• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৪ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

শ্রমিক লীগের সম্মেলন কাল

নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশায় কর্মীরা

সংবাদ :
  • ফয়েজ আহমেদ তুষার

| ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ নভেম্বর ২০১৯

জাতীয় শ্রমিক লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে শেষ মুহূর্তের দৌড়ঝাঁপ করছেন এক ডজনের বেশি নেতা। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র বলছে, এবার সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন হবে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি সম্পন্ন, সক্রিয়, দক্ষ ও কর্মীবান্ধব মুখ নতুন নেতৃত্বে আসবেন। সংগঠনটির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের সব স্তরের কর্মীরাও সম্মেলনে নতুন মুখের চমক দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। কাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক লীগের ‘জাতীয় সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। এরপর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল (দ্বিতীয়) অধিবেশনে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে।

শ্রমজীবী মানুষের দাবি আদায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের ১২ অক্টোবর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় শ্রমিক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে এটি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে থাকলেও বর্তমানে ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শ্রমিক লীগের ৩৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি দুই বছর মেয়াদে নির্বাচিত হয়। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই সংগঠনের সর্বশেষ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক নেতা শুক্কুর মাহামুদ সভাপতি, ফজলুল হক মন্টু কার্যকরী সভাপতি এবং জনতা ব্যাংক ট্রেড ইউনিয়নের নেতা মো. সিরাজুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক হন।

শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান কমিটি সাত বছরেরও বেশি সময় পার করলেও ৬৪টি জেলা ইউনিটের মধ্যে কাগজে-কলমে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জেলা কমিটি গঠন করেছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক জেলায় সম্মেলন না করেই কমিটি দেয়া হয়ছে। সূত্র বলছে, সভাপতি পদ পেতে বর্তমান সভাপতি, কার্যকরী সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সহসভাপতিসহ অন্তত ৮ প্রার্থী তৎপর রয়েছেন। এ ছাড়া, সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে তিনজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, প্রচার সম্পাদকসহ অন্তত ৯ জন মাঠে আছেন। প্রার্থিতা ঘোষণার কথা না থাকলেও অনেকে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করছেন কিংবা ধরনা দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের কাছে। তবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতার অপব্যহার, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, অনিয়ম, দুর্নীতির সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যারা বিভিন্ন কারণে বিতর্কিত, তারা নতুন কমিটিতে আসতে পারবেন না।

বর্তমান সভাপতি সাধারণ ও সাধারণ সম্পাদক দু’জনই এবার সভাপতি পদ প্রার্থী হলেও তাদের বিদায় নিশ্চিত। সভাপতি পদে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন- কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু, সহসভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, আমিনুল হক ফারুক, মোল্লা আবুল কালাম আজাদসহ আরও কয়েক নেতা। শ্রমিক লীগের বর্তমান কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু ইতোপূর্বে একাধিকবার শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং পাবনা জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ছিলেন। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে ট্রেড ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ফজলুল হক মন্টু ১৯৬৯-৭০ সালে পাবলা জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বে¡ ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি পাবনা জেলা মুজিব বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। শ্রমিক লীগের বর্তমান সহসভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ ২০০৩ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৯৪ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৮৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি ১৯৯৬ থেকে এখন পর্যন্ত রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। শ্রমিক লীগের বর্তমান সহসভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম চৌধুরী ইতোপূর্বে জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সহসভাপতি আমিনুল হক ফারুক ইতোপূর্বে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-১, দুই মেয়াদে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং একবার সম্পাদকম-লীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সোনালী ব্যাংক সিবিএর তিন মেয়াদে সভাপতি এবং ব্যাংক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন- বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান সিরাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির, সফর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল আলম মিলকি, তোফায়েল আহমেদ, প্রচার সম্পাদক কেএম আজম খসরু, দফতর সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক সুলতান আহম্মেদ, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, শিল্প ও সাহিত্য সম্পাদক আলাউদ্দিন মিয়া, শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ সম্পাদক কাওছার আহমেদ পলাশ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোতালেব হাওলাদার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন খান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব মোল্লা।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে শ্রমিক লীগে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরব নয়। বরং স্থানীয় অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠেছে এই সংগঠন। আওয়ামী লীগের টানা তিন মেয়াদে শ্রমিক লীগ একাধিকবার নেতিবাচক সংবাদের শিরোনাম হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও নগর নেতাকর্মীরা বলছেন, সম্প্রতি সহযোগী সংগঠনগুলোর পরিচয়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকা-ে যুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযানে আতঙ্কিত শ্রমিক লীগের একটি শ্রেণী। নেতৃত্বের সর্বস্তরে পরিবর্তন ও রদবদলের মাধ্যমে তুলনামূলক স্বচ্ছ, কর্মীবান্ধব ও জনপ্রিয়দের এবারের কমিটিতে স্থান হবে, এটাই কর্মীদের প্রত্যাশা।