওয়া দরকার। যেমন- তনু ও মিতু হত্যার। প্রত্যেকেই জীবনহানি হচ্ছে। প্রতিটি হত্যার দ্রুত বিচার হতে হবে। না হলে এভাবে চলতেই থাকবে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরের একটি ঝোপ থেকে কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর (১৯) লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়। সেনানিবাসের মতো সুরক্ষিত জায়গায় কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। থানার পুলিশ হয়ে সিআইডি এর তদন্ত করে। একই বছর ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় খুন হন চট্টগ্রামে বিভিন্ন জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু। এ দুই হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র দিতে না পারায় শুরু হয়নি বিচার। এর মধ্যে তনু হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভও হয়েছে। তবুও এ ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি।

নাসিমুন আরা বলেন, উচ্চ আদালতেও নুসরাতের হত্যাকারীদের শাস্তি যেন বহাল থাকে, অপরাধীরা রেহাই না পায়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের জন্য কঠোরভাবে শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার।

আসামিরা যেভাবে নুসরাতকে হত্যা করেছে, এতে ১৬ জনই সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য বলেই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির। তিনি বলেন, হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলেও নিম্ন আদালতের রায়টি যেন বহাল থাকে, এ জন্য সচেতন থাকতে হবে। রায়ের পর আমাদের হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। আসামিরা উচ্চ আদালতে আসবে। আমাদের প্রতিটি জায়গা ও স্তর থেকে সচেতন থাকতে হবে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সহ-সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সব ধরনের হত্যার রায় যেন এভাবে হয়। যেহেতু এখানে আরও আপিলের প্রক্রিয়া বাকি আছে, সেখানেও যেন এভাবে দ্রুত রায় আসে- সেটিই আমরা আশা করি।

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, এ রায় তো ফ্যান্টাস্টিক। নারী নির্যাতন দুর্যোগের মুহূর্তে এ রায় দৃষ্টান্তমূলক।