• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১ মহররম ১৪৪২, ০৩ আশ্বিন ১৪২৭

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ সোমবার

চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন শেখ হাসিনা, আসছে নতুন মুখ, মন্ত্রিসভায় স্থান চায় জাতীয় পার্টি

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ জানুয়ারী ২০১৯

image

গতকাল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এই পরিপ্রেক্ষিতে আগামী সোমবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেয়ার এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ তিনিই পড়াবেন। গতকাল রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এবার সরকার গঠনের মাধ্যমে চতুর্থবারের মতো (টানা তৃতীয় মেয়াদে) প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রমতে, এবার চমক হিসেবে বেশকিছু নতুন মুখ আসছে মন্ত্রিসভায়। এদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের (মন্ত্রিত্ব নিয়ে) অংশীদার হিসেবে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাতীয় পার্টি (জাপা)।

সংবিধানের চতুর্থ ভাগের (নির্বাহী বিভাগ) ২য় পরিচ্ছেদের (প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা) ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় বলা আছে, ‘যে সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন।’ দফা (১) এ বলা আছে, ‘একজন প্রধানমন্ত্রী থাকিবেন এবং প্রধানমন্ত্রী যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ অন্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রী থাকিবেন।’ দফা (২) এ বলা আছে, ‘প্রধানমন্ত্রী ও অন্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদিগকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করিবেন।’ সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রীদের সংখ্যার অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ-সদস্যদের মধ্য থেকে নিযুক্ত হবেন এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে মনোনীত হতে পারবেন; যা টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছিল ১২ জানুয়ারি। সংসদের অধিবেশন বসেছিল ২৯ জানুয়ারি। তখন শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করে ৪৮ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছিল। পরে কয়েক দফা রদবদল এনে শেষপর্যন্ত মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়ায় ৫২ সদস্যের।

এবারের মন্ত্রিসভা সম্পর্কে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের জেষ্ঠ্য অনেক নেতাই কথা বললেও সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য দেননি তারা। মোটামুটি সবার একই কথা, কে মন্ত্রী হবেন, কে বাদ পড়বেন, কী চমক থাকবে, এসব আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখতিয়ার। তবে নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন নিয়ে সারাদেশে চলছে আলোচনা, গণমাধ্যমগুলোও নানা চমকপ্রদ খবর প্রকাশ করছে। এছাড়া, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বিশ্বের দীর্ঘমেয়াদি সরকার প্রধানের তালিকায়ও অন্তর্ভুক্ত হওয়া, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী নারী সরকার প্রধানের স্থান অর্জন এসব খবরও রয়েছে গণমাধ্যমে।

এদিকে টানা তৃতীয়বারে মতো আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার শুরুতে গতকাল সারাদিন ছিল ঘটনাবহুল। বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ একাদশ জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যদের আস্থাভাজন হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়ের পর গতকাল সকালে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে বিকেলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকেলে বঙ্গভবনে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু উপস্থিত ছিলেন। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শেখ হাসিনার এটাই প্রথম সাক্ষাৎ। এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সর্বশেষ বঙ্গভবনে গিয়েছিলেন তিনি।

এর আগে দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করে একাদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগ। এর ফলে তিনি চতুর্থবারের (টানা তৃতীয়বার) মতো সংসদ নেতা নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদে শেখ হাসিনা প্রথম সংসদ নেতা নির্বাচিত হন। এর পর ২০০৯ সালে নবম সংসদে, ২০১৪ সালে দশম সংসদে এবং এবার ২০১৯ সালে টানা তৃতীয় মেয়াদে সংসদ নেতা নির্বাচিত হলেন শেখ হাসিনা। সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সাংসদদের শপথ অনুষ্ঠানের পর আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংসদীয় দলের সভা শেষে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা, যিনি একজন জননন্দিত নেতা এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বের একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, তিনি চতুর্থবারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। কেননা, আমরা সর্বসম্মতিক্রমে তাকে আমাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করেছি। তোফায়েল আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বৈঠকে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করলে দলের জ্যেষ্ঠ সদস্য আমির হোসেন আমু তা সমর্থন করেন। সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচনের পরে সব সংসদ সদস্য তুমুল করতালির মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।

এর আগে সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত ২৫৫ জন সংসদ সদস্য দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শপথ নেন। শপথ বাক্য পাঠ করান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এর আগে সংবিধান এবং সংসদের কার্যপ্রণালীবিধি মোতাবেক রংপুর-৬ আসন থেকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নিজেই (বর্তমান স্পিকার হিসেবে) নিজের শপথ নেন। কিশোরগঞ্জ থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও দলের সভাপতিম-লীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকায় গতকাল শপথ নিতে পারেননি। তবে তিনি স্পিকারকে চিঠি দিয়ে সময় চেয়েছেন।

এদিকে গতবারের মতো এবারও নানা নাটকীয়তা করে শপথ নেননি জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তবে তার স্ত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাপার অপর ২১ জন সংসদ সদস্য গতকাল শপথ নিয়েছেন। জাপার কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, অসুস্থতার কারণে পার্টি চেয়ারম্যান আসতে পারেননি। তিনি সম্ভব হলে দুই-তিন দিনের মধ্যে অথবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শপথ নেবেন। জাপার মহাসচিব সাংবাদিকদের বলেন, সবাই সরকারে থাকতে চায়, বিরোধী দল হিসেবে নয়। জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মহাজোট সরকারের অংশীদার হিসেবে থাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় দলের সংসদীয় নেতা নির্বাচনের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

একাদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত ২৮৯ জন সংসদ সদস্যকে গতকাল শপথ পাঠ করান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জাতীয় সংসদের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সদস্যরা ছাড়াও শপথ নেন ওয়ার্কার্স পার্টির ৩ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) ২ জন, বিকল্পধারার ২ জন, তরিকত ফেডারেশনের ১ জন, জাতীয় পার্টির (জেপি-মঞ্জু) ১ জন এবং স্বতন্ত্র ৩ জন সংসদ সদস্য। শপথগ্রহণ শেষে সবাই শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। তবে গতকাল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি থেকে নির্বাচিত ৭ জন সংসদ সদস্যের কেউ শপথ নেননি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে জয় পায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। জোটগতভাবে (মহাজোট) তারা পায় ২৮৮ আসন। মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি ২২, ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি, জাসদ দুইটি, বিকল্পধারা দুইটি, তরিকত ফেডারেশন একটি ও জাতীয় পার্টি (জেপি-মঞ্জু) একটি আসনে জয়ী হয়। মহাজোটের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা সব মিলিয়ে পায় সাতটি আসন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত মঙ্গলবার একাদশ জাতীয় সংসদের ২৯৮টি আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নাম এবং পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা সম্বলিত গেজেট প্রকাশ করে। এর আগে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে গাইবান্ধা-৩ আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। নির্বাচনের দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের তিনটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত হওয়ায় ওই আসনের ফল ঘোষণা করা হয়নি।