• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১

ফাইনালে ইংল্যান্ড

নতুন চ্যাম্পিয়ন পাচ্ছে বিশ্বকাপ

সংবাদ :
  • বিশেষ প্রতিনিধি

| ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯

image

ফাইনালে ওঠার আনন্দে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক মরগান ও রুট

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে হারিয়ে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ফাইনালে উঠল। ১৪ জুলাই লর্ডসে শিরোপা লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়া বিদায়ের মধ্য দিয়ে ক্রিকেট বিশ^কাপ নতুন চ্যাম্পিয়ন পাচ্ছে। ২২৪ রান বেশ সাবলীলভাবে তাড়া করেছে ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানদের ওপর সেভাবে চড়াও হতে পারেননি কখনও। এই এজবাস্টনেই ১৯৯৯ সালে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১ রানে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। দুই দশক পর বিশ^কাপের সেমিফাইনালে একই ভেন্যুতে এবার হারের তেতো স্বাদ পেল অস্ট্রেলিয়া। এর আগে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে তারা আটকে দেয় ২২৩ রানে। বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংলিশ পেস এবং স্পিনের যুগলবন্দীতে রীতিমত হাঁসফাঁস করে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া। ব্যাটিং ডিপার্টমেন্টের আসা-যাওয়ার মিছিলের বিপরীতে ১১৯ বলে ৮৫ রানের ইনিংস খেলে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ, সেই সঙ্গে আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন কেন তিনি বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অন্যতম। অবশ্য ইংলিশ পেসার ক্রিস ওকস ও স্পিনার আদিল রশিদ তিনটি করে উইকেটের পতন ঘটিয়ে এক ওভার বাকি থাকতেই থামিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়াকে।

শুরুতেই জোফরা আর্চারের করা দ্বিতীয় ওভারে মাত্র ৪ রান তুলেই হোঁচট খায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই লেগ বিফোর উইকেটের শিকার হন অ্যারন ফিঞ্চ (০)। রিভিউ নিয়েও ক্রিজে থাকতে পারেননি অজি অধিনায়ক। এরপর ওকসের শিকার হন ডেভিড ওয়ার্নার। জনি বেয়ারস্টোকে ক্যাচ দিয়ে ১১ বলে ৯ রান করে আউট হন তিনি। মাত্র ১০ রানে টপ অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া অজিদের আরও বেকায়দায় ফেলে আউট হন পিটার হ্যান্ডসকম্ব (০)। তার স্ট্যাম্প উড়িয়ে দেন ওকস। দলীয় ১৪ রানে ৩ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায় স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারির প্রতিরোধে। স্টিভেন স্মিথের সঙ্গে ১০৩ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা ক্যারিকে আদিল রশিদ ফেরালে আবারও বিপদে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ক্যারে ৭০ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৪৬ রান করে জেমস ভিন্সের হাতে ধরা পড়েন। ১১৭ রানে ক্যারি ফেরার পর স্কোরবোর্ডে আর মাত্র এক রান যোগ হতেই রানের খাতা খোলার আগে ফেরেন মার্কাস স্টয়নিস (০)। তাকে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে জড়ান আদিল রশিদ।

স্টিভেন স্মিথের সঙ্গী হয়ে হার্ডহিটার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও (২২) সুবিধা করতে পারেননি। শুরুটা মন্দ ছিল না তার। বিপর্যয়ের মাঝেও বাউন্ডারি আদায়ের চেষ্টায় ছিলেন ম্যাক্সওয়েল। জোফরা আর্চারের আচমকা স্লোয়ার ঠিক বুঝে উঠতে না পেরে এউইন মরগানের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেছেন তিনি।

দলের রান ১৫৭ থেকে ১৬৬ তে পৌঁছতেই সপ্তম উইকেট হিসেবে সাজঘরের পথ ধরেন প্যাট কামিন্স (৬)। আদিল রশীদের তৃতীয় উইকেট হিসেবে জো রুটের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।

সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে অবিচল থাকা স্টিভেন স্মিথের প্রতিরোধ ভাঙে রান আউটে। দলীয় ২১৭ রানে স্মিথ ফেরার পর একই স্কোরে ওকসের বলে খোচা মেরে উইকেটের পেছনে বাটলারের হাতে ধরা পড়ে প্যাট কামিন্স (২৯) ফিরে যান। বেহেরেনডর্ফের (১) স্ট্যাম্পে মার্ক উডের বল আঘাত করলে এক ওভার বাকি থাকতেই ২২৩ রানে অল আউট হয় অজিরা। নাথান লায়ন অপরাজিত থাকেন ৫ রানে।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কখনোই আগে হারেনি অস্ট্রেলিয়া। এবার সেই রেকর্ড অক্ষুণœ রাখার খানিকটা সুযোগ এনে দিয়েছে স্মিথের ইনিংসটিই। তবে ইংলিশরা জানে, সুযোগটা তাদেরই বেশি। একটু ঠা-া মাথায় ব্যাটিং করলেই সামনে লর্ডসের ফাইনাল!

সংক্ষিপ্ত স্কোর : অস্ট্রেলিয়া ৪৯ ওভারে ২২৩ (ওয়ার্নার ৯, ফিঞ্চ ০, স্মিথ ৮৫, হ্যান্ডসকম ৪, কেয়ারি ৪৬, স্টয়নিস ০, ম্যাক্সওয়েল ২২, কামিন্স ৬, স্টার্ক ২৯, বেহরেনডর্ফ ১, লিয় ৫*; ওকস ৮-০-২০-৩, আর্চার ১০-০-৩২-২, স্টোকস ৪-০-২২-০, উড ৯-০-৪৫-১, প্লাঙ্কেট ৮-০-৪৪-০, রশিদ ১০-০-৫৪-৩)।