• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১ মহররম ১৪৪২, ০৩ আশ্বিন ১৪২৭

টেংরাটিলা গ্যাস বিস্ফোরণ

নাইকোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জয়

এখন ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায়

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , সোমবার, ০৪ মে ২০২০

সুনামগঞ্জের ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের জন্য কানাডার কোম্পানি নাইকোকে দায়ী করে রায় দিয়েছে বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে (ইকসিড)। এতে নাইকোর কাছে বাংলাদেশ এক বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পাবে। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপুটেড (ইকসিড) স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি নির্ণয় করে বাংলাদেশকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে বলেছে। সব মিলিয়ে আগামী বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু গতকাল অনলাইন ভিডিও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান। ভিডিও সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখেন জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব আনিসুর রহমান, মামলার আইনজীবী মইন গনি। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এবিএম আবদুল ফাত্তাহ, বাপেক্স ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা ভিডিও সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, নাইকোর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় তেল গ্যাস কোম্পানি বাপেক্সের সঙ্গে চুক্তি করতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ঘুষ নিয়েছিলেন। এ ঘুষ প্রক্রিয়ার সঙ্গে তারেক রহমান, তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ গিয়াস উদ্দিন আল মামুন যুক্ত ছিলেন। বাপেক্সের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদায় জিয়ার সম্পর্ক রয়েছে। তবে এটি ফৌজদারি অপরাধ হওয়ায় ইকসিডের এখতিয়ার নেই এ বিষয়ে কোন আদেশ দেয়ার। দেশের আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলা চলবে। দেশের আদালতে নাইকো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিচার হবে বলেও তিনি জানান।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, ২০০৩ সালে নাইকো-বাপেক্স যৌথ উদ্যোগে একটি চুক্তির মাধ্যমে ছাতকের টেংরাটিলায় গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের দায়িত্ব দেয়া হয়। কূপ খনন শুরু হলে গ্যাসক্ষেত্রটিতে মারাত্মক বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের ফলে গ্যাসক্ষেত্র এবং তার আশপাশের এলাকায় পরিবেশ ও জনজীবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি। দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ঘটে ওই বছরের ২৪ জুন। তিনি বলেন, নাইকো ২০১০ সালে ছাতক গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণের ঘটনায় তারা দায়ী নয় মর্মে ঘোষণা চেয়ে ইকসিডে একটি সালিসি মোকদ্দমা দায়ের করে। ২০১৬ সালে বাপেক্স আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করেন। এতে নাইকোর কাছে বাপেক্স ১১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বাংলাদেশ সরকার ৮৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে ইকসিডে নালিশ করা হয়। ইকসিড ট্রাইব্যুনাল ২০০৫ সনের বিস্ফোরণের জন্য যৌথ উদ্যোগ চুক্তির অধীন শর্তসমূহ ভঙ্গের জন্য নাইকোকে দায়ী করে তাদের অভিযুক্ত করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, নাইকো দক্ষতার সঙ্গে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে এবং পেট্রোলিয়াম শিল্পের আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে বলে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছে। নাইকোকে অভিযুক্ত করে উক্ত ঘটনা থেকে সরাসরি উদ্ভূত যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতির জন্য বাপেক্সকে ক্ষতিপূরণ দিতে ট্রাইব্যুনাল আদেশ দিয়েছে। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় ছাতক গ্যাসক্ষেত্র থেকে নির্গত গ্যাসের জন্যও বাপেক্সকে ক্ষতিপূরণ দিতে নাইকোর প্রতি ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ প্রদান করেছে। পরিবেশসহ অন্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আদালতে উত্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে ইকসিড। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি আদালত ইকসিড রায় ঘোষণা করে। এটি বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে গত মার্চের প্রথম দিকে। করোনা শুরু হওয়ার কারণে তখন এটি বলা হয়নি।