• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৯ রমজান ১৪৩৯

নাশকতার মামলায় খালেদা শ্যোন অ্যারেস্ট

কর্মীদের মনোবল ভাঙতে এই চেষ্টা : বিএনপি

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক ও প্রতিনিধি, কুমিল্লা

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

image

কুমিল্লা আদালতে দায়ের করা নাশকতার মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শ্যোন অ্যারেস্ট করা হয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি একটি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর গতকাল খালেদা জিয়াকে দ্বিতীয় বারের মতো গ্রেফতার দেখানো হলো। তবে বিএনপির অভিযোগ, তাদের দলের নেতাদের মনোবল ভাঙার জন্য দলের চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে।

কুমিল্লার যাত্রীবাহী নৈশকোচে দুর্বৃত্তদের নিক্ষেপ করা পেট্রলবোমায় ৮ যাত্রী পুড়িয়ে হত্যা মামলায় গত ২ জানুয়ারি কুমিল্লার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৫নং আমলি আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক জয়নব বেগম, খালেদা জিয়াসহ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। কুমিল্লা জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান লিটন সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ডাকা হরতাল-অবরোধ চলাকালে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী নৈশকোচ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৌঁছুলে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। বাসে আগুন ধরে ৮ জন যাত্রী পুড়ে মারা যায়। নিহতরা হলেনÑ যশোরের নুরুজ্জামান পপলু, তার মেয়ে মাইশা নাঈমা তাসনিন, কক্সবাজারের আবু তাহের ও আবু ইউসুফ, নরসিংদীর আসমা আক্তার ও তার ছেলে শান্ত, শরিয়তপুরের ওয়াসিম। এ ঘটনায় ২টি মামলা হয়। এর মধ্যে চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান হাওলাদার বাদী হলে দ-বিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা তদন্ত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই মো. ইব্রাহিম। অন্যটি হলো বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা মামলা। হাইকোর্টের আদেশে এটি এখন স্থগিত।

২টি মামলায় খালেদা জিয়া হুকুমের আসামি। গত ২ জানুয়ারি কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ ২টি মামলায় খালেদা জিয়াসহ বিএনপি-জামায়াতের ৭৮ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

কুমিল্লার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান লিটন আরও বলেন, ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার হালদারপাড়া এলাকায় কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেয়ার ঘটনায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে এই মামলা করা হয়েছিল। ওই দিন রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি মামলা হয়। জেলা ও দায়রা জজ স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলা বিচারাধীন। তবে ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর এই মামলা হাইকোর্ট থেকে স্থগিত করা হয়। এ মামলাটিও বর্তমানে স্থগিত।

কুমিল্লা জেলা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান লিটন সাংবাদিকদের জানান, এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ওই সময়ে আদালত হতে গ্রেফতারি পরোয়ানা ঢাকার গুলশান থানায় প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে তিনি (খালেদা জিয়া) একটি মামলায় আদালতের রায়ে কারাগারে আছেন। তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জেনেছি। ২৫ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার আমলি আদালতে (চৌদ্দগ্রাম) ওই মামলার বিচারকার্যের দিন ধার্য করা হয়েছে।

দুই বছর এক মাস তিন দিন পর ২০১৭ সালের ৬ মার্চ কুমিল্লার আদালতে বাসে পেট্রলবোমা হামলায় ৮ যাত্রী হত্যার দুই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও সালাউদ্দিন আহমেদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ ও বিএনপির উপদেষ্টা সাবেক সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরী, চৌদ্দগ্রামের জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির সাহাবউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. মিজানুর রহমান, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির শাহজাহান, চিওড়া ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির ও ক্যাডার মেজবাহ উদ্দিন ওরফে নয়ন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদাসহ ৭৮ জনের নামে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। খালেদা জিয়া মামলার ৫১ নম্বর আসামি।

এদিকে শাহবাগ ও তেজগাঁও থানার দুই মামলায়ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জারি হওয়া ‘হাজিরা পরোয়ানা’ কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পরোয়ানা পৌঁছানো হয়েছে কারাগারে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কারা অধিদফতরের ঢাকা বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন্স) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০০৭ ও ২০০৮ সালে রাজধানীর শাহবাগ ও তেজগাঁও থানার দুই মামলার ‘হাজিরা পরোয়ানা’ আমাদের হাতে পৌঁছেছে। এসব মামলার ধার্য তারিখে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার জন্য আদালতের পক্ষ থেকে এসব পরোয়ানা জারি করা হয়।’

খালেদা জিয়াকে আরও একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিএনপির মনোবলকে ভাঙতে চায় সরকার। তারা চায় খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে। কিন্তু তাদের এই চক্রান্ত কোন দিন বাস্তবায়ন হবে না। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন শীঘ্রই এসব মিথ্যা মামলায় মুক্তি পাবেন।