• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১ মহররম ১৪৪২, ০৩ আশ্বিন ১৪২৭

নোয়াখালীতে গণধর্ষণ : গ্রেফতার সোহেলের স্বীকারোক্তি

নির্যাতনে মা অচেতন হলে শিশু মেয়েকেও ধর্ষণের জন্য খোঁজা হয়

মাস্টার মাইন্ড রুহুল আমিনসহ গ্রেফতার ৫

সংবাদ :
  • মনিরুজ্জামান চৌধুরী, নোয়াখালী

| ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ জানুয়ারী ২০১৯

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত সোহেল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্য রাতে বর্বরতার বর্ণনা দিয়েছে। এতে সেই রাতে সুবর্ণচরের বর্বরতার ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে এসেছে। সোহেল পুলিশকে বলেছে, তারা ৯ জন মিলে পালাক্রমে নির্যাতন করার পর ওই গৃহবধূ অচেতন হয়ে যায়। এরপর তারা ওই গৃহবধূর শিশু কন্যাকে ধর্ষণের জন্য খুঁজতে থাকে। কিন্তু শিশু কন্যা কৌশলে পালিয়ে গেলে তাকে না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মায়ের ওপর অচেতন অবস্থায় আবার নির্যাতন চালায়। অচেতন অবস্থায় তাকে বেধড়ক মারপিটও করে। তার ঘর ভাঙচুর করে। ওই গৃহবধূর শরীরে বর্বরতার ২২টি আলামত রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, অচেতন হওয়ার আগে দুর্বৃত্তদের পালাক্রমে নির্যাতনের সময় চিৎকার করলে তাদের উদ্ধারে কেউ এগিয়ে যায়নি। এমনকি খবর জানার পরও রহস্যজনক কারণে স্থানীয় থানা পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, ধানের শীষে ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী সুবর্ণচরের ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেলকে কুমিল্লা থেকে, মাস্টার মাইন্ড রুহুল আমিন মেম্বারকে সুধারাম থানা এলাকার একটি মৎস্য খামার থেকে ও বেছু ওরফে ইব্রাহিম খলিলকে সেনবাগের একটি ইটভাটা থেকে গ্রেফতার করেছে। এ নিয়ে গ্রেফতারকৃতদের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫-এ।

গত বুধবার রাত ৮টায় ডিবি অফিসের নোয়াখালী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যরাতে বর্বরতার বর্ণনা দিয়েছে। সে জানিয়েছে ভোটের দিন দুপুরে ওই গৃহবধূ ভোট দিতে আসলে তার সঙ্গে ধানের শীষে ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হয়। তার পর রাতে স্থানীয় আ’লীগ নেতা ভুলু মিয়া ওরফে ভুলু নেতার নির্দেশে সে নিজেসহ মো. হানিফ, স্বপন, চৌধুরী মিয়া, বেছু, বাছু প্রকাশ কুড়াল্যা বাশু, আবুল, মোশারফ, সালাহউদ্দিনসহ আরও ২-৩ জন সিরাজ মিয়ার বাড়িতে যান। সিরাজ মিয়ার স্ত্রী দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে তারা একযোগে ঘরে ঢুকে পড়ে এবং ওড়না ও মাফলার দিয়ে সিরাজ মিয়া ও তার ছেলেমেয়েকে বেঁধে ফেলে। ওই গৃহবধূকে ঘরের বাইরে নিয়ে নির্যাতন করে। এরপর মেয়েকে খুঁজতে থাকে। মেয়ে পালিয়ে গেলে তারা উত্তেজিত হয়ে আবার অচেতন গৃহবধূকে বেদম মারধর করে ও নির্যাতন করে। পরে তার ঘর ভাঙচুর করে।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি ফারুক আহম্মেদ গতকাল ঘটনারস্থল সুবর্ণচর উপজেলা চরজব্বর থানার মধ্য চরবাগ্যা পরিদর্শন করেন। এর পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ২নং ওয়ার্ডে ওই গৃহবধূকে দেখতে যান। তিনি হাসপাতালে তার বেডের কাছে পৌঁছে গৃহবধূর মুখে তার কাহিনি শোনেন।

ডিআইজি সাংবাদিকদের বলেন, সন্ত্রাসীরা কোন দলে পুলিশ তা দেখবে না। তিনি বলেন, পুলিশ ইতোমধ্যে কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। অন্য আসামিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করার জন্য পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ঘটনার ৩৫ ঘণ্টা পর ও চরজব্বর থানা পুলিশ কেন ঘটনাস্থলে যায়নি এ প্রসঙ্গে ডিআইজি বলেন, ঐ থানার ওসি বা কোন সদস্যের গাফিলতি আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখার জন্য অতিরিক্ত ডিআইজি ফয়েজ আহম্মেদকে নোয়াখালী রেখে গেছেন তিনি। ঐ ওসি বা কোন সদস্যদের কোন গাফিলতির প্রমাণ পেলে বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ জানান, ইতোমধ্যে ৫ আসামি রুহুল আমিন মেম্বার, সোহেল, স্বপন, বেছু, বাশুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিরা ডিবি অফিসে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানান।