• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৩০ মহররম ১৪৪২, ০২ আশ্বিন ১৪২৭

নিখোঁজ সাংবাদিক কাজল বেনাপোলে উদ্ধার

যশোর কারাগারে প্রেরণ

সংবাদ :
  • যশোর অফিস

| ঢাকা , সোমবার, ০৪ মে ২০২০

image

নিখোঁজ সাংবাদিক কাজলকে গতকাল উদ্ধারের পরে -সংবাদ

আলোচিত ফটোসাংবাদিক ও দৈনিক পক্ষকালের সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজল যশোরের বেনাপোল সীমান্ত থেকে উদ্ধার হয়েছেন। ৫৩ দিন তিনি নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার গভীর রাতে বেনাপোলের সাদীপুর সীমান্তের একটি মাঠ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার অভিযোগে ১১(সি) ধারায় মামলা ও ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে গতকাল বিকেলে তাকে যশোরের আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে যশোরের শার্শা আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বেনাপোল পোর্ট থানা সূত্র জানায়, শনিবার রাতে বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুরের একটি মাঠের মধ্য থেকে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে উদ্ধার করে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের রঘুনাথপুর বিজিবি ক্যাম্পের টহল দল। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা দিয়ে তাকে গভীর রাতে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করে বিজিবি।

রঘুনাথপুর বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার আশেক আলী জানান, রাতে বিজিবির টহল দলের সদস্যরা তাকে সাদিপুর সীমান্তের একটি মাঠের মধ্য থেকে উদ্ধার করে। অবৈধভাবে ভারত থেকে আসার সময় তাকে আটক দেখানো হয়। পরে তাকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ওসি মামুন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিজিবি একটি মামলা দিয়ে কাজলকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করে। সেখানে পোর্ট থানা পুলিশের ওসি মামুন খান ও নাভারন সার্কেলের এএসপি জুয়েল ইমরান তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। দুপুরে তাকে পোর্ট থানা পুলিশ হ্যান্ডকাপ পরিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে যশোরে নিয়ে আসে।

বেনাপোল থেকে এনে তাকে যশোর ডিএসবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছেন যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) তৌহিদুল ইসলাম।

তিনি জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের পরপরই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের মামলা ছাড়াও ঢাকায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বিকেল ৩টার দিকে যশোর ডিএসবি কার্যালয় থেকে আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয় ফটোসাংবাদিক ও দৈনিক পক্ষকালের সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজলকে। এ সময় তিনি মানসিকভাবে দৃঢ় ছিলেন। আদালত প্রাঙ্গণে তার ছেলে মনোরম পলক তাকে জড়িয়ে ধরেন। এ সময় কাজলের চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে। শফিকুল ইসলাম কাজল তার ছেলেকে বলেন, ‘ভয় পাসনে, আমি কোন অন্যায় করিনি। সত্যের জয় হবেই।’

আদালত সূত্র জানায়, যশোরের আমলী আদালতের (শার্শা) বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে বিজিবির দায়ের করা অবৈধ অনুপ্রবেশ মামলায় জামিন দেন। তবে যশোর কোতোয়ালি থানার ৫৪ ধারায় দায়ের করা অপর একটি মামলায় তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। কারাগারে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে জানিয়েছেন কাজলের আইনজীবী সুদীপ্ত ঘোষ।

কাজলের ছেলে মনোরম পলক বলেন, বাবাকে ফিরে পেয়েছি এতে অনেক খুশি। বাবার জন্য দেশবাসির কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে পিতার দ্রুত জামিনের দাবিও করেছেন তিনি।

যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার ওয়েস্টিন হোটেলকেন্দ্রিক কারবারে জড়িতদের নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে তাতে আসামির তালিকায় শফিকুল ইসলাম কাজলের নামও রয়েছে। মাগুরা-১ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর গত ৯ মার্চ শেরেবাংলা নগর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ওই মামলাটি করেন।

সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল গত ১০ মার্চ সন্ধ্যায় দৈনিক পক্ষকাল অফিস থেকে বের হন। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে পরদিন ১১ মার্চ চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসী নয়ন। পরে ১৮ মার্চ রাতে কাজলকে অপহরণ করা হয়েছে অভিযোগ এনে চকবাজার থানায় মামলা করেন তার ছেলে মনোরম পলক।