• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১ মহররম ১৪৪২, ০৩ আশ্বিন ১৪২৭

নির্বাচন নিয়ে আমার কিছু বলার নেই : খালেদা

এভাবে ট্রায়াল চললে আসতে পারব না

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ জানুয়ারী ২০১৯

image

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘এগুলো নিয়ে আমার কিছু বলার নেই।’ গতকাল ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ-৯-এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলায় হাজিরা শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি একথা বলেন।

এর আগে কারাগারের ভেতরে যে মামলার কার্যক্রম চলছে সেই কক্ষের বিষয়ে আদালতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া। তিনি বিচারকের উদ্দেশে বলেন, এই আদালতে আমি আর আসব না। এখানে আমার আইনজীবীদের বসার জায়গা নাই। এভাবে যদি ট্রায়াল চলে তাহলে আমি আর আসতে পারব না। আমাকে যা সাজা দেয়ার দিয়ে দেন। এখানে ওপেন ট্রায়াল হচ্ছে না। আদালতে আনা হলে শুরুতেই খালেদা জিয়া বলেন, এখানে এতো লোকজন কেন? পুলিশ কমাতে বলেন। এতো পুলিশ থাকলে আমার আইনজীবীরা কীভাবে আসবে। জজ সাহেবের সামনে এতো পুলিশ কেমনে থাকে।

খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে। বিচারক এজলাসে আসেন ১২টা ১৫ মিনিটে। এরপরই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল শুনানি শুরু করেন। শুনানিতে দুদকের আইনজীবী আদালতকে বলেন, ‘এই মামলায় মওদুদ আহমেদের পক্ষে চার্জ শুনানি চলছে। শুনানি করা হোক।’ এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার শুরু থেকে চার্জ শুনানির জন্য আদালতকে বলেন। পরে বিচারক নিজেই বলেন, ‘যেহেতু এই মামলায় আগে আমি ছিলাম না। তাই প্রথম থেকে আমি চার্জ শুনানি শুনবো।’ এ সময় দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল ১২টা ২৫ মিনিট থেকে ১টা পর্যন্ত চার্জ শুনানি করেন।

পরে মামলার আসামি মওদুদ আহমেদ নিজেই তার চার্জ শুনানি শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষ থেকে কোন নোটিশ পাইনি মামলা পরিচালনার জন্য। কোন আলামতও পাইনি। আপনি আদেশ দেবেন, রাষ্ট্রপক্ষ যে ডকুমেন্ট সাবমিট করবে সেগুলো যেন আমাদের দেয়া হয়।’ শুনানির জন্য সময় চেয়ে তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম খালেদা জিয়া অসুস্থ, ওনার বসতে কষ্ট হচ্ছে। আজকের মতো শুনানি শেষ করা হোক এবং মামলার তারিখ দীর্ঘ করার জন্য আদালতকে বলেন তিনি। পরে বিচারক পরবর্তী চার্জ শুনানির জন্য আগামী ১৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। এরপর আদালতের কার্যক্রম শেষে খালেদা জিয়া তার আইনজীবী মওদুদ আহমেদ ও মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে প্রায় দশ মিনিট কথা বলেন। আদালতের কার্যক্রম চলার মাঝে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত হন এবং খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। এদিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মাহবুব উদ্দিন খোকন, জয়নাল আবেদীন, আবদুর রেজ্জাক খান ও এ জে এম মোহাম্মদ আলীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুদক। ২০০৮ সালের ৫ মে, খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় দুদক। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে ‘তুলে দেয়ার’ মাধ্যমে আসামিরা রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

এদিকে, গত ২২ নভেম্বর খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলার রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ঘুষ সংক্রান্ত বিষয়ে এফবিআই ও কানাডার পুলিশের প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।