• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০

নদীতে বিলীন বসতবাড়ি-স্কুল

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

image

পদ্মার ভাঙনে বিলীন হওয়া শিবচরের বন্দরখোলা ইউনিয়নের ৭২নং নারিকেলবাড়ির চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভাঙনের পূর্ব মুহূর্তের ছবি -সংবাদ

রংপুর ও শিবচরে গতকাল পদ্মা ও তিস্তার ভাঙনে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও ভবনসহ অনেক স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পদ্মার ভাঙনে শিবচরে গত ৩-৪ দিনে শতাধিক ঘরবাড়িসহ গত ৩ সপ্তাহে ৪টি বিদ্যালয় ভবন ও ৬ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রংপুর জেলা বার্তা পরিবেশক জানান, উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে তিন্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলের গ্রামগুলোর বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় কয়েকশ বাড়ি হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে নদী ভাঙনও শুরু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২০টি বাড়িঘর ও ফসলী জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে ।

নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত গৃহহারা পরিবারগুলো অনত্র্য আশ্রয় নিয়েছে। আতঙ্কে অনেকেই বাড়িঘর ভেঙে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে বলে লক্ষ্মীটারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লা আল হাদী জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন পর্যন্ত তেমন কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, সোমবার তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

তবে গতকাল গঙ্গচড়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিস্তা নদীতে এখনও প্রবল স্রোত রয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে কয়েকশ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী, লক্ষ্মীটারি, আলমবিদিতর ও কচুয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলের কয়েকশ বাড়ি প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী সাহেব আলী জানান, তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শংকরদাহ এলাকায় নদী ভাঙন রোধে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, মাদারীপুরের শিবচরে গত ৩-৪ দিনে শতাধিক ঘরবাড়িসহ গত ৩ সপ্তাহে ৪টি বিদ্যালয় ভবন, ৬ শতাধিক ঘরবাড়িসহ চরজানাজাত ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক, খাসেরহাটের অর্ধশত দোকান পদ্মা নদীতে বিলীন হয়। চরাঞ্চলের চরজানাজাত ইউনিয়নের মাধ্যমিক স্কুল চরজানাজাত ইলিয়াছ আহম্মেদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, আ. মালেক তালুকদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মজিদ সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্দরখোলার ৭২নং নারিকেল বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়। ভাঙনের তীব্রতায় অনেক স্কুল-ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়ারও সময় পায়নি কর্তৃপক্ষ। গত বছরও একটি মাদ্রাসা ও ২টি প্রাথমিক স্কুল ভবন নদীতে বিলীন হয়।

চলতি বছর এ পর্যন্ত পদ্মা নদীর কড়াল গ্রাসে ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হাটবাজারসহ অন্তত ৬শ ঘরবাড়ির সাথে সাথে গিলে নিয়েছে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবন। এসব স্কুল সরিয়ে নেয়া হয়েছে অন্যত্র। চলতি বছর ৪টি বিদ্যালয়সহ গত ১০ বছরে ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ শত শত পরিবার বাস্তুহারা হয়েছে।